অজান্তেই আপনার শান্ত সন্তান Glass Child Syndrome-এর শিকার হচ্ছে না তো?

Published : Oct 29, 2026, 11:25 PM IST
Heres a warning to parents who give tea and coffee to their children

সংক্ষিপ্ত

Glass Child Syndrome: আপনার বাড়িতে কি দুটি সন্তান? একজন খুব জেদি, সবসময় বায়না করে, আর অন্যজন খুব শান্ত, লক্ষ্মী, কোনও অভিযোগ নেই? তাহলে সাবধান! আপনার এই শান্ত, বুঝদার সন্তানটিই অজান্তে Glass Child Syndrome-এর শিকার হচ্ছে। সে কাঁচের মতো অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে পরিবারে। এই নীরব অবহেলা তার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে।

Children: আমরা সবসময় সেই বাচ্চাটিকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকি, যে বেশি কাঁদে, বেশি জেদ করে, পড়াশোনায় খারাপ বা অসুস্থ। আর যে বাচ্চাটি নিজের কাজ নিজে করে, কখনও বিরক্ত করে না, আমরা ধরে নিই সে তো বড় হয়ে গেছে, সে তো বুঝদার। মনোবিজ্ঞানে এই শান্ত বাচ্চাদেরই বলা হয় ‘গ্লাস চাইল্ড’।

গ্লাস চাইল্ড সিনড্রোম কী?

‘গ্লাস চাইল্ড’ (Glass Child) মানে হলো কাঁচের মতো স্বচ্ছ শিশু। সে পরিবারের প্রতিটি মুহূর্তেই উপস্থিত থাকে, সবার সামনেই থাকে, কিন্তু তার নিজের অনুভূতি, লড়াই, কষ্ট এবং চাহিদাগুলো কারও চোখে পড়ে না। অনেকটা কাচের মতো, দেখা যায়, কিন্তু দেখেও না দেখার মতো।

উদাহরণ দিয়ে বুঝুন—

ধরুন আপনার দুটি সন্তান। বড় ছেলে অটিজম বা ADHD-তে আক্রান্ত, বা পড়াশোনায় খুব দুর্বল, তাকে নিয়ে আপনাকে সারাদিন ব্যস্ত থাকতে হয়। ছোট মেয়ে একাই স্কুলের জন্য তৈরি হয়, নিজের হোমওয়ার্ক নিজে করে, নিজের কষ্টগুলো নিজের মনেই চেপে রাখে এবং বাড়তি কোনও দাবি জানায় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনি ধরেই নেন, ছোট মেয়েটি মানসিক ভাবে অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। সে খুব বুঝদার। তাকে নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই। এখানেই আমরা সবচেয়ে বড় ভুলটা করি। এই বুঝদার বাচ্চাটাই ভেতরে ভেতরে ভেঙে যেতে থাকে।

কেন হয় এই সিনড্রোম?

১. অন্য ভাই-বোন অসুস্থ বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হলে: একটি সন্তান অসুস্থ হলে মা-বাবার ৯০% মনোযোগ তার দিকেই চলে যায়। ২. এক সন্তান অতিরিক্ত দুরন্ত হলে: যে বাচ্চা বেশি দুষ্টুমি করে, মা-বাবা তাকেই সামলাতে ব্যস্ত থাকেন। ৩. আমাদের ধারণা: আমরা ভাবি শান্ত বাচ্চার কোনও চাহিদা নেই। সে একাই সব ম্যানেজ করে নেবে। আপনার সন্তান Glass Child কিনা কীভাবে বুঝবেন? ৫টি লক্ষণ:

১. সে কখনও নিজের জন্য কিছু চায় না, সবসময় বলে "আমার লাগবে না"। ২. সে নিজের দুঃখ, রাগ, ভয় কাউকে বলে না, ঘরের মধ্যে গুমরে থাকে। ৩. সে অতিরিক্ত বুঝদার সাজার চেষ্টা করে, বড়দের মতো কথা বলে, ছোট বয়সেই "আমি ঠিক আছি" বলে। ৪. সে মনে মনে ভাবে, মা-বাবা তাকে ভালোবাসে না, বা সে কম গুরুত্বপূর্ণ। ৫. বড় হয়ে তার মধ্যে তীব্র অপরাধবোধ, একাকীত্ব এবং রাগ তৈরি হয়। সে সম্পর্কে জড়াতে ভয় পায়। এর ফল কতটা ভয়ঙ্কর?

এই বাচ্চারা ছোটবেলা থেকে শেখে, তার অনুভূতির কোনও দাম নেই। তাই বড় হয়ে তারা—

- নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না। - সবসময় অন্যকে খুশি করতে চায় (People Pleaser হয়ে যায়)। - ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড একা এবং বিষণ্ণতায় ভোগে। - মনে করে, ভালোবাসা পেতে হলে তাকে নিখুঁত হতে হবে।

মা-বাবা হিসেবে এখনই কী করবেন?

১. আলাদা সময় দিন: দিনে অন্তত ১৫ মিনিট শুধু শান্ত বাচ্চাটির জন্য রাখুন। শুধু তার কথা শুনুন, অন্য ভাই-বোনের কথা নয়। ২. প্রশংসা নয়, অনুভূতি জিজ্ঞেস করুন: "তুই তো খুব ভালো মেয়ে" না বলে জিজ্ঞেস করুন, "আজ তোর মন খারাপ হয়েছিল? আমাকে বলবি?" ৩. দায়িত্ব চাপাবেন না: "তুই বড়, তুই বোঝ" বলে তার ওপর সংসারের দায়িত্ব চাপিয়ে দেবেন না। তাকেও বাচ্চা থাকতে দিন। ৪. তুলনা বন্ধ করুন: "দেখ, তোর ভাই কত কষ্ট পায়, আর তুই..." এই ধরনের তুলনা একদম নয়। মনে রাখবেন, যে বাচ্চা কাঁদে না, তারও কষ্ট হয়। যে বাচ্চা চায় না, তারও অনেক কিছু লাগে। আপনার শান্ত বাচ্চাটিকে অদৃশ্য কাচের মতো করে দেবেন না। আজই তাকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করুন, "তুই কেমন আছিস সত্যি করে?"

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

PREV

Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News

Read more Articles on
click me!

Recommended Stories

Gardening Tips: ঘরেই ফলান টাটকা ৫টি সালাদ সবজি, রইল সহজ টিপস
শাড়ির লুক বদলে দেবে এই ফ্রন্ট ও ব্যাক ব্লাউজ ডিজাইন