- Home
- India News
- 8th Pay Commission: সরকারি কর্মীদের DA সংযোজন, বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে মিল রেখে কর্মচারী সংগঠনগুলোর প্রধান ৫ দাবি
8th Pay Commission: সরকারি কর্মীদের DA সংযোজন, বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে মিল রেখে কর্মচারী সংগঠনগুলোর প্রধান ৫ দাবি
8th Pay Commission: অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন বর্তমানে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা পর্যালোচনার জন্য মতামত সংগ্রহ করছে।

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী
8th Pay Commission: অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (CPC) বর্তমানে পরামর্শ গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী বছরের মে মাসে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রদানের আগে, কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী গোষ্ঠী, বিভিন্ন ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট স্টক হোল্ডারদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করছে।

সরকারি কর্মচারীদের পারিশ্রমিক
কমিশনটি সরকারি কর্মচারীদের পারিশ্রমিক—যার মধ্যে বেতন (বেতন কাঠামো, পে-ম্যাট্রিক্স, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরসহ), ভাতা (যেমন—ডিএ, ডিআর, এইচআরএ) এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা (যেমন—ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি ইত্যাদি)—পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনীয় ও বাস্তবসম্মত পরিবর্তনের সুপারিশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পেনশনভোগী সংগঠন
এই কমিশনের সিদ্ধান্তগুলো ১ কোটিরও বেশি মানুষের ওপর প্রভাব ফেলবে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৫ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন, যার মধ্যে প্রতিরক্ষা ও রেল মন্ত্রকের কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত।
কর্মচারী ইউনিয়ন, প্রতিনিধি দল, বিভিন্ন গোষ্ঠী, পেনশনভোগী সংগঠন, ফেডারেশন এবং অন্যান্য স্টক হোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার জন্য কমিশন ২২-২৩ অক্টোবর মুম্বাই সফরের কর্মসূচি নির্ধারণ করেছে।
ডিএ (DA) বা মহার্ঘ ভাতা মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার দাবি
এখানে কিছু প্রধান দাবির উল্লেখ করা হলো:
বিভিন্ন কর্মচারী ইউনিয়ন ও প্রতিনিধি গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ডিএ-কে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার (DA merger) বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। সপ্তম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, ডিএ যদি মূল বেতনের ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, তবে তা মূল বেতনের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিএ-র পরিমাণ মূল বেতনের ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে।
প্রভিডেন্ট ফান্ডে অবদান
উল্লেখ্য যে, সরকার এখনও ডিএ-কে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে বিষয়টি বর্তমানে বেশ গুরুত্ব পেয়েছে, কারণ মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করেই অন্যান্য আর্থিক সুবিধা—যেমন প্রভিডেন্ট ফান্ডে অবদান, পেনশন, বিভিন্ন ভাতা, গ্র্যাচুইটি ইত্যাদি—নির্ধারিত হয়। সুতরাং, ডিএ বৃদ্ধি এবং তার ফলে মূল বেতন বৃদ্ধি পেলে সামগ্রিক বেতন ও আনুষঙ্গিক ভাতার পরিমাণও বেড়ে যাবে।
সর্বনিম্ন মূল বেতন সংক্রান্ত দাবি
ন্যাশনাল কাউন্সিল—জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM), মহারাষ্ট্র ওল্ড পেনশন অর্গানাইজেশন এবং অল ইন্ডিয়া ডিফেন্স এমপ্লয়িজ ফেডারেশন (AIDEF)-এর মতো বড় কর্মচারী সংগঠনগুলো কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য সর্বনিম্ন মূল বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবিকৃত সর্বনিম্ন মূল বেতনের পরিমাণ হলো—NC-JCM: ৬৯,০০০ টাকা, মহারাষ্ট্র ওল্ড পেনশন অর্গানাইজেশন: ৬৫,০০০ টাকা এবং AIDEF: ৬৯,০০০ টাকা।
ন্যূনতম বেতন সংশোধন
ইতিমধ্যে, 'ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ টেকনিক্যাল সুপারভাইজার্স অ্যাসোসিয়েশন' (IRTSA) দাবি জানিয়েছে যে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে ন্যূনতম বেতন সংশোধন করে ৫২,৬০০ টাকা করা হোক এবং বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভিন্ন পদ্ধতি (fixation factors) গ্রহণ করা হোক। অন্যদিকে, 'রেলওয়েজ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি' (RSCWS) প্রস্তাব করেছে যে, ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের ভিত্তি হওয়া উচিত ২০২৬ সালের ১লা জানুয়ারি তারিখের মূল্যসূচক (price index)।
ডিএ (DA) বা মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির দাবি
বিভিন্ন সংগঠন মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) বৃদ্ধির বিষয়েও দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— এনসি-জেসিএম (NC-JCM)-এর মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো; 'মহারাষ্ট্র ওল্ড পেনশন অর্গানাইজেশন'-এর অন্তত ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধি এবং ৫০ শতাংশ ডিএ মূল বেতনের সাথে মিশিয়ে দেওয়ার (merger) দাবি; এবং এআইডিইএফ (AIDEF)-এর মুদ্রাস্ফীতির সাথে সমন্বয় করে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (fitment factor) বৃদ্ধির দাবি
এছাড়া, আইআরটিএসএ (IRTSA) জানিয়েছে যে, রেল মন্ত্রকের অধীনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত (safety category) পদগুলোর ক্ষেত্রে 'ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর'-এর মান আরও বেশি হওয়া উচিত। তারা যথাক্রমে ২.৯২, ৩.৫০ এবং ৩.৮০ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছে।
ডিএ (DA) গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের দাবি
এআইডিইএফ (AIDEF) অষ্টম বেতন কমিশনের (8th CPC) কাছে জমা দেওয়া দ্বিতীয় স্মারকলিপিতে ডিএ গণনার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। তাদের যুক্তি হলো, বর্তমান পদ্ধতিতে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ব্যয় খাতগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ কর্মীরা—বিশেষ করে যারা নিম্ন বেতন কাঠামোয় রয়েছেন—তাদের বেতনের একটি বড় অংশ খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাড়ি ভাড়া, ওষুধ এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের পেছনে ব্যয় করেন।
অষ্টম বেতন কমিশনের (8th CPC) সুপারিশ কবে পাওয়া যেতে পারে?
অষ্টম বেতন কমিশনের কার্যপরিধি (Terms of Reference বা ToR) অনুযায়ী, প্যানেল গঠনের ১৮ মাসের মধ্যে (অর্থাৎ ৩রা নভেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে) সুপারিশগুলো ঘোষণা করার কথা রয়েছে। সেই হিসেবে, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা হলো ২০২৭ সালের মে মাস।
বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা
বেতন কমিশনের সুপারিশগুলো আসার পর, তা পুরোপুরি কার্যকর করতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লেগে যেতে পারে। এর অর্থ হলো, ২০২৭ সালে যে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা আসবে, তা হয়তো ২০২৯ বা ২০৩০ সাল নাগাদ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে।







