কোনও নোটিফিকেশন বা মেসেজ আসেনি, তাও বারবার ফোনটা হাতে তুলে দেখছেন? এটা শুধু আপনার অভ্যেস নয়। এর পিছনে রয়েছে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ। আসুন, জেনে নেওয়া যাক কেন আমাদের বারবার ফোন চেক করতে ইচ্ছে করে।
আজকাল অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রথম ফোন দেখেন। আবার রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগেও শেষবার ফোন চেক করে নেন। অনেক সময় কোনও নোটিফিকেশন না এলেও আমরা ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকি। কেন এমন হয়? মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন, আসুন বিস্তারিত জেনে নিই।
27
নতুন কিছু জানার জন্য
মনস্তত্ত্ব অনুযায়ী, আমাদের মস্তিষ্ক সবসময় নতুন কিছু জানতে চায়। একে 'কিউরিওসিটি ড্রাইভ' বলে। নতুন বা আকর্ষণীয় তথ্য পেলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নামে একটি রাসায়নিক বের হয়। এটি একটি 'ফিল-গুড' কেমিক্যাল। ফোনে মেসেজ, লাইক বা কমেন্ট এলেই আমরা সামান্য আনন্দ পাই। সেই অনুভূতিটা আবার পাওয়ার জন্য আমরা বারবার ফোন চেক করি।
37
অনিশ্চয়তার কারণে...
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল 'ভেরিয়েবল রিওয়ার্ড সিস্টেম'। এটি মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করার একটি শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক নীতি। প্রতিবার ফোন খুললেই যে আকর্ষণীয় কিছু পাওয়া যাবে, তা নয়। কিন্তু মাঝে মাঝে কোনও জরুরি মেসেজ বা মজার ভিডিও চোখে পড়ে। এই অনিশ্চয়তার কারণেই আমাদের মস্তিষ্ক ভাবে, 'এবার হয়তো বিশেষ কিছু থাকতে পারে'। আর সেই কারণেই আমরা বারবার ফোন চেক করি।
বন্ধুবান্ধব বা সহকর্মীরা নতুন কোনও বিষয় নিয়ে কথা বললে, আর সেটা আমাদের জানা না থাকলে, নিজেদের পিছিয়ে পড়া মনে হয়। এই কারণেই আমরা সবসময় সোশ্যাল মিডিয়া, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য অ্যাপ চেক করতে থাকি। কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিস করে যাওয়ার ভয় আমাদের ফোনের প্রতি আরও বেশি নির্ভরশীল করে তোলে।
57
অ্যাপগুলির প্রভাব
বেশিরভাগ অ্যাপ আমাদের মনস্তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করেই ডিজাইন করা হয়। যেমন নোটিফিকেশনের রঙ, স্ক্রোল করার পদ্ধতি, লাইক-কমেন্টের সিস্টেম—সবই এমনভাবে তৈরি যাতে ইউজাররা বেশি সময় কাটান। বিশেষ করে লাল রঙের নোটিফিকেশন আমাদের মনোযোগ দ্রুত আকর্ষণ করে। ওগুলো দেখলেই ফোনটা খুলতে ইচ্ছে করে। এছাড়া, একটু ফাঁকা সময় পেলেই অনেকে নিজের অজান্তেই ফোন হাতে তুলে নেন। এই অভ্যাসই ধীরে ধীরে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে যায়।
67
একাকীত্বের কারণে...
মানসিক চাপ, একাকীত্ব বা বোর লাগলেও আমরা ফোন ব্যবহার করি। কারণ ফোন সাময়িকভাবে আমাদের মনোযোগ অন্য দিকে সরিয়ে দেয়। সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও বা গেম কিছুক্ষণের জন্য বিনোদন দেয়। এতে আমরা কিছুটা রিল্যাক্সড বোধ করি। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি ফোন ছাড়া থাকতে না পারার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
77
ফোন ব্যবহার কমাতে হলে...
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার দরকার নেই, তবে নিয়ন্ত্রণ জরুরি। অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করা, নির্দিষ্ট সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া দেখা এবং ঘুমোনোর আগে ফোন দূরে রাখা—এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই ভালো ফল দেয়। এছাড়া বই পড়া, ব্যায়াম করা বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটালে ফোনের ওপর নির্ভরতা কমে।