আপনার শিশু আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত নয় তো! জানুন লক্ষণ আর প্রাথমিক চিকিৎসা

Published : Apr 01, 2025, 10:05 PM IST
Arthritis

সংক্ষিপ্ত

child care: ১৬ বছরের নীচে শিশু ও কিশোর - কিশোরীদের যে আর্থ্রাইটিস হয়, তাকে ‘জুভেনাইল ইডিওপ্যাথিক আর্থ্রাইটিস’ বলা হয়। আগে বলা হত ‘জুভেনাইল রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস’। 

child care: ১৬ বছরের নীচে শিশু ও কিশোর - কিশোরীদের যে আর্থ্রাইটিস হয়, তাকে ‘জুভেনাইল ইডিওপ্যাথিক আর্থ্রাইটিস’ বলা হয়। আগে বলা হত ‘জুভেনাইল রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস’। প্রথমে গ্রোথ পেন ভেবে ভুল করেন অনেক মা বাবাই। আগে বাত বা আর্থ্রাইটিস কেবল প্রাপ্তবয়স্কদেরই হয় এমনটাই মনে করা হতো। এখন ১৬ বছরের নিচে যেকোনো বাচ্চাদের মধ্যে আজকাল আর্থাইটিসের সম্ভাবনা বাড়ছে। শিশুদের বাত কিন্তু বিরল রোগের মধ্যেই পড়ে। সারানোর পদ্ধতিও সহজ নয়। ১০ থেকে ২০ শতাংশ শিশুর সিস্টেমিক আর্থ্রাইটিস হতে দেখা যায়। সারা শরীরেই ব্যথা হয়। হাত, পা, কনুইতে বেশি যন্ত্রণা হয়। ঘন ঘন জ্বর আসতে থাকে। হার্ট, লিভার, কিডনিরও ক্ষতি হতে পারে।আচমকা জ্বর, গায়ে ব্যথা আর তার পরেই ধরা পড়ে আর্থ্রাইটিস।

জুভিনাইল আর্থাইটিস মূলত এক প্রকার auto immune disorder। শরীরের রোগ প্রতিরোধী কোষগুলি (ইমিউন কোষ) অনেকসময় অন্যান্য সুস্থ কোষের উপর আক্রমণ করতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে ইমিউন সিস্টেম কিছু অ্যান্টিবডি (প্রোটিন) তৈরি করে, যা দেহের সুস্থ কোষগুলিকে নষ্ট করতে থাকে। তখন শরীরে প্রদাহ বাড়ে এবং পেশিতে ও অস্থিসন্ধিতে ব্যাথা শুরু হয়।

ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেল্‌থের শিশুরোগ চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কর পালের মতে, “ভ্যাস্কুলাইটিস বা কাওয়াসাকি দিয়ে শুরুটা হয় অনেক শিশুর। এই অসুখের শুরুতে ১০২ ডিগ্রি বা তারও বেশি জ্বর হয়। তিন দিন বা তারও বেশি সময় ধরে জ্বর চলতে থাকে। ঠোঁট ও চোখ লাল হয়ে যায়। শরীরের গ্রন্থিগুলি ফুলে ওঠে। মাল্টিপল সিস্টেম ইনফ্ল্যামেটরি সিনড্রোম দেখা দেয়। যার থেকে শরীরের নানা অঙ্গের ক্ষতি হতে থাকে। হার্টের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মায়োকার্ডাইটিস হতে পারে এবং এর থেকে পরবর্তী কালে আর্থ্রাইটিসও হয়।”

জুভিনাল আর্থ্রাইটিসের সাধারণ লক্ষণসমূহ :

১. সকালে জয়েন্টে ব্যথা: ঘুম থেকে ওঠার পরে জয়েন্টে ব্যাথা হয়। বেলা গড়িয়ে বিকেল হলে ব্যাথাও স্বাভাবিক হয়ে যায়।

২. জয়েন্ট ফোলা এবং ব্যথা: ছোট বাচ্চারা ব্যথার অভিযোগ নাও করতে পারে অনেক সময়ে। কিন্তু বিরক্তভাব, ক্লান্তি এবং খেলাধুলায় অনিচ্ছা দেখাতে পারে। লিম্ফ নোড ফোলা ঘাড় এবং শরীরের অন্যান্য অংশের অস্থিসন্ধিও ফুলে যেতে পারে।

৩. অলিগোআর্থ্রাইটিস : অলিগোআর্থ্রাইটিসেরক্ষেত্রে হাঁটু, কনুই, পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা হয়। শরীরে সি-রিঅ্যাকটিভ প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে যায়, রক্তচাপ বাড়ে, ফলে সারা শরীরে ব্যথা হতে থাকে। চোখে তীব্র প্রদাহ হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের আর্থ্রাইটিসই বেশি দেখা যায়।

৪. পেশীর দূর্বলতা : পেশী এবং জয়েন্টের চারপাশে নরম টিস্যু থাকে যা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। শিশু স্বাভাবিকভাবে দৌড়ঝাপ এবং খেলাধুলা না করলে বাতের ব্যাথা বাড়ে আরও।

৫. জ্বর এবং ফুসকুড়ি: কিছু ক্ষেত্রে আর্থাইটিস হলে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শিশুদের উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বর এবং হালকা গোলাপী ফুসকুড়ি হয় জ্বরের সময়।

৬. বৃদ্ধির সমস্যা: এই রোগে শিশুদের মধ্যে অস্থিসন্ধির খুব দ্রুত বা খুব ধীরে, অসমভাবে বা একপাশে বাড়তে পারে, একটি পা বা হাত অন্যটির চেয়ে লম্বা বা বৃদ্ধি কমে গিয়ে ছোটো হয়ে যেয়ে পারে। সামগ্রিক বৃদ্ধিও ধীর হতে পারে।

৭. পলিআর্থ্রাইটিসে চোয়াল ও গালে ব্যথা হয়। খাবার চিবোতে, গিলতে সমস্যা হতে পারে। ছেলেদের থেকে মেয়েদের এই রোগ বেশি হয়।

৮. বাতের ব্যথার পাশাপাশি ত্বকে আঁশের মতো র‍্যাশ বা সোরিয়াসিস দেখা দেয়। অস্থিসন্ধিতে দগদগে ঘা হতে পারে, চামড়া উঠতে শুরু করে।

কী ধরণের চিকিৎসা করা যায়?

আর্থ্রাইটিস হলে শিশুরা একই ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, তাতে ব্যথা বাড়তে পারে। হালকা শরীরচর্চা করা যেতে পারে নিয়মিত। যেমন সাইকেল চালানি, বা সাঁতার কাটা, কিছুটা করে হাতাহাতি করা ইত্যাদি। এই বিষয়ে ফিটনেস প্রশিক্ষক অনুপ আচার্যের পরামর্শ দেন, আগেকার দিনের মতো শিশুদের খুব ভাল করে তেল মালিশ করিয়ে রোদে রাখা হত। ছোট থেকে তেল মালিশ সঠিক ভাবে করতে পারলে শিশুদের পেশি ও হাড়ের গঠন মজবুত হবে, বাত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমবে। ঠান্ডা ও গরম সেঁক দিলেও ব্যথা কমে অনেক সময়ে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ফিজ়িয়োথেরাপিও করাতে পারেন।

আর্থাইটিস সরানো ভীষণ জটিল। তাই ব্যাথা নিয়ন্ত্রিত রাখা জরুরি। রাতে টানা ৮ ঘণ্টা ঘুম জরুরি। সাথে খাদ্যাভ্যাস ও শরীর চর্চার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাইরের খাবার বেশি খেলেই শরীরে প্রদাহ বাড়বে। মাছ, ফল, শাক - সব্জি, দানাশস্য খেতে হবে। প্যাকেটজাত খাবার বা ঠান্ডা পানীয় একেবারেই বাদ দিতে হবে।

মেডিকেশন পদ্ধতি অবলম্বন করলে শিশুদের স্টেরয়েড ছাড়া ওষুধ দেন চিকিৎসকেরা। ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু ওষুধ ও ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। ওষুধে কাজ না হলে, প্রচণ্ড প্রদাহ বা চলাফেরায় সমস্যা হলে ইঞ্জেকশন দেওয়াই শ্রেয় মনে করেন চিকিৎসকেরা।

বিশেষ দ্রব্যষ্টঃ এই প্রতিবেদন শুধুমাত্র তথ্য সরবরাহের জন্য। আপনার বা আপনার শিশুর যদি কোনও শারীরিক সমস্যা থাকে তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

PREV

Parenting Tips (পেরেন্টিং টিপস): Read all about Healthy Parenting Tips in Bangla like Child Development Tips , How to Make Baby Sleep etc at Asianet Bangla news

click me!

Recommended Stories

আপনার খুদে দিন দিন মোবাইলের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে? কিভাবে দূর করবেন এই নেশা জানুন বিস্তারিত
কথায় কথায় বাড়ির খুদেকে বকাঝকা করলে কমতে পারে তার আত্মবিশ্বাস, কি করলে ভালো হবে