স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক মজবুত রাখতে বিশ্বাস আর ভালোবাসা থাকাটা জরুরি। সব বিষয়ে মানিয়ে চলাও দরকার। কিন্তু অনেক সময় স্ত্রী স্বামীর উপর অতিরিক্ত ডমিনেশন দেখান। তাঁর মধ্যে কয়েকটি লক্ষণ দেখলেই বুঝতে হবে যে তিনি একজন 'টক্সিক' স্ত্রী।
বিয়ে টিকে থাকে পারস্পরিক ভালোবাসা, সম্মান আর বিশ্বাসের উপর। সংসারে ছোটখাটো ঝগড়া বা মতের অমিল হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ঝামেলা যদি রোজকার অভ্যাসে পরিণত হয় এবং আপনার সঙ্গীর ব্যবহার যদি আপনার মানসিক শান্তি কেড়ে নেয়, তাহলে তা খুবই বিপজ্জনক। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ত্রীর 'টক্সিক' আচরণ স্বামীর স্বাস্থ্যেরও ক্ষতি করে। এর ফলে স্বামী ক্রমাগত উদ্বেগ আর মারাত্মক স্ট্রেসের শিকার হন। একটা সম্পর্ক তখন আর ভালোবাসার আশ্রয় থাকে না, বরং নরকের মতো হয়ে ওঠে। এই লক্ষণগুলো সময়মতো চিনতে না পারলে ব্যক্তিগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
23
বিশেষ করে আপনার স্ত্রীর মধ্যে এই পাঁচটি লক্ষণ দেখা গেলে, তাঁকে 'টক্সিক' বলাই যায়। প্রথমত, ছোটখাটো ঝগড়া বা ভুলের জন্য সবসময় স্বামীকেই দায়ী করা। নিজের ভুল স্বীকার না করে উল্টে স্বামীকে দিয়ে জোর করে ক্ষমা চাওয়ানো। দ্বিতীয়ত, স্বামীর চেহারা, চাকরি, বেতন বা পরিবার নিয়ে অন্যদের সামনে ছোট করা বা অপমান করা। স্বামী কষ্ট পেলে "আমি তো মজা করছিলাম" বলে এড়িয়ে যাওয়া। তৃতীয়ত, স্বামীর স্বাধীনতা পুরোপুরি কেড়ে নেওয়া। তিনি কার সঙ্গে কথা বলবেন, কোথায় যাবেন, সবকিছুর উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা। চতুর্থত, স্বামী যখন নিজের কষ্ট বা অসন্তুষ্টির কথা বলেন, তখন তা না বুঝে "তুমি বেশি ভাবছ" বলে উড়িয়ে দেওয়া। আর সবশেষ, পঞ্চমত, স্ত্রীর রাগের ভয়ে স্বামীকে সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। এইটা সবচেয়ে বিপজ্জনক লক্ষণ।
33
কোনও সম্পর্কই একজনের ত্যাগ বা ভয়ের উপর বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। যখন একজনের জন্য অন্যজনের আত্মসম্মান নষ্ট হয়, স্বাধীনতা হারিয়ে যায়, তখন সেই বিয়েটা একটা মানসিক জেলখানার মতো হয়ে যায়। সব সমস্যারই সমাধান থাকে, কিন্তু অপরজন যদি নিজের ভুল বুঝে নিজেকে বদলাতে রাজি থাকে, তবেই তা সম্ভব। শুধু ভয় বা দায়িত্বের কারণে এই 'টক্সিক' ব্যবহার সহ্য করে গেলে মারাত্মক ডিপ্রেশন আর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই, দাম্পত্যে এই ধরনের গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে স্পষ্ট সীমারেখা তৈরি করুন। সমস্যা গুরুতর হলে ফ্যামিলি কাউন্সেলর বা সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেওয়া খুব জরুরি। মনে রাখবেন, ভয়হীন স্বাধীনতা আর সত্যিকারের সম্মান ছাড়া কোনও সম্পর্কই আনন্দ দিতে পারে না।