আপনি কি জানেন, আপনার রান্নাঘরে রোজ যে জিনিসগুলো ব্যবহার করেন, তার কয়েকটি টয়লেট সিটের চেয়েও বেশি নোংরা? এই সব জিনিস থেকেই মারাত্মক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।
আমাদের স্বাস্থ্য ভাল থাকে রান্নাঘর পরিষ্কার থাকলে। কিন্তু আমরা যেটাকে খুব পরিষ্কার ভাবি, সেটাই আসলে রোগের বাসা। সাধারণত সবাই মনে করে টয়লেট সিটে সবচেয়ে বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে। কিন্তু গবেষণা বলছে, আমরা রোজ যে সব কিচেন আইটেম ব্যবহার করি, তাতে টয়লেট সিটের চেয়েও কয়েকশো গুণ বেশি জীবাণু থাকে।
26
বাড়িতে টয়লেট সিটের চেয়েও নোংরা জিনিস:
আমরা ভাবি টয়লেট সিটেই সবচেয়ে বেশি জীবাণু, কিন্তু আসল জীবাণু লুকিয়ে রান্নাঘরে। বাসন মাজার স্পঞ্জে ভেজাভাব থাকায় টয়লেট সিটের চেয়ে প্রায় ২ লক্ষ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে। সবজি বা মাংস কাটার বোর্ডে ছুরি-বঁটির দাগের মধ্যে জীবাণুরা জমে। এতে টয়লেট সিটের চেয়ে ২০০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
36
কিচেন টাওয়েল:
ভেজা হাতে মোছা রান্নাঘরের তোয়ালেতে টয়লেট সিটের চেয়ে ৮০ গুণ বেশি জীবাণু জমে। রান্নার সময় আমরা নোংরা হাতে বারবার কলের হাতল ধরি, তাই সেখানে ৪০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে। বাড়ির সবাই রোজ ফ্রিজের দরজার হাতল ধরে, সেখানেও প্রায় ২০ গুণ বেশি জীবাণু পাওয়া যায়। শুধু বাড়ি নয়, বাড়ির বাইরেও বিপদ আছে। সুপারমার্কেটের শপিং কার্টের হ্যান্ডেলে টয়লেট সিটের চেয়ে ৩৬০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া থাকে।
রোজ হাজার হাজার মানুষ এটিএম-এর কিপ্যাড ব্যবহার করে, তাই সেখানে ১০০ গুণ বেশি জীবাণু থাকে। অফিস বা শপিং মলের লিফটের বাটনে প্রায় ৪০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। রেস্তোরাঁর মেনু কার্ড ঠিকমতো পরিষ্কার না করলে তাতে ৩০ গুণ বেশি জীবাণু থাকতে পারে। আর পাবলিক টয়লেট বা অফিসের দরজার হাতলে ২০ গুণ বেশি ব্যাকটেরিয়া জমে।
56
এই অদৃশ্য জীবাণুর আক্রমণ থেকে বাঁচবেন কীভাবে?
বাসন মাজার স্পঞ্জ অন্তত সপ্তাহে একবার বদলান। কাঁচা মাংস এবং সবজি কাটার জন্য আলাদা আলাদা কাটিং বোর্ড ব্যবহার করুন। সারাদিন হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি জীবাণুনাশক ওয়াইপস দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করুন। রান্নাঘরের তোয়ালে এবং হাত মোছার তোয়ালে প্রতি ২-৩ দিন অন্তর গরম জলে কেচে রোদে শুকিয়ে নিন।
66
হাত ধোয়ার অভ্যাস:
বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে এবং রান্না শুরু করার আগে, সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে ভাল করে হাত ধুয়ে নিন। বাড়ি জীবাণুমুক্ত রাখতে রাসায়নিকের বদলে স্যানিটাইজিং স্প্রে, ডিসইনফেকট্যান্ট ওয়াইপস ব্যবহার করতে পারেন। ভিনিগার, লেবুর রস বা টি ট্রি অয়েলের মতো প্রাকৃতিক জিনিস দিয়েও সহজে পরিষ্কার করা যায়।