
আমরা ছোট থেকে শুনে এসেছি হার্ট অ্যাটাক মানেই বুকে হাত দিয়ে কাতরানো। কিন্তু সত্যিটা হল, অনেক হার্ট অ্যাটাক একদম চুপচাপ আসে। কোনো বড় সতর্কবার্তা দেয় না। ডাক্তাররা একে বলেন "Silent Heart Attack"। আর সবচেয়ে ভয়ের কথা, মহিলা, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের মধ্যে এই নীরব অ্যাটাক সবচেয়ে বেশি হয়।
১. চরম ক্লান্তি, যার কোনো যুক্তি নেই আগে অফিসের ২ তলা সিঁড়ি এক দৌড়ে উঠে যেতেন, এখন এক তলাতেই দম ফুরিয়ে যাচ্ছে? রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সকালে মনে হচ্ছে যেন একটুও ঘুম হয়নি? এটা শুধু কাজের চাপ নয়। যখন হার্ট ঠিকমতো রক্ত পাম্প করতে পারে না, তখন আপনার পেশি এবং ব্রেনে অক্সিজেন কম পৌঁছায়। ফলেই আসে এই অদ্ভুত, অস্বাভাবিক ক্লান্তি। "বয়স হচ্ছে" বলে একে চাপা দেবেন না।
২. শ্বাসকষ্টের সাথে ঠান্ডা, চিটচিটে ঘাম কোনো ভারী কাজ করছেন না, তবুও হঠাৎ মনে হচ্ছে দম বন্ধ হয়ে আসছে? রাতে ঘুম ভেঙে যাচ্ছে কারণ নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে? আর কপালে, ঘাড়ে বিন্দু বিন্দু ঠান্ডা ঘাম? এটা হার্টের পাম্প দুর্বল হয়ে পড়ার সবচেয়ে বড় লাল ঝান্ডা। হার্ট যখন শরীরে রক্ত পাঠাতে পারে না, তখন ফুসফুসে জল জমে এবং ঘাম হয়। আপনি যদি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আরও বিভিন্ন ধরনের বিষয় জানতে চান, তাহলে এই লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করতে পারেন-
১) Food Safety: ফুড পয়জনিং এড়াতে চান? এই খাবারগুলো এই ক'দিনের বেশি রাখবেন না
২) ডায়াবেটিস থাকলেও ভাত-রুটি ছাড়বেন না! এই ১টি নিয়ম মানলেই ভরপেট খেয়েও সুগার থাকবে কন্ট্রোলে
৩. বুকে নয়, ব্যথা ছড়াচ্ছে অন্য জায়গায় বুক ঠিক আছে, কিন্তু নিচের চোয়ালটা কামড়ে ধরার মতো ব্যথা? গলা টিপে ধরেছে মনে হচ্ছে? পিঠের ঠিক মাঝখানে বা দুই কাঁধের মধ্যে ভারী পাথর চাপা? এমনকি বাঁ হাতটা ঝিনঝিন করছে? ডাক্তারি ভাষায় একে Referred Pain বলে। অনেকেই এটাকে গ্যাস, সার্ভাইক্যাল বা মাসল পেইন ভেবে ভুল ওষুধ খান।
৪. পেটের গণ্ডগোল, বমি ভাব এবং বুক জ্বলা দুপুরে হালকা ভাত খেয়েছেন, অথচ মনে হচ্ছে পেট ফেটে যাচ্ছে? ঢেঁকুর উঠছে, বমি বমি পাচ্ছে, বুকের মাঝখানে জ্বলছে কিন্তু অ্যাসিডিটির কোনো কারণ নেই? বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাকের প্রথম লক্ষণ এটাই হয়। একে "ফুড পয়জনিং" ভেবে ঘরোয়া টোটকা করতে গিয়ে দেরি করে ফেলবেন না।
৫. হঠাৎ মাথা ঘোরা এবং তাল হারিয়ে ফেলা দাঁড়িয়ে ছিলেন, হঠাৎ চারপাশ ঘুরছে? চোখে অন্ধকার দেখছেন? মনে হচ্ছে এখনই পড়ে যাবেন? হার্ট যখন ব্রেনে পর্যাপ্ত রক্ত পাঠাতে পারে না, তখনই এমন হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। আপনি যদি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত আরও বিভিন্ন ধরনের বিষয় জানতে চান, তাহলে এই লিঙ্কগুলোতে ক্লিক করতে পারেন-
তাহলে কখন হাসপাতাল যাবেন? উপরের ২টি বা তার বেশি লক্ষণ যদি একসাথে ৫ মিনিটের বেশি থাকে, তাহলে আর ভাববেন না। সঙ্গে ১০৮ ডায়াল করুন বা নিকটবর্তী হাসপাতালে যান। মনে রাখবেন, "দেরি" শব্দটাই এখানে সবচেয়ে বড় শত্রু। একটা ECG-ই বলে দিতে পারে আপনার হার্টের আসল অবস্থা।
হার্ট সবসময় চিৎকার করে বিপদ জানায় না। অনেক সময় সে খুব আস্তে, ফিসফিস করে ডাকে। সেই ডাকটা শুনতে পারাটাই হল বেঁচে থাকার আসল চাবি।
৪০ বছর বয়সের পর প্রতি বছর একবার প্রেসার, সুগার, কোলেস্টেরল এবং ECG করানোকে অভ্যাসে পরিণত করুন।
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News