
Asian Games 2026 News: চলতি এশিয়ান গেমসে ভারতীয় ব্যাডমিন্টন দলের হতাশাজনক অভিযান শেষ হল রবিবার। একাধিক পদকের আশা নিয়ে আইচি-নাগোয়ায় পা রাখা তারকাখচিত ভারতীয় দল এবার ব্যক্তিগত ইভেন্টে কোনও পদক জিততে পারল না। ২০১৪ সালের পর এই প্রথমবার এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক পেল না ভারত। এবার মহিলাদের সিঙ্গলসের কোয়ার্টার-ফাইনালে হেরে বিদায় নেন পিভি সিন্ধু (PV Sindhu), উন্নতি হুডা (Unnati Hooda), তৃষা জলি-গায়ত্রী গোপীচাঁদ (Treesa Jolly-Gayatri Gopichand) এবং ধ্রুব কপিলা-তানিশা ক্রাস্টো (Dhruv Kapila-Tanisha Crasto)। চারটি ম্যাচেই ভারতীয় শাটলারদের প্রতিপক্ষ ছিল র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা খেলোয়াড় বা জুটি। অন্তত তিনটি ম্যাচে ভারতীয়দের জয়ের সুযোগও ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত কোনওটিই কাজে লাগেনি।
২০১৪ সালের পর থেকে এশিয়ান গেমসের সব আসরেই ব্যাডমিন্টনের ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক এসেছিল। এবার পুরুষদের দলগত ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছে ভারত। ২৩ সেপ্টেম্বর সেমি-ফাইনালে গতবারের সোনাজয়ী চিনের কাছে ১-৩ হেরে যায় ভারতের পুরুষ ব্যাডমিন্টন দল। অন্য কেউ পদক জিততে পারলেন না। রবিবার চারটি কোয়ার্টার-ফাইনালে জয় পেলেই ভারতীয়দের পদক নিশ্চিত হয়ে যেত। কিন্তু কেউই জয় পেলেন না। প্রথমে বিদায় নেয় তৃষা-গায়ত্রী জুটি। বিশ্ব ক্রমতালিকায় পাঁচ নম্বরে থাকা মালয়েশিয়ার পার্লি তান ও থিনাহ মুরালিথারানের বিরুদ্ধে ১৮-২১, ৯-২১ হেরে যান তাঁরা। প্রতিপক্ষ বারবার গায়ত্রীর ব্যাকহ্যান্ডে আক্রমণ করে তাঁকে কোর্টের পিছনে সরিয়ে দেয়। ফলে তৃষাকে সামনে চলে আসতে হয় এবং সেখান থেকে তাঁর শক্তিশালী স্ম্যাশ কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। ধ্রুব ও তানিশা বিশ্ব ক্রমতালিকায় এক নম্বরে থাকা ফেং ইয়ানঝে ও হুয়াং দংপিংয়ের বিরুদ্ধে প্রথম গেম ১৪-২১ হারলেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে দ্বিতীয় গেম ২১-১৮ জিতে নেন। তৃতীয় গেমেও চিনা জুটিকে ১৮-২১ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান তাঁরা। ১ ঘণ্টা ১৬ মিনিটের লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় কপিলা-ক্রাস্টোকে। এরপর কোর্টে নামেন ১৯ বছরের উন্নতি। প্রতিপক্ষ ছিলেন বিশ্ব ক্রমতালিকায় তিন নম্বরে থাকা জাপানের আকানে ইয়ামাগুচি। কিন্তু আগের ম্যাচ খেলার ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। তার মধ্যেই আবার কোর্টে নামতে হওয়ায় উন্নতির ক্লান্তি কাটেনি। প্রথম গেমে ১৬-২১ হেরে গেলেও, দ্বিতীয় গেমে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন ভারতীয় তরুণী। ইয়ামাগুচির কৌশল বুঝে নিয়ে অদ্ভুত সব কোণ থেকে আক্রমণ করে দ্বিতীয় গেম ২১-১৪ জিতে নেন তিনি। তৃতীয় গেমে অবশ্য দু’জনেরই ক্লান্তি চরমে পৌঁছয়। ম্যাচের শেষ ১২ পয়েন্টই আসে আনফোর্সড এরর থেকে। কেউ শাটল বাইরে মারেন, কেউ নেটে স্ম্যাশ করেন। শেষ পর্যন্ত ভুল বেশি করেন উন্নতি। ১৭-২১ হেরে ৬৬ মিনিটের লড়াইয়ে ম্যাচটি খোয়ান তিনি। উন্নতির হারের পর ভারতের শেষ ভরসা ছিলেন সিন্ধু। কিন্তু টোকিও অলিম্পিক্স চ্যাম্পিয়ন শেন ইউ ফেইয়ের বিরুদ্ধে তিন গেমের কঠিন লড়াইয়ে ২১-১১, ১৮-২১, ১০-২১ হেরে যান তিনি।
শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের দিনই নয়, এবারের এশিয়ান গেমসে ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা জুড়েই ঠাসা সূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক খেলোয়াড়কে একই দিনে একাধিক ম্যাচ খেলতে হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই ম্যাচের মধ্যে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সময়ও পাওয়া যায়নি। ভারতের তারকা শাটলার এইচএস প্রণয়ও (HS Prannoy) সূচি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর কথায়, একই দিনে দু’টি সিঙ্গলস ম্যাচ খেলার ঘটনা তিনি বহু বছর দেখেননি। তাঁর প্রশ্ন ছিল, যখন ব্যাডমিন্টন শেষ হওয়ার নির্ধারিত দিন ২৯ সেপ্টেম্বর, তখন এশিয়ান গেমস চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত, তাহলে ব্যাডমিন্টনের সূচি আরও এক দিন বাড়ানো হল না কেন? প্রণয়ের মতে, খেলোয়াড়দের হোটেলে ফিরে বিশ্রাম নেওয়া এবং ফের কোর্টে আসার পর্যাপ্ত সময়ও দেওয়া হয়নি। সূচির পাশাপাশি এবারের এশিয়ান গেমসে আবাসন ও পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমবারের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি কেন্দ্রীয় গেমস ভিলেজে সব ক্রীড়াবিদকে রাখা হয়নি। আইচি-নাগোয়ার বিভিন্ন হোটেলে খেলোয়াড়দের রাখা হয়েছিল। এমনকী, কয়েকজন অ্যাথলিটকে শহরের বন্দরে দাঁড় করানো একটি ক্রুজ জাহাজের অস্থায়ী কন্টেনারেও রাখা হয়। এই আয়োজনে অখুশি প্রণয়।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।