গিজার এখন প্রায় সব বাড়িতেই গরম জলের ভরসা। কিন্তু ছোট একটা ভুল ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। ইলেকট্রিক শক, গিজার ব্লাস্ট বা দমবন্ধ হয়ে মৃত্যুর মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
শীতকাল আসতেই ঘরে ঘরে গিজার বা ওয়াটার হিটারের ব্যবহার বেড়ে যায়। গরম জলে স্নান আরামদায়ক হলেও, গিজার ব্যবহারে একটু অসাবধান হলেই বড় বিপদ। আজকাল গিজার ফেটে যাওয়া, বাথরুমে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া বা গ্যাস লিক করে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
26
১. স্নান করার আগে সুইচ বন্ধ করুন
অনেকেই গিজার অন রেখে স্নান করেন, যা সবচেয়ে বড় ভুল। জলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হতে পারে। গিজারের ভেতরে ওয়্যারিংয়ে সামান্য ত্রুটি থাকলেও শাওয়ার বা কলের জলে কারেন্ট চলে আসার ঝুঁকি থাকে। তাই জল গরম হওয়ার পরেই সুইচ বন্ধ করে স্নান করুন।
36
২. 'অটো কাট-অফ' ফিচার আছে তো?
অনেকেই গিজার চালিয়ে দিয়ে ভুলে যান। জল অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে স্টিম তৈরি হয় এবং ভেতরের চাপ বেড়ে গিয়ে গিজার ফেটে যেতে পারে। তাই এমন গিজার কিনুন যাতে 'অটো কাট-অফ' ফিচার থাকে। এতে জল গরম হলেই বিদ্যুৎ সংযোগ নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যায়।
গিজারের থার্মোস্ট্যাট সব সময় সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় সেট করে রাখবেন না। ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কমে সেট করা সবচেয়ে ভাল। এতে যেমন বিদ্যুতের বিল বাঁচে, তেমনই অতিরিক্ত গরম জলে গা পুড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।
56
৪. গ্যাস গিজার ব্যবহার করলে খুব সাবধান!
আপনি যদি এলপিজি গ্যাস গিজার ব্যবহার করেন, তাহলে বাথরুমে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের (Ventilation) ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। এগজস্ট ফ্যান বা জানালা অবশ্যই থাকতে হবে। গ্যাস ঠিকমতো না জ্বললে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস তৈরি হয়, যা বাথরুমের অক্সিজেন কমিয়ে দিয়ে দমবন্ধ হওয়ার কারণ হতে পারে।
66
৫. নিয়মিত সার্ভিসিং ও আর্থিং পরীক্ষা করুন
বছরে অন্তত একবার দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান দিয়ে গিজার পরীক্ষা করান। গিজারের কয়েলে জমে থাকা লবণ বা ক্যালসিয়াম পরিষ্কার করিয়ে নিন। সবচেয়ে জরুরি হল, আপনার বাড়ি ও বাথরুমের আর্থিং (Earthing) ঠিক আছে কিনা, তা নিশ্চিত করা।