ভারতে এমন একটি গ্রাম রয়েছে যেখানে অবিশ্বাস্য সস্তায় কাজু বাদাম বিক্রি হয়। আপনার হাতে ১০০ টাকা থাকলেই এক ব্যাগ ভর্তি কাজু নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন। জেনে নিন সেই গ্রামটি কোথায়।
কাজু বাদামের কথা ভাবলেই জিভে জল আসে। কিন্তু বাজারে কেজি প্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা দাম হওয়ায় অনেকেই কেনার আগে দু'বার ভাবেন। তবে ঝাড়খণ্ডের একটি গ্রামে গেলে আপনি মাত্র ৩০ টাকা কেজিতেও কাজু কিনতে পারবেন। জামতাড়া জেলা থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই নালা গ্রামটিকে 'ঝাড়খণ্ডের কাজু শহর' বলা হয়।
25
সবজির চেয়েও সস্তা
নালা গ্রামে গেলে দেখবেন, রাস্তার ধারে সবজির মতোই কাজু বাদাম বিক্রি হচ্ছে। সত্যি বলতে কী, এখানকার অনেক সবজির থেকেও কাজুর দাম কম। কারণ এই গ্রামে প্রায় ৫০ একর জমিতে কাজু চাষ হয়। কিন্তু ফসল বাইরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করার মতো পরিকাঠামো নেই। তাই কৃষকরা কম দামেই কাজু বিক্রি করে দেন। আর সেই সুযোগে ব্যবসায়ীরা সস্তায় কিনে প্রায় ১০ গুণ বেশি দামে বাইরে বিক্রি করেন।
35
বাজারজাত করার মতো পর্যাপ্ত সুবিধা নেই
২০১০ সালের আগে এই গ্রামের কৃষকরা জানতেন না কোন ফসল চাষ করলে লাভ হবে। তখন বন বিভাগের আধিকারিকরা এখানকার জলবায়ু ও মাটি পরীক্ষা করে দেখেন যে এটি কাজু চাষের জন্য আদর্শ। তাঁরা কৃষকদের প্রশিক্ষণও দেন। এর পর থেকে এখানে বড় আকারে কাজু চাষ শুরু হয়। কিন্তু ফসল প্রক্রিয়াকরণ বা বাজারজাত করার সুবিধা না থাকায়, কৃষকরা আসল দামের চার ভাগের এক ভাগ দামে রাস্তার ধারে কাজু বিক্রি করতে বাধ্য হন।
২০১০ সালে জামতাড়া জেলার ডেপুটি কমিশনার ছিলেন আইএএস অফিসার কৃপানন্দ ঝা। তিনিই এই গ্রামের মাটি ও জলবায়ু পরীক্ষা করে কাজু চাষের উদ্যোগ নেন। কৃষি বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি এই প্রকল্পকে বাস্তব রূপ দেন। কিন্তু এত কিছুর পরেও কৃষকরা তেমন লাভ করতে পারেননি।
55
কাজু চাষিদের করুণ অবস্থা
এর মূল কারণ হল, এখানে কাজু প্রক্রিয়াকরণের জন্য কোনও প্লান্ট নেই। যদি একটি প্রসেসিং প্লান্ট থাকত, তবে এখান থেকেই কাজু বিদেশে রফতানি করা যেত এবং স্থানীয়দের কর্মসংস্থানও হত। কিন্তু সেদিকে কারও নজর নেই। তাই কৃষকরা সবজির সঙ্গে কাজুও রাস্তায় বিক্রি করছেন। আপনার কোনও বন্ধু ঝাড়খণ্ডে থাকলে, তাঁকে ১০০ টাকা দিয়ে এক ব্যাগ কাজু আনতে বলতে পারেন, যা দিয়ে আপনি সারা বছর খেতে পারবেন।