বর্তমানে বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরী মোবাইলের নেশায় আসক্ত। হয় রিলস, নয় সোশাল মিডিয়ায় ব্যস্ত তারা। অনেকে আবার গেমের নেশায় বুঁদ। তাই ধীরে ধীরে সন্তানের মোবাইল কিংবা গেম আসক্তি দূর করুন।

বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের মোবাইল আসক্তি দূর করতে অভিভাবকদের অবশ্যই কড়া নিয়ম, সময় নির্ধারণ, এবং নিজেদের ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। প্রধান উপায়গুলোর মধ্যে রয়েছে—দৈনিক স্ক্রিন টাইম বা সময় নির্দিষ্ট করা, বেডরুম ও ডাইনিং টেবিলে ফোন নিষিদ্ধ করা, এবং শারীরিক খেলাধুলার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। এছাড়া, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল (Parental Control) অ্যাপ ব্যবহার করা এবং নিজেরা কম ফোন ব্যবহার করে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করা জরুরি।

মোবাইলের নেশা থেকে দূর করার জন্য বিস্তারিত পদক্ষেপ:

* ১. সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও 'নো-ফোন জোন' তৈরি: বাড়িতে কিছু জায়গা, যেমন—বেডরুম, পড়ার ঘর বা ডাইনিং টেবিলকে 'টেক-ফ্রি জোন' বা মোবাইল-মুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করুন। রাতে ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে থেকে ফোন দূরে রাখার নিয়ম করুন।

* ২. নিজেরা উদাহরণ হোন (Be a Role Model): অভিভাবকরা নিজেরা যদি সব সময় ফোনে ব্যস্ত থাকেন, তবে শিশুদের আসক্তি দূর করা কঠিন। তাই বাচ্চাদের সামনে নিজেরা মোবাইল ব্যবহার কমান।

* ৩. ডিজিটাল ডিটক্স ও বিকল্প ব্যবস্থা: প্রতিদিন অন্তত ১-২ ঘণ্টা পরিবার সবাই মিলে একসাথে কাটান, যেখানে ফোন ব্যবহার করা যাবে না। তাদের বই পড়া, বাগান করা, ছবি আঁকা বা খেলাধুলার মতো সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করুন।

* ৪. টেকনিক্যাল নিয়ন্ত্রণ (Parental Control): ফোনে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সফটওয়্যার বা অ্যাপ ব্যবহার করে ক্ষতিকর সাইট এবং গেমের সময় সীমিত করুন।

* ৫. সরাসরি যোগাযোগ ও খোলামেলা আলোচনা: মোবাইল ব্যবহার না করার কারণে কী কী ক্ষতি হতে পারে, তা নিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা করুন, বকাঝকা নয়।

* ৬. শারীরিক ও সামাজিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি: বন্ধুদের সাথে সরাসরি দেখা করা, পার্কে যাওয়া, বা কোনো খেলাধুলায় অংশগ্রহণ বাড়াতে উৎসাহিত করুন, যাতে অনলাইন জগতের চেয়ে বাস্তব জগত বেশি উপভোগ্য হয়।

অভিভাবকদের ধৈর্যের সাথে এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে এই অভ্যাস ধীরে ধীরে দূর করা সম্ভব। যদি আসক্তি অতিরিক্ত পর্যায়ে চলে যায়, তবে কাউন্সিলরের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে।