এই উৎসবের মরসুমে প্রিয়জনদের সাথে শেয়ার করার জন্য এখানে ১০টি শুভেচ্ছা, উক্তি, অভিবাদন রইল।
হোলিকার কিংবদন্তি
হোলিকা দহন হল একটি উৎসব যা খারাপের উপর ভালোর বিজয়কে চিহ্নিত করে। এই গল্পের উৎস হল হিরণ্যকশিপু নামক এক রাক্ষস রাজা, যিনি তপস্যার মাধ্যমে প্রচুর ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন এবং নিজেকে অপরাজেয় মনে করতেন। তিনি দেবতাদের পরিবর্তে সকলের কাছে তাঁর পূজা দাবি করেছিলেন।
তবে, তাঁর পুত্র প্রহ্লাদ ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর একনিষ্ঠ ভক্ত। প্রহ্লাদের অবিচল ভক্তিতে ক্ষুব্ধ হয়ে হিরণ্যকশিপু বহুবার নিজের পুত্রকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রতিবারই অলৌকিকভাবে প্রহ্লাদ রক্ষা পান।
অসহায় হয়ে হিরণ্যকশিপু তাঁর বোন হোলিকার কাছে যান। হোলিকার কাছে একটি জাদু শাল ছিল যা তাঁকে আগুন থেকে রক্ষা করত। তিনি প্রহ্লাদকে আগুনে পুড়িয়ে মারার উদ্দেশ্যে জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে তাঁর কোলে বসতে প্ররোচিত করেন। কিন্তু আগুন জ্বলার সাথে সাথে হোলিকার শালটি উড়ে যায় এবং প্রহ্লাদকে ঢেকে দেয়। হোলিকা ছাই হয়ে যায়, আর প্রহ্লাদ তাঁর ভক্তি ও পুণ্যের দ্বারা সুরক্ষিত থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসে।
এই ঘটনাকে স্মরণ করে হোলিকা দহনের দিন একটি অগ্নিকুণ্ড জ্বালানো হয়, যা অন্যায়ের উপর ন্যায়বিচারের বিজয়কে চিহ্নিত করে। এই শিখা আমাদের অহংকার, লোভ এবং ঘৃণা দূর করতে এবং ইতিবাচকতা ও সম্প্রীতির পথ প্রশস্ত করতে মনে করিয়ে দেয়।
আজ, মানুষজন পারিবারিক মিলন, গান এবং আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হোলিকা দহন উদযাপন করে, সত্যের আলো এবং বিশ্বাসের শক্তিকে আলিঙ্গন করে।