
Lok Sabha Speaker Om Birla: বুধবার লোকসভায় তুমুল হট্টগোলের মধ্যে স্পিকার ওম বিড়লাকে পদ থেকে সরানোর প্রস্তাব খারিজ হয়ে গেল। ধ্বনিভোটে এই প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়। কংগ্রেস (Congress) সাংসদ রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ((Union Home Minister Amit Shah)) মন্তব্যের প্রতিবাদে কংগ্রেস সাংসদরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, আর সেই আবহের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কংগ্রেস সাংসদ মহম্মদ জাভেদের আনা এই প্রস্তাবের উপর দু'দিন ধরে বিতর্ক চলে। বিতর্কে শাসক ও বিরোধী, দুই পক্ষই একে অপরকে তীব্র আক্রমণ করে। বিতর্কের শেষে জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর জবাবি ভাষণের পর চেয়ারে থাকা বিজেপি (BJP) সাংসদ জগদম্বিকা পাল (Jagdambika Pal) কংগ্রেস সাংসদ জাভেদকে কথা বলার সুযোগ দেন। তবে তিনি শর্ত দেন, কংগ্রেস সাংসদরা নিজেদের আসনে ফিরে গেলেই জাভেদ বলতে পারবেন। কিন্তু বিরোধীরা স্লোগান দিতে থাকায়, জগদম্বিকা ধ্বনিভোটের ডাক দেন এবং জানান যে প্রস্তাবটি পরাজিত হয়েছে।
জবাবি ভাষণে অমিত শাহ স্পিকার বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার জন্য বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ সংসদীয় প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে। তাঁর কথায়, 'লোকসভা কোনও বাজার নয় এবং সাংসদদের নিয়ম মেনে চলা উচিত। এটা কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। প্রায় চার দশক পর লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হল। এটা সংসদীয় রাজনীতি এবং এই সভার জন্য দুর্ভাগ্যজনক। এই সভার ইতিহাস অনুযায়ী, পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতেই এর অধিবেশন চলে। স্পিকার শাসক ও বিরোধী, দুই পক্ষেরই নিরপেক্ষ অভিভাবক হিসেবে কাজ করেন। স্পিকার কীভাবে সভা চালাবেন, তার জন্য এই লোকসভাই নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করেছে। এই সভা কোনও বাজার নয়; সদস্যদের নিয়ম ও পদ্ধতি মেনেই কথা বলতে এবং অংশ নিতে হবে।'
অমিত শাহ বিরোধীদের আক্রমণ করে আরও বলেন, ‘বিরোধীদের এই পদক্ষেপে ভারতের গণতন্ত্রের গভীর সুনামের উপর প্রশ্ন উঠেছে। সংবিধান স্পিকারকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা দিয়েছে। আপনারা সেই মধ্যস্থতাকারীর উপরেই সন্দেহ করছেন। ৭৫ বছরে দুই কক্ষ আমাদের গণতন্ত্রের ভিতকে পাতালের থেকেও গভীরে নিয়ে গিয়েছে। বিরোধীরা সেই মজবুত ভিতের সুনাম নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।’ অমিত শাহ মনে করিয়ে দেন, বিজেপি দীর্ঘদিন বিরোধী আসনে থাকলেও কখনও স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনেনি। তিনি বলেন, ‘এর আগে তিনবার লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি বা এনডিএ কখনও এমন কোনও প্রস্তাব আনেনি।’
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।