ডায়াবেটিস ধরা পড়লেই সবার প্রথমে মিষ্টি, রসগোল্লা, সন্দেশ সব বাদ। কিন্তু মন কি মানে? মিষ্টির ক্রেভিং উঠলে মাথা খারাপ হয়ে যায়। সমাধান আছে। রিফাইন্ড চিনি, ময়দা বাদ দিয়ে বাড়িতেই বান এই ৪টি ডেজার্ট। ডায়াবেটিস মানেই মিষ্টি বারণ - এই ভুল ধারণা এবার ভাঙুন।
ডাক্তাররা যখন "চিনি বাদ" বলেন, তখন "সাদা চিনি বাদ" বোঝান। গুড়, খেজুর, স্টেভিয়া, ফলের প্রাকৃতিক মিষ্টতা খাওয়া যায়। আসল শত্রু হলো হাই GI ফুড। সাদা চিনি, ময়দা, সাদা চাল - এগুলো খেলে ১০ মিনিটে রক্তে সুগার ঢুকে যায়। ফলে ইনসুলিন হিমশিম খায়। নিচের ৪টি ডেজার্টের GI কম। ফাইবার, প্রোটিন, হেলদি ফ্যাট বেশি। তাই সুগার ধীরে ধীরে রক্তে মেশে। টাইপ-২ ডায়াবেটিস থাকলে দিনে ১বার, পরিমাণ মেনে খেতেই পারবেন।

ডেজার্ট ১: চিয়া সিড পুডিং - "পেটও ভরবে সুগারও কমবে" উপকরণ: ৩ চামচ চিয়া সিড, ১ কাপ টক দই/বাদাম দুধ, ৪-৫টা খেজুর কুচি, সামান্য দারুচিনি গুঁড়ো, উপরে বাদাম কুচি কেন ভালো: চিয়া সিডে দ্রবণীয় ফাইবার আছে যা জেলের মতো ফুলে যায়। সুগার অ্যাবসর্বশন ৫০% স্লো করে দেয়। ওমেগা-৩ হার্টও ভালো রাখে। খেজুর দিলে এক্সট্রা চিনির দরকার নেই। বানাবেন কীভাবে: রাতে শোওয়ার আগে সব উপকরণ কাঁচের বয়ামে মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন। সকালে উঠে দেখবেন পুডিং রেডি। উপর থেকে বাদাম ছড়িয়ে দিন। ক্রেভিং মিটবে, সুগারও স্টেবল থাকবে।
ডেজার্ট ২: বাদাম-কোকো এনার্জি বল - "১টা = ১টা লাড্ডুর তৃপ্তি" উপকরণ: ১ কাপ ভেজানো আমন্ড/কাজু, ২ চামচ আনসুইটেন্ড কোকো পাউডার, ৫টা নরম খেজুর, সামান্য নারকেল কোরা, এক চিমটি নুন কেন ভালো: বাদামের প্রোটিন + হেলদি ফ্যাট সুগার স্পাইক আটকায়। কোকোতে ফ্ল্যাভোনল আছে যা ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়। মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা মিটে যায়। বানাবেন কীভাবে: মিক্সিতে সব পেস্ট করে ছোট ছোট বল বান। নারকেল কোরা গড়িয়ে নিন। এয়ারটাইট বয়ামে ১ সপ্তাহ রাখা যাবে। বিকেলের চায়ের সাথে ১-২টো খান।
ডেজার্ট ৩: পাকা পেঁপে-অ্যাভোকাডো মাউস - "চকলেট মাউসের জমজ ভাই" উপকরণ: ১ কাপ পাকা পেঁপে কুচি, আধখানা পাকা অ্যাভোকাডো, ১ চামচ চিনাবাদাম মাখন, আধ চামচ এলাচ গুঁড়ো, ২টো খেজুর কেন ভালো: পেঁপের ফাইবার হজমে সাহায্য করে। অ্যাভোকাডোর মোনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট সুগার স্টেবল রাখে। টেক্সচার একদম দোকানের চকলেট মাউসের মতো। বাচ্চা-বড় সবাই খাবে। বানাবে কীভাবে: সব উপকরণ ব্লেন্ডারে ঘুরিয়ে নিন। ৩০ মিনিট ফ্রিজে সেট করুন। উপর থেকে কোকো নিবস ছড়িয়ে দিন। ডায়াবেটিস আছে কেউ বুঝতেই পারবে না।
ডেজার্ট ৪: ওটস-আপেল ক্রাম্বল - "গরম গরম কমফোর্ট ফুড" উপকরণ: ১টা বড় আপেল কুচি, আধ কাপ রোল্ড ওটস, দারুচিনি গুঁড়ো, ১ চামচ ঘি, ৫টা কিশমিশ অপশনাল কেন ভালো: ওটসের বিটা-গ্লুকান ইনসুলিন সেনসিটিভিটি ২০% পর্যন্ত বাড়ায়। আপেলের পেকটিন ফাইবার সুগার অ্যাবসর্বশন স্লো করে। শীতকালে এটা ম্যাজিকের মতো কাজ করে। বানাবেন কীভাবে: আপেল ঘিয়ে হালকা ভেজে দারুচিনি দিন। উপর থেকে ওটস ছড়িয়ে ঢেকে ১০ মিনিট লো ফ্লেমে সেঁকুন। গরম গরম খান। একদম আপেল পাইয়ের ফিল।
ডায়াবেটিসে ডেজার্ট খাওয়ার ৩টি সোনার নিয়ম: ১. পরিমাণই আসল: ১ বাটি পুডিং বা ২টো এনার্জি বল - ব্যাস। প্লেট ভরে খেলে সুগার বাড়বেই। হাতের মুঠো = ১ সার্ভিং। ২. সময় মেনে খান: খালি পেটে বা ঘুমানোর আগে মিষ্টি একদম না। ভাত-ডাল-সবজি-প্রোটিন খাওয়ার পর ডেজার্ট খেলে স্পাইক ৭০% কম হয়। ৩. নিজেকে টেস্ট করুন: নতুন ডেজার্ট ট্রাই করার পর ২ ঘণ্টা বাদে সুগার মাপুন। আপনার শরীর কোনটায় ভালো রেসপন্স দেয় সেটা নিজেই বুঝে যাবেন।
৩টি কমন ভুল যা ডায়াবেটিস রোগী করে: ১. "সুগার ফ্রি" বিস্কুট-কেক খাওয়া: ওতে ময়দা আর আর্টিফিশিয়াল সুইটনার থাকে। সুগার আরও বাড়ায়। ২. ফল মানেই ভালো ভাবা: কলা, আঙুর, লিচু - এগুলো হাই GI। আম, জাম, পেয়ারা, পেঁপে বেছে খান। ৩. একবারে অনেক খাওয়া: "আজ খাই কাল থেকে বাদ" - এই মেন্টালিটি সুগারকে রোলার কোস্টার বানায়।
শেষ কথা ডায়াবেটিস মানে জীবন থেকে আনন্দ বাদ না। মানে হলো স্মার্ট চয়েস। মিষ্টি খাওয়া বন্ধ করবেন না, মিষ্টির ধরন বদলান। এই ৪টি ডেজার্ট আপনার ডায়েটে রাখুন। জিভ খুশি, মন খুশি, রিপোর্টও খুশি। আপনার HbA1c, ওষুধ, ইনসুলিনের ডোজের উপর ডায়েট নির্ভর করে। নতুন কিছু ডায়েটে যোগ করার আগে নিজের ডাক্তার/ডায়েটিশিয়ানের সাথে একবার কথা বলে নিন। সুগার লেভেল রোজ মনিটর করুন।


