
“আমার বর না, একদম রাগ করে না। আমি যা বলি তাই শোনে।” বান্ধবীদের আড্ডায় গর্ব। ৬ মাস পর ডিভোর্স ফাইল। কেন? সাইকোলজিস্টরা বলছেন, “ঝগড়া না হওয়া মানে ভালোবাসা না। অনেক সময় মানে কেয়ারই না করা।”
৩০ পেরোনো কাপলদের নিয়ে ১০ বছরের স্টাডি বলছে, মাসে ১-২ বার হেলদি আর্গুমেন্ট যাদের হয়, তাদের রিলেশন ৭০% বেশি লাস্ট করে। আর যাদের “নেভার ফাইট” স্ট্যাটাস, তাদের ৬০% ৫ বছরের মধ্যে আলাদা হয়ে যায় বা ইমোশনালি ডেড হয়ে যায়। কারণটা সাইকোলজি।
ছোটবেলায় বাবা-মার ঝগড়া দেখে বড় হয়েছো? বা ব্রেকআপের ট্রমা আছে? ব্রেন শিখে নেয় “ঝগড়া = বিপদ”। তাই পার্টনার কিছু করলেও তুমি চুপ। “থাক, অ্যাডজাস্ট করে নিই”। মনে মনে রাগ, ক্ষোভ, এক্সপেক্টেশন জমতে থাকে। একদিন সিলিন্ডার ব্লাস্ট। তখন আর কথা বলে মেটে না। সাইকোলজিতে একে বলে “গানি ব্যাগ” - মনে মনে পয়েন্ট জমানো। হেলদি কাপলরা ছোট ইস্যু ছোট থাকতেই ডিসকাস করে। আনহেলদি কাপলরা জমিয়ে জমিয়ে ডিভোর্স লেটার বানায়।
অ্যাটাচমেন্ট থিওরি বলছে, যাদের ছোটবেলায় ইনসিকিওর অ্যাটাচমেন্ট ছিল, তারা বড় হয়ে পার্টনারকে খুশি রাখতে মরিয়া হয়ে যায়। “না” বলতে ভয় পায়। নিজের মত, ইচ্ছা, রাগ সব স্যাক্রিফাইস করে। “তুমি যা বলবে তাই”। পার্টনার ভাবে বাহ, কত আন্ডারস্ট্যান্ডিং। আসলে ওটা ভয়। “আমি রাগ দেখালে ও যদি আর ভালো না বাসে?” এই ইনসিকিউরিটি থেকে মানুষ পিপল-প্লিজার হয়ে যায়। রিলেশন টেকে, কিন্তু তুমি মরে যাও ভিতরে। একদিন রিয়ালাইজ করবে, তুমি তো নিজেই নেই এই রিলেশনে।
এটা সবচেয়ে ডেঞ্জারাস। ঝগড়া হয় কখন? যখন কেয়ার করো। এক্সপেক্ট করো। হার্ট হলে রাগ হয়। যখন কিছুই ফিল করো না, তখন ঝগড়াও হয় না। লিভ-ইন করছো, বিল শেয়ার করছো, সেক্সও হচ্ছে। কিন্তু ইমোশনালি রুমমেট। ও অফিস ট্যুরে গেলে খারাপ লাগে না। ওর প্রমোশন হলে এক্সাইটেড লাগে না। ও অন্য কাউকে টেক্সট করলেও জেলাস লাগে না। সাইকোলজিস্টরা একে বলে “ইমোশনাল ডিভোর্স”। লিগালি ম্যারেড, ইমোশনালি সিঙ্গেল। এই রিলেশনগুলো সবচেয়ে সাইলেন্টলি মরে।
একজন আলফা, একজন সাবমিসিভ। একজন ডিসাইড করে কোথায় খাবে, কোথায় ঘুরতে যাবে, কার সাথে মিশবে। অন্যজন শুধু “হ্যাঁ” বলে। বাইরে থেকে দেখে মনে হয় “ওয়াও, কত বোঝাপড়া”। ভিতরে চলছে কন্ট্রোল। সাবমিসিভ পার্টনারটা আস্তে আস্তে নিজের আইডেন্টিটি হারায়। রাগ হয়, কিন্তু প্রকাশ করে না। কারণ জানে লাভ নেই। উল্টে আরো ডমিনেশন হবে। এটা অ্যাবিউজের প্রথম ধাপ। নার্সিসিস্ট পার্টনাররা এটা খুব করে - তোমাকে গিল্ট ট্রিপ দিয়ে চুপ করিয়ে দেবে।
সাইকোলজিস্টরা বলছেন, “হেলদি ফাইট মানে চিৎকার না। হেলদি ফাইট মানে ‘আমি হার্ট হয়েছি’ বলতে পারা। ‘তোমার এই বিহেভিয়ার আমার পছন্দ না’ বলতে পারা। তারপর দুজন মিলে সলিউশন বের করা।” ঝগড়ার পর যদি আরো কাছাকাছি আসো, বুঝবে বন্ড স্ট্রং। ঝগড়ার পর যদি ৩ দিন কথা বন্ধ থাকে, ইগো চলে আসে, তাহলে থেরাপি লাগবে।
গটম্যান ইনস্টিটিউটের রিসার্চ - ৬৯% কাপল কনফ্লিক্ট কখনও সলভ হয় না। পার্সোনালিটি ডিফারেন্স। কিন্তু হ্যাপি কাপলরা ওই ৬৯% নিয়ে বাঁচতে শেখে। “তুমি ইন্ট্রোভার্ট, আমি এক্সট্রোভার্ট - মানিয়ে নেবো।” আনহ্যাপি কাপলরা ওই ৬৯% নিয়ে যুদ্ধ করে বা চেপে যায়।
তাহলে কী করবে? প্রথম, চেক করো তুমি কোন টাইপ। অ্যাভয়ড্যান্ট? ফিয়ারফুল? ডিসকানেক্টেড? সাবমিসিভ? দ্বিতীয়, ছোট ইস্যুতে কথা বলা প্র্যাকটিস করো। “আজকে তুমি ডিনার না করে শুয়ে পড়লে, আমার খারাপ লেগেছে” - এটা বলা ঝগড়া না, কমিউনিকেশন। তৃতীয়, “ফিল” স্টেটমেন্ট ইউজ করো। “তুমি সবসময় লেট করো” না বলে বলো “তুমি লেট করলে আমার অসম্মানিত লাগে”। চতুর্থ, কাপল থেরাপি ট্যাবু না। ৩০ পেরোলে ফিজিক্যাল চেকআপ করাও, রিলেশন চেকআপ কেন না?
ঝগড়া না হওয়া গর্বের না। ঝগড়া করে মিটিয়ে নেওয়া গর্বের। কারণ সেটার মানে তোমরা দুজনেই রিলেশনটায় ইনভেস্টেড। আগুন নেই মানে ছাই হয়ে গেছে, বা আগুন জ্বলেইনি।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News