দুনিয়ায় অনেক চাকরি আছে যেখানে মোটা টাকা বেতন মেলে। তবে খাটুনিও থাকে প্রচুর। কিন্তু আপনি কি জানেন, শুধু কুকুরের খাবার চেখে দেখেই লাখ লাখ টাকা আয় করা যায়? হ্যাঁ, এমন চাকরিও আছে!
আজকাল অনেকেই বাড়িতে কুকুর বা বিড়াল পোষেন। নিজের সন্তানের মতোই তাদের যত্ন নেন। বাড়ির খাবারের পাশাপাশি বাজার থেকে কেনা স্পেশাল খাবারও দেন পোষ্যদের।
28
পেট ফুড টেস্টার
সারা বিশ্বে এমন অনেক কোম্পানি আছে যারা এই খাবার তৈরি করে। আর এই কোম্পানিগুলোতেই রয়েছে এক অদ্ভুত চাকরি। শুনতে অবাক লাগলেও, 'পেট ফুড টেস্টার' পদের দারুণ চাহিদা রয়েছে। এই চাকরিতে আপনাকে কুকুর বা বিড়ালের খাবার চেখে দেখতে হবে। খাবারের মান কেমন, স্বাদ বা গন্ধ কেমন— সেটাই পরীক্ষা করে বলা আপনার কাজ।
38
কুকুরের খাবার কি গিলতে হবে?
কুকুরের খাবার খেতে হবে শুনেই ঘাবড়ে যাবেন না। পেট ফুড টেস্টাররা কিন্তু পেট ভরে এই খাবার খান না। এর পেছনে অনেক নিয়ম আছে। প্রথমে প্যাকেট বা ক্যান খোলার পর খাবারের গন্ধ কেমন, সেটা তারা পরীক্ষা করেন।
খাবারে তেল, নুন, মাংস বা সবজির মান বুঝতে ছোট একটা টুকরো মুখে দিয়ে স্বাদ নেন। স্বাদ বোঝার পর তারা খাবারটা গিলে ফেলেন না। সঙ্গে সঙ্গে বাইরে ফেলে দিয়ে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে নেন।
58
মানুষের কেন এই কাজ করতে হবে?
কুকুর তো আর কথা বলতে পারে না। খাবারে নুন কম বা ঠিকমতো সেদ্ধ হয়নি— এসব তারা বলতে পারে না। তাই মানুষের স্বাদকোরক কাজে লাগিয়ে কোম্পানিগুলো খাবারের মান যাচাই করে। পোষ্যদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় এবং তারা সুস্বাদু খাবার পায়, সেটাই এদের মূল দায়িত্ব।
68
বেতন কিন্তু মোটেও কম নয়
এই চাকরিতে বেতন কিন্তু মোটেও কম নয়। শুরুতে এই চাকরিতে যোগ দিলে বছরে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা বেতন পাওয়া যায়। আর অভিজ্ঞতা বাড়লে বেতন আরও বাড়ে। অনেক সিনিয়র টেস্টার বছরে ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন পান।
78
এই চাকরির যোগ্যতা কী?
এটা শুধু খাবার চেখে দেখার কাজ নয়, এর পেছনে বিজ্ঞান রয়েছে। ফুড টেকনোলজি বা নিউট্রিশন নিয়ে ডিগ্রি থাকলে তবেই এই চাকরি মেলে। ভালো ও খারাপ গন্ধ নিখুঁতভাবে বোঝার ক্ষমতা থাকতে হবে।
88
কী করা যাবে না
সবচেয়ে বড় কথা, ধূমপান বা মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে এই চাকরি পাওয়া যায় না। কারণ এসব অভ্যাস জিভ ও নাকের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।