Bangladesh: পদধূলি দিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ, ঐতিহ্য বহন করে চলেছে বরিশালের ব্রজমোহন বিদ্যালয়

Published : Nov 03, 2026, 09:46 AM IST
Brajamohan School Barisal Bangladesh

সংক্ষিপ্ত

Bangladesh News: বাংলাদেশের বরিশাল (Barisal) জেলা শিক্ষা-সংস্কৃতি-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিপ্লবের অন্যতম পীঠস্থান। বরিশাল সদরের অন্যতম প্রধান দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্রজমোহন বিদ্যালয় ও ব্রজমোহন কলেজ। মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত (Aswini Kumar Dutta) প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজও ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।

DID YOU KNOW ?
বরিশালে যান স্বামীজি
স্বামী বিবেকানন্দ বরিশালে গিয়ে ব্রজমোহন বিদ্যালয় পরিদর্শন করে কর্মকাণ্ড দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।

Brajamohan School Barisal: তখন অখণ্ড ভারত ব্রিটিশ শাসনাধীন। ১৮৮৪ সালের ২০ জুন বরিশালে এক বিজ্ঞাপন প্রচারিত হল। এই বিজ্ঞাপনে লেখা হল, 'আগামী ২৭ জুন হইতে এই নগরে একটি ইংরাজি এন্ট্রান্স পর্যন্ত শিক্ষার উপযোগী স্কুল স্থাপিত হইয়া রীতিমত কার্যারম্ভ হইবে। এই স্কুল সম্বন্ধে বিশেষ নিয়মাদি জানিতে হইলে আমার বাসায় জানিতে পারিবেন।' এই বিজ্ঞাপন দেন মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত (Aswini Kumar Dutta)। ১৮৮৪ সালের ২৭ জুন তাঁর বাবা ব্রজমোহন দত্তের নামে এই স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়। শতবর্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। আজও বরিশালের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই স্কুল। এবার এই স্কুলের ১১ যুগপূর্তি উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ব্রজমোহন বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বরিশালের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্রজমোহন কলেজ। এই দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই আজও স্বমহিমায় বিরাজমান।

ব্রজমোহন বিদ্যালয়ে পা রেখেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ

ব্রজমোহন বিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দিকে ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিদ্যালয়ের উৎসবগুলি ছিল শহরের মানুষের কাছে আকর্ষণীয়। শুধু পড়াশুনা বা সাংস্কৃতিক দিকই নয়, দেশ ও জাতির কল্যাণে সদা জাগ্রত ব্রজমোহন বিদ্যালয়। চলত সমাজসেবাও। বিদ্যালয়ে ছিল ‘বান্ধব সম্মিলনী’, ‘দরিদ্র বান্ধব সমিতি’, ‘বাল্যাশ্রম’-এর মতো জনসেবামূলক কাজ। বিদ্যালয়ের আদর্শ সত্য, প্রেম ও পবিত্রতা। আশির দশকেও ছাত্রদের উদ্যেগে রবীন্দ্র, নজরুল, সুকান্তের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হত। ছাত্ররাই কবিতা আবৃত্তি করত, সঙ্গীত পরিবেশন করত, তবলায় তাল ধরত তারাই। বিদ্যালয়ের শতবার্ষিকীর সংকলনে প্রবীণ সাংবাদিক এস আলি মহম্মদ লিখেছেন, 'স্বামী বিবেকানন্দ (Swami Vivekananda) বরিশাল এসে দেখতে পেলেন, ক্লাস ক্যাপ্টেন প্রশ্নপত্র এনে প্রত্যেক ক্লাসের ছাত্রদের মধ্যে বিতরণ করছে। তখন তিনি অশ্বিনীবাবুকে বললেন, অশ্বিনী, তোর স্কুলে গার্ড লাগে না? উত্তরে অশ্বিনীবাবু বলেছিলেন, আমার ছেলেরা নকল করে না, কাজেই গার্ডের প্রয়োজন হয় না।'

স্মৃতিকাতর প্রাক্তন ছাত্র

বরিশালের বাসিন্দা এবং ব্রজমোহন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র কমল সেনগুপ্ত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১১ যুগপূর্তির প্রাক্কালে স্মৃতির অতলে তলিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমার ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। ১০ বছর পড়েছি এখানে। বাবা শিক্ষকতা করতেন এই স্কুলে। সেই বিশাল হল রুম, বড় খেলার মাঠ আজও আছে। এখানে ক্রিকেট খেলেছি কত যে! সহপাঠী ওবায়দুল্লাহ, হাঁটু সমান উচ্চতার সেই ক্যাচটা কী নিখুঁতভাবেই না ধরেছিল! ওবায়দুল্লাহ এখন বড় ডাক্তার। ঢাকায় (Dhaka) থাকে। কথা হয় এসব স্মৃতি নিয়ে। মনে এল কত সহপাঠীর নাম। কী এক অসাধারণ অনুভূতি! আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লাম।’ কালের নিয়মে অনেক বদল এলেও, কমলবাবুর আশা, ব্রজমোহন বিদ্যালয় ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারবে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV
১৮৮৪
১৮৮৪ সালের ২৭ জুন প্রতিষ্ঠা হয় বরিশালের ব্রজমোহন স্কুল।
১৮৮৪ সালের ২৭ জুন তাঁর বাবা ব্রজমোহন দত্তর নামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন বরিশালের মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত।
Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

US Mexico Floods: জলের তলায় আমেরিকা ও মেক্সিকো, ফ্লোরিডাতে ভয়াবহ বন্যা, ভেসে গেল গাড়ি
Bangladesh Labour Unrest: শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল বাংলাদেশ, পরিস্থিতি সামলাতে ১২ প্লাটুন BGB