৭-৮ ঘণ্টা ঘুমের পরও সারাদিন ক্লান্ত লাগছে, কাজে মন বসছে না? ৩৫-এর পর হরমোনের পরিবর্তন, ভিটামিনের ঘাটতি বা থাইরয়েডের সমস্যায় মেয়েদের মধ্যে এই ক্লান্তি খুব সাধারণ। কোন ৫টি ব্লাড টেস্ট করালে কারণটা বোঝা যাবে, জানুন।

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি কাটছে না, এটা শুধু কাজের চাপ নয়, শরীরের ভিতরের কোনো ঘাটতি বা হরমোনের পরিবর্তনের সংকেত হতে পারে। বিশেষ করে ৩৫ বছর বয়সের পর মেয়েদের শরীরে ইস্ট্রোজেন, থাইরয়েড হরমোনের ওঠানামা শুরু হয়, তাই এই বয়সে নিয়মিত কিছু ব্লাড টেস্ট করিয়ে নেওয়া ভালো। তবে নিজে থেকে টেস্টের রিপোর্ট দেখে ওষুধ শুরু করবেন না, রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

*৩৫-এর পর মেয়েদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৫টি টেস্ট:*

*- CBC বা Complete Blood Count:* এটি রক্তে হিমোগ্লোবিন, লোহিত রক্তকণিকা এবং শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ মাপে। হিমোগ্লোবিন কম থাকলে, অর্থাৎ অ্যানিমিয়া থাকলে, পর্যাপ্ত ঘুমের পরও দুর্বলতা ও ক্লান্তি লাগে।

*- TSH বা Thyroid Stimulating Hormone:* এটি থাইরয়েড গ্রন্থি কতটা ঠিকঠাক কাজ করছে তা বোঝায়। থাইরয়েড হরমোন কম বা বেশি হলে, যাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বা হাইপারথাইরয়েডিজম বলে, ক্লান্তি, ওজন বাড়া বা কমা, চুল পড়া দেখা যায়।

*- Vitamin D, 25-OH:* ভিটামিন ডি হাড়ের শক্তি এবং এনার্জি লেভেলের জন্য জরুরি। এর ঘাটতি হলে সারাক্ষণ ক্লান্তি, গায়ে ব্যথা, মন খারাপ লাগতে পারে। ঘরের ভিতর বেশি থাকলে এই ঘাটতি বেশি হয়।

*- Vitamin B12 এবং Ferritin:* ভিটামিন বি১২ এবং ফেরিটিন, যা শরীরে আয়রন স্টোরেজ বোঝায়, দুটোই রক্ত তৈরির জন্য লাগে। নিরামিষ খাবার খেলে বি১২-এর ঘাটতি বেশি দেখা যায়, ফলে ঝিমুনি ও মনোযোগের অভাব হয়।

*- HbA1c বা Glycated Hemoglobin:* এটি গত ২ থেকে ৩ মাসের গড় ব্লাড সুগার লেভেল দেখায়। সুগার লেভেল বেশি বা ওঠানামা করলে ঘুমের পরও ক্লান্তি, বেশি জল তেষ্টা পাওয়ার মতো উপসর্গ আসতে পারে।

*কখন ডাক্তার দেখাবেন?*

যদি টানা ২ সপ্তাহের বেশি ক্লান্তি থাকে, সঙ্গে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, খুব বেশি ওজন কমে যাওয়া, অনিয়মিত পিরিয়ড, বা হাত পা ফুলে যাওয়া থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।