
আড্ডা জমে উঠলেই দেখা যায় কেউ কেউ হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছে। প্রশ্ন হল, পুরুষরা বেশি হাসেন নাকি মহিলারা? চোখ বন্ধ করে বেশিরভাগ মানুষই বলবেন ‘মেয়েরা’। কারণ মেয়েরা নাকি বেশি প্রাণখোলা। কিন্তু মনোবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, বাস্তবটা একদম আলাদা।
*গবেষণা কী বলছে?*
১৯৯০ সালে মনোবিজ্ঞানী ড. রবার্ট প্রোভাইন ১২০০ জন মানুষের উপর সমীক্ষা করেন। তিনি দেখেন, কথা বলার সময় *মহিলারা পুরুষদের তুলনায় ১২৬% বেশি হাসেন*। অর্থাৎ মেয়েরা হাসেন বেশি। কিন্তু আসল টুইস্টটা অন্য জায়গায়।
*পুরুষরা হাসেন কম, হাসান বেশি।* একই গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা মহিলাদের তুলনায় ৬২% বেশি কৌতুক বা মজার কথা বলেন। মেয়েরা মূলত ‘শ্রোতা’ হিসেবে বেশি হাসেন, আর ছেলেরা ‘পারফর্মার’ হিসেবে অন্যকে হাসাতে পছন্দ করেন।
*কারণটা কী?*
ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ডের গবেষণা বলছে, এর পিছনে আছে বিবর্তন ও সামাজিক কারণ। আদিম যুগে পুরুষদের শিকার করতে বা দলকে নেতৃত্ব দিতে ‘সামাজিক বন্ধন’ তৈরি করতে হত। হাসানো ছিল অন্যকে নিজের দলে টানার কৌশল। মেয়েরা আবার দলবদ্ধভাবে বাচ্চা মানুষ করতেন, সেখানে সহমর্মিতা দেখাতে বেশি হাসতেন।
*কখন কে বেশি হাসে?*
*১. প্রেমের সম্পর্কে:* ছেলেরা যখন মেয়েদের ইমপ্রেস করতে চায়, তখন বেশি জোকস বলেন। মেয়েরা যদি ছেলেটিকে পছন্দ করে, তাহলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ গুণ বেশি হাসে। এটা অবচেতনে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেওয়া।
*২. বন্ধুদের আড্ডায়:* ছেলেদের গ্রুপে খোঁচা মেরে, একে অপরকে পচিয়ে হাসির রোল ওঠে। মেয়েদের গ্রুপে গল্প বলে, অভিজ্ঞতা শেয়ার করে হাসি আসে।
*৩. স্ট্রেসের সময়:* মেয়েরা দুশ্চিন্তা কমাতে, পরিস্থিতি হালকা করতে বেশি হাসেন। ছেলেরা টেনশনে বরং চুপ হয়ে যান।
*মজার তথ্য:* স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ২০০৫ সালের MRI স্ক্যান রিপোর্ট বলছে, মেয়েদের মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সেন্টার’ ছেলেদের চেয়ে জোকস শুনে বেশি সক্রিয় হয়। তাই মেয়েরা সহজে হাসেন। আর ছেলেদের মস্তিষ্ক ‘মজার জিনিস বানাতে’ বেশি সক্রিয়।
তাহলে উত্তরটা কী দাঁড়াল? *সংখ্যায় মেয়েরা বেশি হাসেন, কিন্তু পুরুষরা বেশি হাসান।* আপনার অভিজ্ঞতা কী বলে?
Lifestyle Tips & Articles in Bangla (লাইফস্টাইল নিউজ): Read Lifestyle Tips articles & Watch Videos Online - Asianet Bangla News