
Chatakpur Tourism: বাতাসে পুজো পুজো গন্ধ। ফলে উৎফুল্ল রয়েছে সকলের মন। কেউ এখন থেকেই প্ল্যান করছেন পুজোর কটা দিন কে কোথায় ঠাকুর দেখবে। আবার কেউ কেউ আছেন পাহাড় বা সমুদ্র যাওয়ার প্ল্যান করছেন। আপনিও কি সমুদ্রের থেকে বেশি পাহাড় পছন্দ করেন? কিন্তু এবারে আর দার্জিলিংয়ের ভিড় চাইছেন না? তাহলে আজ আপনাদের এমন এক জায়গার সন্ধান দেব যেখানে গেলে আপনার শরীর ও মন দুটিই জুড়িয়ে যাবে। ভাবতে বাধ্য হবেন, কেন আগে এখানে আসেননি। আজ কথা হবে এমন এক পাহাড়ি গ্রাম নিয়ে যেখানে পরিবারের সংখ্যা মাত্র ১৯। কথা হচ্ছে চটকপুর (Chatakpur) নিয়ে।
দার্জিলিং থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে, সোনাদা আর টাইগার হিলের মাঝে অবস্থিত এই গ্রাম। উচ্চতা প্রায় ৭৮৮৭ ফুট। এটি সিঞ্চল অভয়ারণ্যের (Senchal Wildlife Sanctuary) মধ্যে পড়ে। তাই এই গ্রামে ঢুকতে হলে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের অনুমতি নিতে হয় এবং এখানে ১৯টি পরিবারের বাইরে কেউ নতুন বাড়ি বানাতে পারেন না। সেই কারণেই গ্রামটি আজও এতটা ভার্জিন, এতটা পরিষ্কার।
১. কাঞ্চনজঙ্ঘার ১৮০ ডিগ্রি ভিউ: এখানকার প্রতিটি হোমস্টের বারান্দা থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘার যে ভিউ পাওয়া যায়, তা দার্জিলিং শহর থেকেও পাওয়া যায় না। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপ হাতে স্লিপিং বুদ্ধের ঘুম ভাঙা দেখার অভিজ্ঞতা সারাজীবন মনে থাকবে।
২. পাইন বনের জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া: পুরো গ্রামটা ঘন পাইন, ওক আর রডোডেনড্রন জঙ্গলে ঘেরা। সকাল বিকেল এই জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হাঁটা, পাখির ডাক শোনা, আর মেঘের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া - এটাই এখানকার আসল মজা।
৩. কোনও গাড়ির হর্ন নেই, শুধু নিস্তব্ধতা: এখানে কোনও হোটেল নেই, শুধু কয়েকটি হোমস্টে। কোনও মার্কেট নেই, কোনও দোকানের ভিড় নেই। রাতে আকাশ ভরা তারা আর দিনে মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরি। শহরের কোলাহল থেকে ডিটক্স করার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হয় না।
যাওয়ার উপায়: এনজেপি বা শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি ভাড়া করে সোনাদা হয়ে চটকপুর পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৩ ঘণ্টা। শেষ ১ কিলোমিটার রাস্তা একটু খারাপ, কিন্তু সেই খারাপ রাস্তাই আপনাকে ভিড় থেকে দূরে রাখবে।
থাকার ব্যবস্থা: এখানে থাকার একমাত্র উপায় হোমস্টে। ১৯টি পরিবারের প্রায় প্রত্যেকেই হোমস্টে চালান। ভাড়া মাথাপিছু ১২০০-১৬০০ টাকা, থাকা ও খাওয়া সহ। গরম গরম ভাত, ডাল, ডিমের কারি, আর হোমস্টের আন্তরিকতা আপনার মন জয় করে নেবে।
পুজোর ছুটিতে বুকিং: পুজোর সময় চটকপুরে প্রচণ্ড চাহিদা থাকে। তাই এখন থেকেই হোমস্টে বুক করে রাখুন। একটা টিপস - চটকপুরে গিয়ে একদিন টাইগার হিল, তিনচুলে, লামাহাটা ঘুরে আসতেও পারেন।
এবার পুজোয় যদি সত্যিই নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে চান, তাহলে ভিড় ঠেলে দার্জিলিং ম্যাল নয়, চলে যান চটকপুরে। কথা দিচ্ছি, ফিরে আসতে মন চাইবে না।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News