একই দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং ঘুরে বোর হয়ে গেছেন? ভিড় ছাড়া শান্ত পাহাড় খুঁজছেন? তাহলে আপনার জন্য আদর্শ উত্তরবঙ্গের ছোট্ট গ্রাম শিঞ্জি। কালিম্পং থেকে মাত্র কিছু দূরে এই ছিমছাম গ্রামে ২ দিন কাটালেই মন চাঙ্গা। রইল সম্পূর্ণ গাইড।

পাহাড় ভালোবাসেন, কিন্তু ছুটি পেলেই দার্জিলিং ম্যালে গিয়ে ভিড় ঠেলতে আর ভালো লাগে না? কালিম্পং-এর সেই চেনা হোমস্টে, চেনা ভিউপয়েন্টও এখন একঘেয়ে। যদি এমন একটা জায়গা খোঁজেন যেখানে সকালে ঘুম ভাঙবে পাখির ডাকে, জানলা খুললেই কাঞ্চনজঙ্ঘা, আর মোবাইলে নেটওয়ার্ক নেই বলে কেউ বিরক্ত করবে না, তাহলে আজকের ঠিকানা শিঞ্জি (Sinjee)।

কালিম্পং জেলার একদম অফবিট, এখনও পর্যটনের ভিড়ে নষ্ট না হওয়া এক টুকরো স্বর্গ এই শিঞ্জি।

কোথায় এই শিঞ্জি? শিঞ্জি কালিম্পং শহর থেকে মাত্র ২০-২২ কিমি দূরে, লাভা যাওয়ার রাস্তায়। উচ্চতা প্রায় ৪৫০০ ফুট। শিলিগুড়ি থেকে গাড়িতে সময় লাগে ৩ থেকে ৩.৫ ঘণ্টা। রাস্তার শেষ অংশটা একটু কাঁচা, কিন্তু চারপাশে পাইন বন, কমলালেবুর বাগান আর নিস্তব্ধতা আপনাকে সব কষ্ট ভুলিয়ে দেবে।

কেন যাবেন শিঞ্জিতে?

১. ভিড়হীন কাঞ্চনজঙ্ঘা: এখানকার প্রায় প্রতিটি হোমস্টে থেকেই আকাশ পরিষ্কার থাকলে ঝকঝকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। কোনও হোটেলের ছাদে উঠে লাইন দিতে হবে না, নিজের ঘরে বসেই চা খেতে খেতে সানরাইজ।

২. শরীর-মন ডিটক্স: এখানে কোনও সাইটসিয়িং-এর তাড়া নেই। সকালে গ্রামের রাস্তায় হাঁটুন, স্থানীয় তামাং ও লেপচা পরিবারের সঙ্গে গল্প করুন, জৈব সবজি দিয়ে রান্না করা গরম ভাত খান। দুপুরে একটা বই নিয়ে পাইন বনের নিচে বসে থাকুন। স্ট্রেস কাকে বলে ভুলে যাবেন।

৩. আশেপাশে ঘোরার জায়গা: শিঞ্জিকে বেস করে একদিনে ঘুরে আসতে পারেন ছাঙ্গে ফলস, লাভা মনাস্ট্রি, কোলাখাম বা নেওড়া ভ্যালি ফরেস্টের একটা অংশ। পাখি প্রেমীদের জন্য এটি স্বর্গ, এখানে প্রচুর হিমালয়ান পাখি দেখা যায়।

কোথায় থাকবেন, খরচ কত? শিঞ্জিতে এখন ৪-৫টি সুন্দর হোমস্টে তৈরি হয়েছে। থাকা-খাওয়া নিয়ে জনপ্রতি খরচ পড়বে দিনে ১২০০-১৫০০ টাকা। খুব বিলাসিতা পাবেন না, কিন্তু গরম জল, পরিষ্কার ঘর, আর আন্তরিক আতিথেয়তা পাবেন ১০০%।

কীভাবে যাবেন? শিয়ালদহ থেকে রাতের ট্রেনে NJP। NJP বা শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি বুক করে সরাসরি শিঞ্জি। চাইলে কালিম্পং পর্যন্ত শেয়ারে এসে সেখান থেকে হোমস্টের গাড়ি নিতে পারেন। বর্ষার পর অক্টোবর থেকে মার্চ হল শিঞ্জি যাওয়ার সেরা সময়।

দুদিনের ছুটি হাতে থাকলে এবার আর দার্জিলিং নয়, একবার শিঞ্জি ঘুরে আসুন। কথা দিচ্ছি, ফিরে এসে বলবেন - এই শান্তিটাই তো খুঁজছিলাম।