
Narmada River: ভারতের বুক চিরে বয়ে গেছে অনেক নদী। কিন্তু তাদের মধ্যে নর্মদা একদম আলাদা। কারণ এর প্রতিটি ঢেউয়ের সাথে জড়িয়ে আছে বিশ্বাস, ইতিহাস আর প্রকৃতি। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে নর্মদার গুরুত্ব অপরিসীম। মনে করা হয় গঙ্গায় স্নান করলে পাপ ধোয়া যায়, কিন্তু নর্মদার নাম নিলেই পাপ নাশ হয়। তাই একে "রেবা" বা "মা নর্মদা" বলেও ডাকা হয়। মধ্যপ্রদেশের অমরকণ্টক থেকে শুরু করে এই নদী নানা দিক থেকে অনন্য। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি দেশের একমাত্র বড় নদী যা পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। বাকি বড় নদীগুলো পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। এই নদীর নাম নর্মদা।
নর্মদার জন্ম মধ্যপ্রদেশের অমরকণ্টকে। এখানে ছোট একটা কুণ্ড থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল বেরিয়ে ধীরে ধীরে বিশাল নদী হয়ে ওঠে। অমরকণ্টককে তাই "তীর্থরাজ" বলা হয়। এখান থেকেই শুরু হয় নর্মদার ১৩১২ কিমি লম্বা সফর। মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র আর গুজরাট - এই তিন রাজ্যের মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়ে শেষে গুজরাটের ভারুচের কাছে খাম্বাত উপসাগরে আরব সাগরে মিশেছে।
ভারতের গঙ্গা, যমুনা, গোদাবরী, কৃষ্ণা - সব বড় নদীই পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে বয়ে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। কিন্তু নর্মদা একেবারেই উল্টো। এটা পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে গিয়ে আরব সাগরে মিশেছে। এই কারণেই নর্মদাকে ভূগোলের দিক থেকেও অনন্য বলা হয়। মনে করা হয় বিন্ধ্য আর সাতপুরা পর্বতের মাঝখান দিয়ে একটা ফাটল বরাবর এই নদী বয়ে গেছে, তাই এর গতিপথ এমন।
হিন্দুদের মধ্যে "নর্মদা পরিক্রমা" খুব বিখ্যাত। ভক্তরা নর্মদার এক পাড় দিয়ে হেঁটে উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত যান, আবার অন্য পাড় দিয়ে ফিরে আসেন। এই পুরো যাত্রা ২৬০ কিমিরও বেশি। বিশ্বাস করা হয় এই পরিক্রমা করলে জীবনের সব পাপ মুক্ত হয়।
নর্মদার তীরে রয়েছে ওঙ্কারেশ্বর, মহেশ্বর, মণ্ডলেশ্বরের মতো বিখ্যাত শিব মন্দির। জব্বলপুরের কাছে ধুয়াঁধার জলপ্রপাত, মার্বেল রকের সৌন্দর্য - সব মিলিয়ে নর্মদা শুধু ধর্মের নদী না, প্রকৃতিরও এক অপূর্ব উপহার। নর্মদা আমাদের শেখায়, গতানুগতিকতার বাইরে গিয়েও নিজের পথ তৈরি করা যায়। তাই তো হাজার বছর ধরে কোটি মানুষ এই নদীকে মা বলে পুজো করে আসছে।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News