
Health News: কাল কী হবে? ওই কথাটা কেন বললাম? ও কি আমার ওপর রেগে গেল? - দিনের বেশিরভাগ সময় কি আপনার মাথায় এমন চিন্তা ঘুরতে থাকে? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে আপনি ওভারথিংকিং-এর শিকার।
ওভারথিংকিং মানে হল, একটি ছোট্ট বিষয়কে নিয়ে বারবার, অতিরিক্ত ভাবা, যার বেশিরভাগই নেতিবাচক। আমরা ভাবি বেশি ভাবলে সমস্যার সমাধান হবে, কিন্তু বাস্তবে ওভারথিংকিং সমস্যার সমাধান করে না, বরং নতুন সমস্যা তৈরি করে। এটি ধীরে ধীরে আপনার জীবন, সম্পর্ক এবং স্বাস্থ্য - সবকিছু নষ্ট করে দেয়।
১. মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে যায়, কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না:
অতিরিক্ত চিন্তা করলে মস্তিষ্কে কর্টিসল হরমোন বাড়তে থাকে। মস্তিষ্ক সবসময় 'ফাইট অর ফ্লাইট' মোডে থাকে। ফলে আপনি সবসময় ক্লান্ত অনুভব করবেন, কোনও কাজে মন বসবে না। ছোট ছোট সিদ্ধান্ত, যেমন কী জামা পরবেন বা কী খাবেন, সেটাও নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যাবে। একে বলে 'Analysis Paralysis'।
২. ঘুম নষ্ট এবং শারীরিক অসুস্থতা:
ওভারথিংকারদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল রাতে ঘুম না আসা। শুয়ে শুয়েও মাথায় চিন্তা চলতে থাকে। ঘুম ঠিকমতো না হলে শরীরে একের পর এক রোগ বাসা বাঁধে - উচ্চ রক্তচাপ, মাথা যন্ত্রণা, হজমের গোলমাল, ওজন বেড়ে যাওয়া, ইমিউনিটি কমে যাওয়া। দীর্ঘদিনের ওভারথিংকিং থেকে অ্যানজাইটি এবং ডিপ্রেশনও হতে পারে।
৩. সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়:
আপনি যদি সঙ্গী, বন্ধু বা পরিবারের কোনও কথার পিছনে লুকানো মানে খুঁজতে থাকেন, 'ও কেন এমন বলল', 'ও কি আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছে' - এই ভাবনাগুলো সম্পর্কের বিশ্বাস নষ্ট করে দেয়। ওভারথিংকিং থেকে অতিরিক্ত সন্দেহ, ঝগড়া এবং দূরত্ব তৈরি হয়। অনেক ভালো সম্পর্ক শুধু অতিরিক্ত ভাবার কারণেই ভেঙে যায়।
৪. বর্তমান মুহূর্ত হারিয়ে যায়:
ওভারথিংকিং সবসময় আপনাকে দুটি জায়গায় নিয়ে যায় - অতীতের আফসোস এবং ভবিষ্যতের ভয়। ফলে আপনি আজকের সুন্দর মুহূর্তটা উপভোগ করতেই পারেন না। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন, কিন্তু মন পড়ে আছে কালকের প্রেজেন্টেশনে। এইভাবে জীবনের আনন্দগুলো হাতছাড়া হয়ে যায়।
তাহলে বেরোবেন কীভাবে?
- চিন্তাকে লিখে ফেলুন: মাথায় ঘুরতে থাকা চিন্তাগুলো খাতায় লিখুন। লিখলে চিন্তা ৫০% কমে যায়।
- 'ওয়ারি টাইম' ঠিক করুন: সারাদিন নয়, দিনে ১৫ মিনিট সময় ঠিক করুন শুধু চিন্তা করার জন্য। বাকি সময় চিন্তা এলে নিজেকে বলুন, 'পরে ভাবব'।
- কাজে ব্যস্ত থাকুন: হাঁটতে যান, গান শুনুন, পছন্দের কাজ করুন। মস্তিষ্ককে খালি রাখবেন না।
- নিজেকে প্রশ্ন করুন: 'এই চিন্তাটা কি সত্যি? এর কি কোনও প্রমাণ আছে? ১ মাস পরেও কি এটা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে?'
মনে রাখবেন, চিন্তা করা ভালো, কিন্তু অতিরিক্ত চিন্তা করা বিষের মতো। যদি মনে হয় আপনি একা সামলাতে পারছেন না, তাহলে একজন মনোবিদের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News