বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, সারা বিশ্বে লাখ লাখ মানুষ ক্রনিক কিডনির রোগে ভুগছেন। রক্ত থেকে দূষিত পদার্থ ছেঁকে বের করার ক্ষমতা কিডনি হারিয়ে ফেললে এই সমস্যা দেখা দেয়। ঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে কিডনি পুরোপুরি বিকল হয়ে যেতে পারে।
212
বড়সড় বিপদ এড়াতে আগেভাগেই কিডনির সমস্যা ধরা পড়া খুব জরুরি। কারণ, কিডনির অনেকটা ক্ষতি না হওয়া পর্যন্ত এর লক্ষণগুলো সেভাবে বোঝাই যায় না। তবে প্রাথমিক কিছু লক্ষণ চিনে জীবনযাত্রায় বদল আনলে কিডনি বিকল হওয়া ঠেকানো সম্ভব। জেনে নিন কিডনি বিকল হওয়ার এমন কিছু লক্ষণ, যা একদমই এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।
312
কিডনি বিকল হওয়ার প্রথম লক্ষণ হলো অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা। কিডনির কাজ ব্যাহত হলে শরীরে দূষিত পদার্থ জমতে থাকে। এর ফলে রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। রোগী সারাক্ষণ ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার সমস্যায় ভোগেন, এমনকি রোজকার সাধারণ কাজ করতেও কষ্ট হয়।
412
পা, গোড়ালি ও হাতে ফোলা ভাব কিডনি খারাপ হওয়ার অন্যতম লক্ষণ। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীরে অতিরিক্ত জল জমতে শুরু করে। এর ফলে শরীরের নিচের অংশে, বিশেষ করে পা ও গোড়ালিতে জল জমে ফুলে যায়। অনেক সময় মুখ ও হাতেও এই ফোলা ভাব দেখা যায়।
512
প্রস্রাবের অভ্যাসে হঠাৎ বদল এলে সতর্ক হওয়া জরুরি। বারবার প্রস্রাব পাওয়া (বিশেষ করে রাতে), প্রস্রাবের রং গাঢ় হওয়া, ফেনা বা রক্ত বের হওয়া কিডনি বিকল হওয়ার লক্ষণ। আবার পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পরও প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়াও বিপদের সংকেত।
612
একটানা বমি বমি ভাব ও বমি হওয়া কিডনি বিকল হওয়ার লক্ষণ হতে পারে। রক্তে দূষিত পদার্থ জমে গেলে বমি ভাব ও খিদে কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি ও শক্তি পায় না, রোগী ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েন।
712
শ্বাসকষ্ট হওয়া কিডনি খারাপ হওয়ার আরেকটি বড় লক্ষণ। কিডনি বিকল হতে শুরু করলে ফুসফুসে অতিরিক্ত জল জমতে থাকে। এর ফলে সামান্য কাজ করলেই রোগী হাঁপিয়ে ওঠেন। এছাড়া রক্তাল্পতার কারণে শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হলেও শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়ে।
812
ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি ও রুক্ষ ভাব দেখা দিলে সাবধান হোন। কিডনি আমাদের রক্ত থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেয়। কিন্তু কিডনি বিকল হলে শরীরে সেই বিষাক্ত পদার্থ জমতে থাকে। এর ফলে ত্বক মারাত্মক শুষ্ক হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড চুলকানি ও অস্বস্তি শুরু হয়।
912
পেশিতে টান ধরা ও দুর্বলতা কিডনি রোগের অন্যতম লক্ষণ। কিডনির সমস্যা হলে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়, বিশেষ করে পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমে যায়। এর ফলে পেশিতে মারাত্মক ব্যথা, টান ধরা ও দুর্বলতা দেখা দেয়।
1012
রক্তে দূষিত পদার্থ বেড়ে গেলে তা সরাসরি মস্তিষ্কের কাজে প্রভাব ফেলে। এর ফলে রোগীর স্মৃতিশক্তি কমে যায়, বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং কোনো কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে রোগী অতিরিক্ত ঘুমান বা কোমায় চলে যেতে পারেন।
1112
রক্তে অতিরিক্ত দূষিত পদার্থ জমে গেলে (ইউরেমিয়া) মুখে ধাতব স্বাদ তৈরি হয়। এর ফলে মুখে দুর্গন্ধ হয় এবং অনেক সময় মুখে ঘা-ও দেখা দেয়। এই সমস্যার কারণে রোগীর খাওয়ার ইচ্ছে একেবারেই চলে যায়।
1212
কিডনি শরীরে সোডিয়াম ও জলের ভারসাম্য বজায় রেখে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে রক্তচাপ হঠাৎ করে বেড়ে যায়। আর উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদরোগের ঝুঁকিও অনেকটাই বেড়ে যায়।