
Mahendra Singh Dhoni-Chennai Super Kings: মহেন্দ্র সিং ধোনি কি চেন্নাই সুপার কিংসের শেয়ার কিনতে চেয়েছিলেন? সম্প্রতি এমনই দাবি ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে। শোনা যাচ্ছিল, সিএসকে-র প্রাক্তন অধিনায়ক ফ্র্যাঞ্চাইজির শেয়ার কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রস্তাবিত শর্তে সম্মতি দেয়নি ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবে এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন সিএসকে-র এক শীর্ষকর্তা। তাঁর দাবি, ধোনির সঙ্গে এ বিষয়ে কোনও আলোচনাই হয়নি। তাঁর কথা অনুযায়ী, 'এমএস কখনও আমাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাননি। আমরা বিষয়টি নিয়ে কোনও আলোচনা করিনি। নটরাজন শ্রীনিবাসনের (N Srinivasan) সঙ্গেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছেন কি না, সে সম্পর্কেও আমাদের কোনও তথ্য নেই।' তবে ধোনির যে সিএসকে-তে কোনও শেয়ার নেই, তা নয়। চেন্নাই থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যখন ফ্র্যাঞ্চাইজির শেয়ার কেনার সুযোগ ছিল, তখন কিছু শেয়ার কিনেছিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক।
সিএসকে-র শেয়ার সাধারণ শেয়ার বাজারে কেনাবেচা হয় না। কারণ, সংস্থাটি শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত নয়। তবে অফ-মার্কেট লেনদেনের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে এই শেয়ার কেনা সম্ভব। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধোনির হাতে এক লক্ষেরও বেশি শেয়ার রয়েছে। যদিও পুরো শেয়ারহোল্ডিংয়ের তুলনায় এটি অত্যন্ত সামান্য অংশ। ফ্র্যাঞ্চাইজির ৩০ কোটিরও বেশি শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে, যা মোট শেয়ার মূলধনের প্রায় ৪০ শতাংশ। ফলে ধোনির এক লক্ষের বেশি শেয়ারও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা মোট শেয়ারের তুলনায় খুবই ছোট একটি অংশ। অন্যদিকে, শ্রীনিবাসন পরিবার সিএসকে-তে ৫৫ শতাংশের বেশি শেয়ার নিয়ে নিয়ন্ত্রণকারী অংশীদারিত্ব ধরে রেখেছে। বর্তমানে একটি আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির বাজারমূল্য যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তা ধরলে ধোনির এই শেয়ারের মূল্য আনুমানিক ২.৬ থেকে ৩ কোটি টাকা হতে পারে। সর্বশেষ একটি আইপিএল দল ১৬,৬০০ কোটি টাকারও বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল। সেই তুলনায় ধোনির শেয়ার থেকে পাওয়া সম্ভাব্য মূল্য খুবই সামান্য। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, আইপিএস এবং বিজ্ঞাপন-সহ ২১ বছরের ক্রিকেট কেরিয়ারে তাঁর বিপুল উপার্জনের তুলনাতেও এই অঙ্কটি নগণ্য। বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রিকেটার হিসেবে ধোনির আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা বলে মনে করা হয়। অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরও এই ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ধোনির প্রভাব কমেনি। গত মরসুমে একটি ম্যাচেও না খেললেও দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এখনও তাঁর ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে নতুন হেড কোচ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ধোনির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সিএসকে ম্যানেজমেন্ট।
ধোনি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন বলে জানা গিয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর তাঁর দেশে ফেরার কথা। সেই সময়ই সিএসকে কর্তারা বৈঠকে বসে নতুন হেড কোচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এরপর দলবদল ও ট্রেড সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা। ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তারা অবশ্য এখনও প্রকাশ্যে জানাচ্ছেন যে তাঁরা কোনও কোচকে চূড়ান্ত করেননি। তবে সূত্রের খবর, বিদেশের এক কোচকে ইতিমধ্যেই পছন্দের তালিকায় এগিয়ে রাখা হয়েছে। ওই কোচ অন্য একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গেও আলোচনা করছেন বলে জানা যাচ্ছে। ধোনি দেশে ফিরে সিএসকে-র শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার পরই কোচ নিয়ে জট কাটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে শেয়ার কেনার জল্পনার পাশাপাশি আগামী মরসুমের পরিকল্পনাতেও ধোনির ভূমিকা এখন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।