TMC fund: তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৬৭৫ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবিতে চিঠি দিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। দলের আর্থিক সম্পদ ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার টাকার লড়াই। দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট 'ফ্রিজ' রাখার আর্জি জানিয়ে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে চিঠি দিলেন প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অরূপ বিশ্বাস। তিনি মমতা বন্দ্যোপাাধ্যায়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন ছিলেন। কিন্তু আচমকাই তাঁর এই চিঠিতে আবারও কিছুটা হলেও অস্বস্তি বাড়াল কালীঘাটের অন্দরে। চিঠিতে নিজেকে দলের কোষাধ্যক্ষ বলে দাবি করেছেন তিনি। আর তাতেই নতুন সংকটে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির।
27
ববির পরে বিদ্রোহী অরূপ?
তৃণমূলের অন্দরে ফিরহাদ হাকিম পরিচিত ছিলেন মমতার অত্যন্ত অনুগত হিসেবে। কলকাতার মেয়র পদ ছাড়ার পরে তিনি বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন, বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসেছেন। এবার সেই একই পথে আরেক আস্থাভাজন অরূপও। তৃণমূলের তহবিল রক্ষার নামে তিনি যা করলেন, তা মমতা শিবিরের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্রের খবর ব্যাাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি লেখার বিষয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিছুই জানাননি।
37
কত টাকা আছে তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে?
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তৃণমূলের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী ওই ব্যাঙ্কে জমা ছিল ৬৭৫ কোটি টাকা। দলীয় সূত্র বলছে, এই মুহূর্তে সেই অঙ্ক সাড়ে চারশো কোটির কম নয়। উল্লেখ্য, নির্বাচনী বন্ডে বিজেপির পরেই সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছিল তৃণমূল। ফলে এই তহবিলের নিয়ন্ত্রণ এখন রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু।
চিঠিতে অরূপ লিখেছেন, দলে নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের এই পরিস্থিতিতে তাঁর আগাম সই করা চেক ব্যবহার করে কেউ টাকা তুলে নিতে পারেন বা অপব্যবহার করতে পারেন। সেই আশঙ্কা থেকেই তিনি অ্যাকাউন্টে লেনদেন বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছেন। দলীয় সূত্রের খবর, বিদ্রোহী শিবির থেকে অরূপকে চাপ দেওয়া হয় যে তহবিল সরানো হলে আইনি দায় তাঁকেই নিতে হবে।
57
কোষাধ্যক্ষ কে — অরূপ না শুভাশিস?
৫ জুন তৃণমূলের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে শুভাশিস চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ করা হয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের কপি এখনও ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া হয়নি। শুভাশিসও ব্যাঙ্কে গিয়ে নিজের নাম নথিভুক্ত করেননি। ফলে কাগজে-কলমে এখনও অরূপই দলের কোষাধ্যক্ষ — এই ফাঁকটাই এখন বড় বিপদ ডেকে এনেছে মমতা শিবিরের জন্য।
67
বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া
মমতাপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ বললেন, কোষাধ্যক্ষ বদলের বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। বিদ্রোহী শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহা বললেন, অরূপ সম্ভবত অনিয়মের আশঙ্কা থেকেই চিঠি দিয়েছেন। আর আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর কটাক্ষ, এই চিঠি আসলে বিজেপিকে 'মিস কল' — অরূপ এখন মমতা-অভিষেককে চাপে রেখে 'ভালো তৃণমূল' সাজতে চাইছেন।
77
দলের তহবিল, প্রতীক — কার হাতে যাবে?
তৃণমূল ভেঙে পড়ার পরে জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের কোটি কোটি টাকার তহবিল কার দখলে থাকবে — সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ঋতব্রতপন্থীরা নিজেদের 'আসল তৃণমূল' দাবি করে সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছেন। অন্যদিকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা নতুন দলে যোগ দিলেও তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ আদায়ই তাঁদের আসল লক্ষ্য। এই টানাটানিতে দলের তহবিল বাঁচাতে কালীঘাট মরিয়া হয়ে উঠেছে বলেই খবর।