Frozen Food: এক্সপায়ারি ডেট দেখেই ফ্রোজেন মাছ-মাংস কিনছেন? ভুল করছেন!

Published : Sep 08, 2026, 11:34 PM IST
Frozen food

সংক্ষিপ্ত

Frozen Meat: কলকাতা থেকে জেলা, একের পর এক নামী হোটেল-রেস্তোরাঁয় চলছে ফুড সেফটি দফতরের লাগাতার রেড। কোথাও ফ্রিজে পচা মাংস, কোথাও নর্দমার পাশে রান্না, কোথাও ভেজাল মশলা। তাই অনেকেই এখন বাড়িতে ফ্রোজেন মাছ-মাংস ভরসা মনে করছেন। কিন্তু শুধু এক্সপায়ারি ডেট দেখলেই কি নিরাপদ? ট্রান্সফ্যাট, নুন, চিনির হিসেব না দেখলে বাড়ির খাবারও হতে পারে বিষ।

Frozen Food: গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য জুড়ে যে ছবি দেখা যাচ্ছে, তাতে আঁতকে উঠছেন খাদ্যরসিক বাঙালি। কলকাতার পার্কস্ট্রিট, সল্টলেকের নামী দামি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ডায়মন্ড হারবার, দিঘার বড় হোটেল, কোথাও বাদ যাচ্ছে না। ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি এবং কলকাতা পুরসভার খাদ্য বিভাগ যৌথভাবে রেড করছে আর কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে বেরোচ্ছে কেউটে। কোথাও ৬ মাসের পচা চিকেন ডিপ ফ্রিজে রাখা, কোথাও বাসি মাটনকে টাটকা রঙ করতে মেশানো হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিক। কোথাও আবার রান্নাঘরের পাশেই নর্দমা, বাসন মাজা হচ্ছে টয়লেটের জলে, মশলায় মেশানো ইটের গুঁড়ো। যাদের এতদিন বড় নাম, বড় ব্র্যান্ড বলে ভরসা করতেন, তাদেরও অনেকের লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে। একই হাল বিভিন্ন নামী অনলাইন ই-কমার্স সংস্থার গোডাউনেও। গোডাউনে কার্টন ভর্তি এক্সপায়ার হয়ে যাওয়া ফ্রোজেন ফিশ, চিকেন, মোমো নতুন স্টিকার লাগিয়ে বিক্রি হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই রেস্তোরাঁ যাওয়া ছেড়ে বাড়ির খাবারেই বেশি ভরসা রাখছেন। আর সেই ক্ষেত্রে বেশ সুবিধাজনক হয়েছে প্যাকেটজাত ফ্রোজেন মাছ বা মাংস। টুক করে একদিন বেশি করে কিনে নিলেই হল। কিন্তু বাজার থেকে প্যাকেটজাত ফ্রোজেন ফিশ বা মিট কেনার সময় শুধু দাম, ব্র্যান্ড কিংবা এক্সপায়ারি ডেট দেখলেই কিন্তু হবে না।

প্যাকেটের পিছনে আসল বিপদ লুকিয়ে

১. Trans Fat - সবচেয়ে বড় শত্রু:

প্যাকেটে `Trans Fat 0g` লেখা আছে কি? না থাকলে বা `Hydrogenated Vegetable Oil / Partially Hydrogenated Oil` লেখা থাকলে ওটা কিনবেন না। ফ্রোজেন পরোটা, নাগেটস, ফ্রাই-কে মুচমুচে রাখতে ট্রান্সফ্যাট দেওয়া হয়। এটি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি ৫০% বাড়ায়। WHO বলছে, দিনে ১ গ্রাম ট্রান্সফ্যাটও নিরাপদ নয়।

২. Sodium / Salt - নীরব ঘাতক:

১০০ গ্রাম ফ্রোজেন ম্যারিনেটেড চিকেনে ৭০০-১০০০ mg সোডিয়াম থাকে, যেখানে দিনে ২৩০০ mg-এর বেশি খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত নুন মানে প্রেশার বাড়বে, কিডনিতে চাপ পড়বে। প্যাকেটে Sodium 500mg/100g-এর বেশি হলে এড়িয়ে চলুন।

৩. Added Sugar - মাংসেও চিনি!

অনেক কোম্পানি স্বাদ বাড়াতে ম্যারিনেশনে চিনি, ডেক্সট্রোজ, কর্ন সিরাপ মেশায়। ডায়াবেটিস রোগীর জন্য মারাত্মক। Ingredient-এ যদি প্রথম ৩টির মধ্যে Sugar / Dextrose থাকে, ওটা নেবেন না।

৪. Preservatives, Ingredient List ও Nutrition Info:

`Sodium Nitrite (E250), Sodium Nitrate (E251), MSG (E621)` - এগুলো মাংসকে লাল ও টাটকা দেখাতে ব্যবহার হয়। বিশেষ করে প্রসেসড বা ম্যারিনেটেড ফ্রোজেন মাংসের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নুন, চিনি বা অ্যাডিটিভস, প্রিজারভেটিভস থাকতে পারে। চেষ্টা করুন যেখানে `No Added Preservative` এবং `Ingredients: Chicken / Fish 100%` লেখা আছে, সেটাই কিনতে।

৫. Storage Instructions ও কোল্ড চেইন:

লেখা আছে `-18°C or below`। দোকানের ফ্রিজার যদি -১৮-তে না থাকে বা প্যাকেটের ভিতরে বরফের কুচি জমে থাকে, বুঝবেন কোল্ড চেইন ভেঙেছে। ওই প্যাকেট নেবেন না। IQF (Individually Quick Frozen) লেখা মাছ-মাংস সবচেয়ে ভালো।

তাহলে কোনটা কিনবেন?

Raw, Unprocessed, Un-marinated: যেখানে শুধু লেখা - `Ingredients: Chicken / Fish 100%` - সেটাই সবচেয়ে নিরাপদ।

IQF (Individually Quick Frozen) লেখা মাছ-মাংস ভালো, কারণ এতে একটার গায়ে আরেকটা লেগে থাকে না, কোল্ড চেইন ভালো থাকে।

ব্র্যান্ডেড কোম্পানির FSSAI লাইসেন্স নম্বর, ম্যানুফ্যাকচারিং ও এক্সপায়ারি ডেট একই প্রিন্টে আছে কি না দেখুন, আলাদা স্টিকারে থাকলে সন্দেহজনক।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:

ফ্রোজেন মাছ-মাংস কিনে ১ মাসের মধ্যে খেয়ে ফেলুন। রান্নার আগে ৪ ঘণ্টা নরমাল ফ্রিজে রেখে ডিফ্রস্ট করুন, বাইরে রেখে নয়। আর সপ্তাহে ২ দিনের বেশি প্রসেসড ফ্রোজেন মাংস খাবেন না।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Room Freshener: আপনার বাড়ির পারফেক্ট সুগন্ধি বেছে নেওয়ার সময় মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি!
বর্ষায় কলকাতায় করোনার থাবা! সর্দি-কাশির সঙ্গে ৫ দিন থাকছে না স্বাদ-গন্ধ, সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা