
ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার মহম্মদ শামি তাঁর আগুনে বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের কাঁপিয়ে দিতেন। কিন্তু তিনি এখন দলের বাইরে। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর ফর্ম, ফিটনেস এবং দলে তাঁর জায়গা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে, শামি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে চলেছেন বলে জোর জল্পনা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে, শামি নিজেই তাঁর অবসর নিয়ে চলা গুঞ্জনের অবসান ঘটালেন। একটি টক শো-তে তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন।
ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এখন অনেক বেশি করে তরুণ ক্রিকেটারদের প্রাধান্য দিচ্ছে। যার ফলে, শামি তিনটি ফরম্যাটেই নিজের জায়গা হারিয়ে ফেলেছেন। অজিত আগরকারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি শামিকে বারবার উপেক্ষা করছে। শামি ২০২৫-২৬ ঘরোয়া মরশুমে বাংলার হয়ে খেলে ৬৭টি উইকেট নেন। তা সত্ত্বেও, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড সিরিজের পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলেও তাঁকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। চোটের সমস্যা থাকলেও, সম্পূর্ণ ফিট শামিকে বাদ দেওয়ায় ক্রীড়া বিশ্লেষকরাও অবাক হয়ে গেছেন রীতিমতো।
শামি তাঁর ক্যারিয়ারে ভারতের হয়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। তিনি শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন ৯ মার্চ, ২০২৫-এ নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালে। একইভাবে, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫-এ মুম্বইতে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন। তবে টেস্ট ক্রিকেটের ক্ষেত্রে, শামি প্রায় তিন বছর ধরে লাল বলের ক্রিকেট থেকে দূরে। জুন ২০২৩-এ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালই ছিল তাঁর শেষ টেস্ট। শামি এখনও পর্যন্ত ৬৪টি টেস্টে ২২৯টি, ১০৮টি ওয়ানডেতে ২০৬টি এবং ২৫টি টি-টোয়েন্টিতে ২৭টি উইকেট নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর মোট উইকেট সংখ্যা ৪৬২।
"লখনউ সুপার জায়ান্টস আমার উপর বিশ্বাস রেখেছে, আমি তার প্রতি সম্পূর্ণ সুবিচার করব। ঘরোয়া ক্রিকেটে কত উইকেট নিয়েছি তার চেয়ে আমার বোলিংয়ের ছন্দ কেমন, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখন আমার ছন্দ ভালোই আছে। মাঠে নেমে তৃপ্তির সঙ্গে খেলাই আমার লক্ষ্য। ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার চেয়ে বর্তমান দায়িত্বের উপরেই আমার নজর," শামি ব্যাখ্যা করেন। ৩৫ বছর বয়সেও শামির এই দৃঢ়তা ভক্তদের মুগ্ধ করছে। এখন দেখার বিষয় এটাই যে, নির্বাচকরা আগামী সিরিজগুলিতে শামিকে বিবেচনা করেন কি না।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।