
8th Pay Commission: অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন (8th CPC) বর্তমানে পরামর্শ বা আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। এর আওতায় সারা দেশ জুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের সংগঠন, ফেডারেশন, ইউনিয়ন, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের (UT) কর্মী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিশনে সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রাক্তন আইএএস (IAS) কর্মকর্তা পঙ্কজ জৈন এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক পুলক ঘোষ (যিনি ফিন্যান্স বা অর্থবিদ্যার অধ্যাপক এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য)।
গত বছরের শেষের দিকে এই কমিশনের আনুষ্ঠানিক কার্যপরিধি বা 'টার্মস অফ রেফারেন্স' (ToR) প্রকাশ করা হয়েছিল। এই প্যানেলের সিদ্ধান্তের ফলে ১ কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে; এর মধ্যে রয়েছেন প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগী (যার মধ্যে প্রতিরক্ষা ও রেলওয়ের কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তরা অন্তর্ভুক্ত)।
উল্লেখ্য, ভারতের ৬০ কোটি কর্মশক্তির মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মীদের অংশ প্রায় ০.৭% এবং দেশের আনুষ্ঠানিক বা সংগঠিত খাতের (formal sector) প্রায় ৯%। আগামী সপ্তাহে, ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর (সোম ও মঙ্গলবার) জয়পুরে রাজস্থানের সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবে।
অষ্টম বেতন কমিশনের বিষয়ে আরও জানতে চাইলে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন-
8th Pay Commission: সম্পূর্ণ সময়সূচী প্রকাশিত! জেনে নিন কোন কোন শহর অষ্টম বেতন কমিশনের বৈঠক হবে
যারা সাক্ষাতের জন্য সময় বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট চেয়েছিলেন, তাদের অনুরোধ জমা দেওয়ার সময়সীমা ছিল ১৮ আগস্ট পর্যন্ত। এই বৈঠকগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ প্রতিনিধিদের দেওয়া পরামর্শ কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অষ্টম বেতন কমিশনের বিষয়ে আরও জানতে চাইলে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন-
এই ইউনিয়ন ও গোষ্ঠীগুলো সম্মিলিতভাবে প্রতিরক্ষা ও রেলওয়ের কর্মীসহ বিপুল সংখ্যক কর্মচারী ও পেনশনভোগীর প্রতিনিধিত্ব করে। কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন, ভাতা এবং পেনশন সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের লক্ষ্যে, মার্চ মাস থেকেই কমিশন বিভিন্ন রাজ্যে গিয়ে কর্মচারী প্রতিনিধি দল, ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে আসছে।
অষ্টম বেতন কমিশনের বিষয়ে আরও জানতে চাইলে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন-
অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন ৭-৮ সেপ্টেম্বর (সোম ও মঙ্গলবার) চেন্নাই সফর করবে।
অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন ৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) পুদুচেরি সফর করবে।
অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন ১৬-১৮ সেপ্টেম্বর (বুধ থেকে শুক্রবার) চণ্ডীগড় সফর করবে।
অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন ৭-৮ অক্টোবর (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) বেঙ্গালুরু সফর করবে।
যারা সাক্ষাতের জন্য সময় বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাইছেন, তারা ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়াও, যদিও নির্দিষ্ট কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি, তবুও রেল মন্ত্রণালয় গত জুলাই মাসে জানিয়েছিল যে, কর্মীদের কাজের পরিবেশ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে কমিশন মুম্বাইয়ের সেন্ট্রাল রেলওয়ে (CR) জোনের আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শনের পরিকল্পনা করছে।
উল্লেখ্য যে, এই পরিদর্শনের আগে কমিশন কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি প্রকাশ করেনি। তবে আশা করা হচ্ছে, এসব বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন কর্তৃক উত্থাপিত দাবি ও স্মারকলিপিতে উল্লিখিত বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন সংশোধন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি।
বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং যাতায়াত ভাতার মতো বিভিন্ন ভাতার পুনর্বিন্যাস।
অবসরকালীন নিরাপত্তার বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে পেনশন ব্যবস্থায় সংস্কার।
কর্মীদের কল্যাণ, মনোবল এবং চাকরির শর্তাবলির মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা।
পারিশ্রমিক বা বেতনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, কমিশন গঠনের পর ১৮ মাসের মধ্যে (অর্থাৎ ৩ নভেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে) তাদের সুপারিশ ঘোষণা করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর অর্থ হলো, প্রতিবেদন জমা দেওয়ার চূড়ান্ত সময়সীমা হলো ২০২৭ সালের মে মাস; তবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়ার সম্ভাব্য শুরুর সময় হতে পারে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিল মাস।
এ ছাড়াও, অতীতের প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, বেতন কমিশনের সুপারিশ ঘোষণার পর তা পুরোপুরি কার্যকর করতে আরও দুই থেকে তিন বছর সময় লেগে যায়। অর্থাৎ, ২০২৭ সালে ঘোষিত বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি হয়তো ২০২৯ বা ২০৩০ সাল নাগাদ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে।