দিনের পর দিন চুলকানি কমছে না? শুধু মলমে কাজ হবে না। লিভার ফাংশন টেস্ট, কিডনি ফাংশন টেস্ট, থাইরয়েড টেস্ট আর সিবিসি, এই চারটি সাধারণ পরীক্ষাতেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চুলকানির নেপথ্যে আসল কারণ ধরা পড়ে।

চুলকানি মানেই ধুলো বা ঘামাচি নয়। অনেক সময় লিভারে পিত্ত জমলে, কিডনিতে বর্জ্য জমলে বা থাইরয়েডের সমস্যা হলেও ত্বকে কোনো দাগ ছাড়াই তীব্র চুলকানি শুরু হয়। তাই বারবার চুলকানি ফিরে এলে বাইরে থেকে মলম লাগানোর আগে ভিতরের কারণ খোঁজা জরুরি। আর সেই কারণ খুঁজতে বড় কোনো খরচের টেস্ট নয়, এই চারটি রুটিন ব্লাড টেস্টই যথেষ্ট।

১. LFT বা Liver Function Test: এতে বিলিরুবিন, SGPT, SGOT দেখা হয়। লিভারে সমস্যা হলে বিলিরুবিন রক্তে বেড়ে চামড়ার নিচে জমে, ফলে সারা শরীরে, বিশেষ করে রাতে চুলকানি বাড়ে। চোখ হলুদ, প্রস্রাব গাঢ় হলে LFT মাস্ট।

২. KFT বা Kidney Function Test: ক্রিয়েটিনিন আর ইউরিয়া দিয়ে কিডনি কতটা পরিষ্কার করছে বোঝা যায়। কিডনি দুর্বল হলে ইউরিয়া জমে ত্বক শুষ্ক হয়ে ক্রমাগত চুলকানি হয়। পা ফোলা বা প্রস্রাব কম হলে এই টেস্ট জরুরি।

৩. Thyroid Profile, TSH সহ: TSH হল Thyroid Stimulating Hormone, যা থাইরয়েডের কার্যক্ষমতা বোঝায়। হাইপোথাইরয়েডিজমে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে চুলকায়, চুল পড়ে।

৪. CBC বা Complete Blood Count: CBC রক্তের হিমোগ্লোবিন, শ্বেতকণিকা আর ইওসিনোফিলের পরিমাণ মাপে। অ্যালার্জি বা ইনফেকশন থাকলে ইওসিনোফিল বেড়ে যায়, যা দীর্ঘদিনের চুলকানির বড় কারণ।

এই চারটি টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে চর্মরোগ বা মেডিসিনের ডাক্তারের কাছে যান। নিজে থেকে অ্যান্টি হিস্টামিন বা স্টেরয়েড মলম টানা ব্যবহার করবেন না। যদি চুলকানির সঙ্গে জ্বর, জন্ডিস, ওজন কমা বা সারা গায়ে র‍্যাশ থাকে, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।