Parenting: অনেক বাবা-মা এমন আছেন যারা কথায় কথায় ভুল করেন খুদের। এমনকী প্রতি পদেই তাকে বকাঝকা করেন। আদতে কী করলে ভালো ফল পাবেন জানুন।
ছোটদের কথায় কথায় ভুল ধরা বা বকাঝকা করলে তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যায়। তারা বিদ্রোহী বা ভীতু হয়ে পড়তে পারে। বকাঝকা না করে ভুল বুঝিয়ে বলা, ভুলের কারণ ও শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা, এবং নিজের ভুল থেকে শেখার সুযোগ দেওয়া অনেক বেশি কার্যকরী। ভুল শুধরে দেওয়ার জন্য ইতিবাচক ও ধৈর্যশীল দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা জরুরি।
কী করলে ভালো হবে (করণীয়):
* ভুল ধরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে বুঝিয়ে বলুন: বাচ্চা ভুল করলে তাকে বকাঝকা না করে বুঝিয়ে বলুন যে কেন তার কাজটি ভুল ছিল।
* ভুল থেকে শেখার সুযোগ (Learning Opportunity): প্রতিটা ভুলের মাঝে নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। ভুলটিকে শুধরে নিয়ে, সেখান থেকে কী শিক্ষা নেওয়া যায় তা বুঝিয়ে বলুন।
* শান্তভাবে কথা বলুন: বাচ্চার সাথে কথা বলার সময় আপনার স্বর যেন শান্ত ও স্বাভাবিক থাকে। রাগের বশে কিছু না বলাই শ্রেয়, কারণ অতিরিক্ত বকাঝকা বা বিরক্তি তাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
* নিজের ভুল শেয়ার করুন: আপনার নিজের জীবনে করা ছোটখাটো ভুলের গল্প তাকে বলুন, বিশেষ করে ছোটবেলায় আপনি কীভাবে একই ভুল করেছিলেন এবং কী শিখেছিলেন।
* ধৈর্যশীল হোন: বাচ্চার ভুল শুধরানোর জন্য সময় নিন, ধৈর্য ধরুন।
* আচরণ সংশোধন করুন: ভুল ধরে শুধু দোষারোপ না করে, কীভাবে আচরণ সংশোধন করা যায় তা বুঝিয়ে বলুন।
যা করা একেবারেই অনুচিত:
* সারাক্ষণ ভুল ধরা: মানুষের ছোটখাটো ভুল বা ব্যাকরণ ভুল সব সময় ধরে দিলে তাদের মধ্যে বিরক্তি তৈরি হতে পারে।
* অতিরিক্ত বকাঝকা: বাচ্চার ভুলকে কেন্দ্র করে প্রতি পদেই বকাঝকা করা তাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।
* ভুলকে অস্বীকার করা: বাচ্চার ভুলকে ছোট করে দেখানো বা দোষারোপ করা ঠিক নয়।
বকাঝকার বদলে অন্য কোনো উপায়: যদি কোনো বিষয় নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয়, তবে বাচ্চার সাথে কথা বলুন। তাকে বুঝতে সাহায্য করুন যে ভুল করা স্বাভাবিক, কিন্তু ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়াটা জরুরি। বাচ্চার সাথে কথা বলার সময় তার মতামতের গুরুত্ব দিন।
