
8th Pay Commission: অষ্টম বেতন কমিশন সম্প্রতি ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে তাদের বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এখন কমিশন ২২ অক্টোবর থেকে মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শমূলক সভার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে কমিশন মূলত কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন, ভাতা, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং পেনশনের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো পর্যালোচনা করার ওপর মনোযোগ দিচ্ছে।
অষ্টম বেতন কমিশনের বিবেচনার অধীনে থাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। পূর্ববর্তী বেতন কমিশনগুলোর ক্ষেত্রে, ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সময় এই গুণকটি (multiplier) ছিল ১.৮৬ এবং সপ্তম বেতন কমিশনের সময় ছিল ২.৫৭। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক, কারণ বিদ্যমান মূল বেতন (basic salary) থেকে সংশোধিত মূল বেতন (revised basic pay) নির্ধারণের জন্য এটি ব্যবহৃত হয়।
সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত অষ্টম বেতন কমিশন, তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করার আগে বর্তমানে কর্মচারী ইউনিয়ন, পেনশনভোগী সংগঠন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে। তিন সদস্যের এই প্যানেলটিকে তাদের গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে—অর্থাৎ ৩ নভেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে—চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সেই হিসেবে, প্রতিবেদনটি জমা দেওয়ার সম্ভাব্য সময়কাল ধরা যেতে পারে ২০২৭ সালের মে-জুন মাস নাগাদ।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হলো একটি গুণক, যা নতুন বেতন কমিশনের আওতায় সংশোধিত মূল বেতন নির্ধারণের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর সূত্রটি হলো:
বিদ্যমান মূল বেতন × ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর = সম্ভাব্য সংশোধিত মূল বেতন
সপ্তম বেতন কমিশনের সময়, বিদ্যমান মূল বেতনের ওপর ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করা হয়েছিল। উদাহরণস্বরূপ, এর ফলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৭,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮,০০০ টাকা হয়েছিল (হিসাবটি ১৮,০০০ টাকায় পূর্ণসংখ্যায় উন্নীত করা হয়েছিল)।
অষ্টম বেতন কমিশনের জন্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কত হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত বেতন কাঠামোটি কমিশনের সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ও গ্রহণের ওপর নির্ভর করবে, যা আবার আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মতো বিষয়গুলোর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।
বিভিন্ন কর্মচারী ও পেনশনভোগী সংগঠন অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে ভিন্ন ভিন্ন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের প্রস্তাব দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের সম্মুখীন হওয়া চ্যালেঞ্জগুলোর কথা যথাযথভাবে বিবেচনা করে এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোর লক্ষ্য হলো—কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন এমনভাবে বৃদ্ধি করা, যাতে তাঁরা ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে পারেন এবং দৈনন্দিন খরচ আরও ভালোভাবে নির্বাহ করতে সক্ষম হন।
উদাহরণস্বরূপ, ‘ভারতীয় প্রতিরক্ষা মজদুর সংঘ’ (BPMS) ৪.০ গুণক (ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর) এবং ৭২,০০০ টাকা ন্যূনতম মূল বেতনের দাবি জানিয়েছে। ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি’ (NC-JCM) ৩.৮৩৩ গুণক প্রস্তাব করেছে, যার ভিত্তিতে ন্যূনতম মূল বেতন দাঁড়ায় ৬৯,০০০ টাকা। অন্যদিকে, ‘মহারাষ্ট্র ওল্ড পেনশন অর্গানাইজেশন’ ৩.৮ গুণক এবং ৬৫,০০০ টাকা ন্যূনতম মূল বেতনের দাবি জানিয়েছে। এটি মনে রাখা জরুরি যে, এগুলো কেবল প্রস্তাব; বর্তমানে অনুমোদিত কোনো বেতন সংশোধন নয়।
এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে, অষ্টম বেতন কমিশনের প্যানেল যদি এই গুণকগুলো সুপারিশ করে এবং কেন্দ্রীয় সরকার শেষ পর্যন্ত তা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে, তবে কর্মরত কর্মচারীদের বেতন কীভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে, তা আমরা হিসাব করে দেখতে পারি।
নিচের সারণিতে বর্তমান সপ্তম বেতন কমিশনের বেতন কাঠামোর (পে ম্যাট্রিক্স) কয়েকটি নির্দিষ্ট স্তরের জন্য, প্রস্তাবিত তিনটি গুণক ব্যবহার করে সংশোধিত মূল বেতনের একটি প্রাক্কলন দেওয়া হলো। পে ম্যাট্রিক্স লেভেল
বিদ্যমান মূল বেতন (বেসিক পে) / ৪.০ গুণ মাল্টিপ্লায়ার (অনুমানভিত্তিক) অনুযায়ী / ৩.৮৩৩ গুণ মাল্টিপ্লায়ার (অনুমানভিত্তিক) অনুযায়ী / ৩.৮০ গুণ মাল্টিপ্লায়ার (অনুমানভিত্তিক) অনুযায়ী
লেভেল ১- ১৮,০০০ টাকা / ৭২,০০০ টাকা / ৬৮,৯৯৪ টাকা /৬৮,৪০০ টাকা
লেভেল ২- ১৯,৯০০ টাকা / ৭৯,৬০০ টাকা / ৭৬,২৭৭ টাকা / ৭৫,৬২০ টাকা
লেভেল ৩- ২১,৭০০ টাকা / ৮৬,৮০০ টাকা / ৮৩,১৭৬ টাকা / ৮২,৪৬০ টাকা
লেভেল ৪- ২৫,৫০০ টাকা / ১,০২,০০০ টাকা / ৯৭,৭৪২ টাকা / ৯৬,৯০০ টাকা
লেভেল ৫- ২৯,২০০ টাকা / ১,১৬,৮০০ টাকা / ১,১১,৯২৪ টাকা / ১,১০,৯৬০ টাকা
লেভেল ৬- ৩৫,৪০০ টাকা / ১,৪১,৬০০ টাকা / ১,৩৫,৬৮৮ টাকা / ১,৩৪,৫২০ টাকা
লেভেল ৭- ৪৪,৯০০ টাকা / ১,৭৯,৬০০ টাকা / ১,৭২,১০২ টাকা/ ১,৭০,৬২০ টাকা
লেভেল ১০- ৫৬,১০০ টাকা/ ২,২৪,৪০০ টাকা / ২,১৫,০৩১ টাকা / ২,১৩,১৮০ টাকা
লেভেল ১৩- ১,২৩,১০০ টাকা / ৪,৯২,৪০০ টাকা / ৪,৭১,৮৪২ টাকা / ৪,৬৭,৭৮০ টাকা
লেভেল ১৮- ২,৫০,০০০ টাকা / ১০,০০,০০০ টাকা ৯,৫৮,২৫০ টাকা / ৯,৫০,০০০ টাকা
উৎস: সপ্তম বেতন কমিশনের বিদ্যমান মূল বেতনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনুমানভিত্তিক ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (fitment factors) গুণ করে এই হিসাব করা হয়েছে। সংখ্যাগুলো নিকটতম রুপিতে পূর্ণসংখ্যায় (rounded) দেখানো হয়েছে। সুতরাং, এই পরিকল্পনাগুলো কেবল সংশোধিত মূল বেতনের (basic pay) ইঙ্গিত দেয়; এগুলো চূড়ান্ত মাসিক বেতন বা হাতে পাওয়া বেতনের (take-home pay) পরিমাণ নয়। এটি মনে রাখা জরুরি যে, প্রকৃত ফলাফল নির্ভর করবে অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ, বিদ্যমান মহার্ঘ ভাতা (DA)-র সমন্বয়, সংশোধিত ভাতাসমূহ, আনুষঙ্গিক পরিবর্তন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, আপাতত এগুলো কেবল প্রস্তাব মাত্র। অষ্টম বেতন কমিশনের শর্তাবলি (Terms of Reference বা ToR) অনুযায়ী, কমিশনকে ১৮ মাসের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। সেই হিসেবে, ২০২৭ সালের মে-জুন মাসের দিকে অষ্টম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করা হতে পারে। সুপারিশগুলো চূড়ান্ত না হওয়া এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত, এখানে উল্লিখিত তিনটি 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর' (fitment factor)-কে নিশ্চিত বেতন বৃদ্ধি হিসেবে গণ্য করা যাবে না; এগুলো কেবল প্রস্তাব হিসেবেই বিবেচিত হবে।
দাবিত্যাগ: এই হিসাবগুলো কেবল উদাহরণস্বরূপ এবং প্রস্তাবিত 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর'-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বেতনের প্রকৃত সংশোধিত হার অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে। এই নিবন্ধটি কেবল সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে।