
বৃষ্টি পড়ছে। শাল-সেগুনের পাতা বেয়ে জল গড়াচ্ছে। জিপ থামল। গাইড ফিসফিস করে বলল, ‘চুপ। ওই দেখুন।’ ২০ হাত দূরে দাঁড়িয়ে একটা দাঁতাল। শুঁড় তুলে বৃষ্টির গন্ধ নিচ্ছে।
এটাই বর্ষার চিলাপাতা। জলদাপাড়ার পাশে ৩৫ বর্গ কিমির এই জঙ্গলকে বলে ‘ডুয়ার্সের ডার্ক ফরেস্ট’। গা ছমছমে, আদিম, ভেজা।
সবুজের সুনামি: বৃষ্টি পেয়ে জঙ্গল এত ঘন হয় যে দুপুরেও আঁধার নামে। ফার্ন, অর্কিড, মস – প্রতি ইঞ্চিতে জীবন।
নদী-জঙ্গল একাকার: তোর্সা, বানিয়া, কালজানি ফুলে ওঠে। জঙ্গলের বুক চিরে বয়ে যায়। ঘোলা জলের গর্জন আর হাতির ডাক মিশে যায়।
ওয়াইল্ডলাইফ সাইটিং: বর্ষায় জঙ্গলে জলের অভাব নেই। তাই হাতি, গন্ডার, বাইসন, হরিণ সব রাস্তার ধারে বেরোয়। পাখির ডাক ৩ গুণ বাড়ে। হর্নবিল, পিকক, ফিশিং ঈগল কমন।
ভিড় কম, দাম কম: পুজোর ভিড় নেই। হোটেল-সাফারি ৩০% সস্তা। জঙ্গলটা শুধু আপনার।
জিপ সাফারি: কোদালবস্তি রেঞ্জ থেকে সকাল ৬টা ও বিকেল ৩টে। ২ ঘণ্টা। মেন্দাবাড়ি ওয়াচ টাওয়ার, কদমতলা ওয়াচ টাওয়ার কভার করে। কপাল ভালো থাকলে রাইনো, লেপার্ড। হাতি ৯০% শিওর। ভাড়া ₹2500-₹3000 প্রতি জিপ, ৬ জন।
নল রাজার গড়: ৫০০ বছরের পুরনো কুচ রাজার দুর্গের ধ্বংসাবশেষ। জঙ্গলের মাঝে ভাঙা ইট, সুড়ঙ্গ। গাইড বলে, এখানেই নাকি গুপ্তধন লুকানো। গা শিরশির করবেই।
তোর্সা রিভারবেড: সাফারি শেষে তোর্সার চরে নামুন। ওপারে ভুটান পাহাড়, এপারে জঙ্গল। বৃষ্টিভেজা বোল্ডারে বসে চা খান।
রাবার গার্ডেন: চিলাপাতার লাগোয়া রাবার বাগান। সারি সারি গাছ, বাটিতে কষ জমছে। অন্যরকম ফটো পয়েন্ট।
৩. কীভাবে যাবেন? কোথায় থাকবেন?
ট্রেন: হাওড়া/শিয়ালদহ থেকে কাঞ্চনকন্যা, তিস্তা-তোর্সা ধরে হাসিমারা বা ফালাকাটা। সেখান থেকে গাড়ি ৪৫ মিনিট। ভাড়া ₹800-₹1200।
গাড়ি: শিলিগুড়ি থেকে NH-27 ধরে ৩ ঘণ্টা। রাস্তা মাখন। বর্ষায় ভিউ অসাধারণ।
১. ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেস্ট ডেভলপমেন্টের চিলাপাতা জঙ্গল ক্যাম্প: জঙ্গলের ভিতর। রাতে হাতির ডাক শুনবেন। ₹2500 থেকে শুরু, খাওয়া-সহ।
২. মেন্দাবাড়ি জঙ্গল ক্যাম্প: ওয়াচ টাওয়ারের পাশে। বারান্দায় বাইসন আসে। ₹3000 থেকে।
৩. কোদালবস্তি হোমস্টে: বাজেট অপশন ₹1200-₹1500। লোকাল খাবার, আন্তরিকতা ফ্রি।
৪. খরচ কত? ২ রাত ৩ দিনের বাজেট:
ট্রেন স্লিপার ₹700 আপ-ডাউন, গাড়ি শেয়ার ₹600, হোটেল ₹3000, সাফারি ₹500 পার হেড, খাওয়া ₹1200। মোট: ₹6000 পার হেড। গ্রুপে গেলে ₹4500-এ হয়ে যাবে।
১. জোঁক সাবধান: সাফারিতে নামলে সল্ট, স্নিকার্স, ফুল প্যান্ট মাস্ট।
২. ক্যামেরা বাঁচান: রেইন কভার, সিলিকা জেল নিন। হিউমিডিটি মারাত্মক।
৩. সাফারি বুকিং: বর্ষায় স্পট বুকিং হয়। তবু http://wbfdc.net থেকে আগেই কেটে রাখুন।
৪. ওষুধ: বমি, জ্বর, অ্যালার্জির ওষুধ, ওডোমস রাখুন।
৫. গাইড শুনুন: হাতি দেখলে চিৎকার নয়। সাইলেন্ট রাখুন ফোন। জঙ্গলের নিয়ম মানুন।
দার্জিলিং-গ্যাংটক তো অনেক হল। এবার বর্ষায় ২ দিনের ছুটিতে হারিয়ে যান চিলাপাতায়।
বৃষ্টির শব্দ, শালপাতার গন্ধ, হাতির পায়ের ছাপ – শহরের স্ট্রেস ধুয়ে যাবে। ফিরে এসে বলবেন, ‘বেঁচে আছি’।
কারণ বর্ষার জঙ্গল শুধু দেখার নয়, ফিল করার জায়গা।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News