
অনেকেরই সকালে ঘুম ভাঙার পর মুখ একদম শুকিয়ে থাকে, গলা শুকিয়ে যায়, কথা বলতে অসুবিধা হয়। এক গ্লাস জল খেলে ঠিক হয়ে যায় বলে আমরা পাত্তা দিই না। কিন্তু আপনি যদি প্রায় প্রতিদিন এই সমস্যায় ভোগেন, তাহলে এটি শুধু জল কম খাওয়ার লক্ষণ নয়, শরীর ভিতরে ভিতরে অন্য কোনো রোগের সংকেত দিচ্ছে। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে জেরোস্টোমিয়া (Xerostomia)।
আমাদের নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়ার কথা। কিন্তু সর্দি, সাইনাস, নাকের হাড় বাঁকা থাকলে বা নাক বন্ধ থাকলে আমরা ঘুমের মধ্যে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নিই। সারারাত মুখ খোলা থাকলে লালা শুকিয়ে যায়, ফলে সকালে মুখ শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। যারা নাক ডাকেন, তাদের এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয়।
রক্তে সুগার বাড়লে শরীর অতিরিক্ত প্রস্রাবের মাধ্যমে জল বের করে দেয়, ফলে শরীরে জলের ঘাটতি হয়। তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের ঘন ঘন জল তেষ্টা পায় ও মুখ শুকিয়ে যায়, বিশেষ করে সকালে। যদি আপনার সাথে ঘন ঘন প্রস্রাব, অতিরিক্ত খিদে ও ওজন কমে যাওয়ার সমস্যাও থাকে, তাহলে অবশ্যই সুগার টেস্ট করান।
এটি একটি বিপজ্জনক রোগ। ঘুমের মধ্যে কিছুক্ষণের জন্য শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, নাক ডাকা খুব বেড়ে যায় এবং অক্সিজেন কমে যায়। এর প্রধান লক্ষণ হলো সকালে উঠে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথা ধরা এবং সারাদিন ঘুম ঘুম ভাব। ওজন বেশি থাকলে এই রোগের ঝুঁকি বেশি।
আপনি কি রোজ প্রেসারের ওষুধ, অ্যালার্জির ওষুধ, ডিপ্রেশনের ওষুধ বা ঘুমের ওষুধ খান? এই ধরনের অনেক ওষুধই লালা তৈরি কমিয়ে দেয়। তাই ওষুধ খাওয়া শুরু করার পর থেকে মুখ শুকালে ডাক্তারকে জানান।
দিনে ২ লিটারের কম জল খেলে, রাতে মদ্যপান বা ধূমপান করলে, বা AC-তে মুখ খুলে ঘুমালে লালা গ্রন্থি শুকিয়ে যায়।
যদি রোজ সকালে মুখ শুকায়, সাথে মুখে দুর্গন্ধ, দাঁতে ক্যাভিটি বাড়ে, জিভে সাদা আস্তরণ পড়ে, বা গলা খুসখুস করে, তাহলে অবহেলা করবেন না। এটি দীর্ঘদিন থাকলে দাঁত নষ্ট হয়ে যায় ও মুখে ইনফেকশন হয়।
রাতে শোয়ার আগে ১ গ্লাস জল খান, নাক বন্ধ থাকলে তার চিকিৎসা করান, ধূমপান এড়িয়ে চলুন। ঘুমানোর সময় মাথা একটু উঁচু করে শুলে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া কমে। আর সমস্যা টানা ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে একজন ENT বা মেডিসিনের ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং সুগার ও থাইরয়েড পরীক্ষা করিয়ে নিন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News