এই ভরা বর্ষায় কলকাতা ও শহরতলিতে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি-জ্বরের প্রকোপ। চিকিৎসকরা বলছেন, এর একটা বড় অংশই করোনা সংক্রমণ। আর এবারের কোভিডে ফিরে এসেছে অতিমারীর শুরুর সেই ভয় ধরানো উপসর্গ - ৩ থেকে ৫ দিনের জন্য স্বাদ ও গন্ধ চলে যাওয়া।
ভাদ্রের ভরা বর্ষা, আর তার মধ্যেই কলকাতা ও লাগোয়া শহরতলিতে ঘরে ঘরে একই ছবি - সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা আর জ্বর। পাড়ায় পাড়ায় প্রায় প্রতি বাড়িতেই কেউ না কেউ অসুস্থ। চিকিৎসকরা বলছেন, এই জ্বরের একটা বড় অংশই সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়, বরং কোভিড সংক্রমণ। আর এবারের কোভিডের ছবিটা বেশ অন্যরকম, যা ফিরিয়ে আনছে ২০২০-২১ সালের অতিমারী পর্বের স্মৃতি।
*ফিরছে পুরনো আতঙ্ক - স্বাদ-গন্ধ উধাও*
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সাম্প্রতিক কোভিড সংক্রমণে উপসর্গ তুলনামূলক মৃদু। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হালকা জ্বর, সর্দি, শুকনো কাশি, গা-হাত-পায়ে ব্যথা। হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন পড়ছে না। কিন্তু এর মধ্যেই একটি উপসর্গ চিন্তা বাড়িয়েছে।
রোগীদের একাংশের ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত গন্ধ ও স্বাদের অনুভূতি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে চলে যাচ্ছে। কেউ খাবারের স্বাদ পাচ্ছেন না, কেউ আবার কোনও গন্ধই পাচ্ছেন না। কোভিডের প্রথম ঢেউয়ে এটাই ছিল অন্যতম প্রধান লক্ষণ, যা মাঝে প্রায় উধাও হয়ে গিয়েছিল। এবার বর্ষায় সেই লক্ষণই আবার ফিরে এসেছে।
*কেন বাড়ছে সংক্রমণ?*
চিকিৎসকদের মতে, তিনটি কারণ একসঙ্গে কাজ করছে -
১. বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ায় ভাইরাস বেশি সক্রিয়।
২. ইনফ্লুয়েঞ্জার H3N2 সহ নানা স্ট্রেন ঘুরছে।
৩. তার সঙ্গে করোনার নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের মৃদু সংক্রমণ, যা সাধারণ জ্বরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বলে অনেকেই টেস্ট করাচ্ছেন না।
*কী করবেন?*
- জ্বর, সর্দি-কাশি হলে নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না।
- মাস্ক ব্যবহার করুন, বিশেষ করে ভিড়ে গেলে।
- স্বাদ-গন্ধ চলে গেলে আতঙ্কিত হবেন না, ৩-৫ দিনে এমনিই ফিরে আসছে। তবে বয়স্ক ও কো-মর্বিডিটি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- জল, হালকা গরম খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
চিকিৎসকরা বলছেন, আতঙ্কের কিছু নেই, কিন্তু সচেতন থাকা জরুরি। সাধারণ জ্বর ভেবে ফেলে না রেখে উপসর্গ বাড়লে কোভিড টেস্ট করিয়ে নেওয়াই ভালো।


