- Home
- West Bengal
- Kolkata
- মহাসঙ্কটে মমতা! দল ভাঙার মুখে তৃণমূলের প্রতীক ও ১০০০ কোটির সম্পত্তি কার হাতে থাকবে? নজরে ৩ পক্ষ
মহাসঙ্কটে মমতা! দল ভাঙার মুখে তৃণমূলের প্রতীক ও ১০০০ কোটির সম্পত্তি কার হাতে থাকবে? নজরে ৩ পক্ষ
TMC Split: দেশের দ্বিতীয় ধনী দল তৃণমূল কংগ্রেস। ১০০০ কোটিরও বেশি সম্পদ রয়েছে। দল ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূলের বিপুল ঐশ্বর্যের মালিক এবার কে হবে? নজরে রয়েছে তৃণমূলের তিন পক্ষই। নজর মমতার পদক্ষেপের ওপরেও।

দ্বিতীয় ধনী রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস
আয়ের নিরিখে দেশের দ্বিতীয় ধনী রাজনৈতিক দল হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। সবথেকে ধনী দল হল বিজেপি। দেশের প্রাধন বিরোধী দল কংগ্রেসের তুলনায়ও ধনী রাজনৈতিক দল বল TMC।

তৃণমূলে ভাঙন
২০২৬ সালে রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের পরই ভাঙতে শুরু হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রথমেই বিদ্রোহ ঘোষণা করে রাজ্য়ের নবনির্বাচিত বিধায়করা। তারপরে বিদ্রোহী হয় সাংসদরা। বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর থেকেই দিনে দিনে স্পষ্ট হচ্ছে তৃণমূলের কঙ্কালসার চেহারা।
মমতা-অভিষেকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ
দলের জনপ্রতিনিধিরা মূলত বিদ্রোহ দেখিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু অভিষেককে এখনও পর্যন্ত পদ থেকে সরাতে তেমন কোনও উদ্যোগ নেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতেই কার্যত দলীয় নেতা কর্মীদের ক্ষোভের কারণ হয়ে উঠেছেন মমতা। তেমনই বলছে তৃণমূলের একটি সূত্র। দল ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূলের বিপুল ঐশ্বর্যের মালিক এবার কে হবে?
প্রশ্ন দলের প্রতীক আর সম্পদ নিয়েও
তৃণমূলে ভাঙন শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা শুরু হয়েছে দলের অন্দরে। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে এবার মমতার হাত থেকে চলে যাবে নাতো তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় প্রতীক আর পার্টির বিপুল সম্পদ। যদি যায় তাহলে কার হাতে যাবে এই সম্পত্তি? তাই নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তৃণমূলের সম্পদ
২০২৪-২৫ সালের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী
- তৃণমূল কংগ্রেসের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি। যারমধ্যে
- স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭ কোটি বিনিয়োগ করা হয়েছে ২৫০.৮ কোটি
- ব্যাঙ্কে রাখা হয়েছে ৬৮১.১ কোটি টাকা
হাত ছাড়া হতে পারে বিপুল সম্পদ
তৃণমূলে যেহারে মমতা-অভিষেক বিরোধিতা বাড়ছে তাতে কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠী বা ব্লক যদি নির্বাচন কমিশনের বা আইনের দ্বারস্থ হয়ে মান্যতা পায় তাহলে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ মমতা-অভিষেকের হাতছাড়়া হতে পারে। অন্যদিকে যার হাতে এই প্রচুর সম্পদ যাবে তাদের অন্যরাজনৈতিক দল নিজেদের দলে সামিল করার চেষ্টা করতে পারে।
ভেঙে খান খান তৃণমূল কংগ্রেস
প্রথমেই বিদ্রোহ দেখিয়েছিল তৃণমূলের নবনির্বাচিত বিধায়করা। সিপিএম থেকে তৃণমূলে যাওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পক্ষে দলের নির্বাচিত ৮০ জনের মধ্যে ৬০ বিধায়ক রয়েছে বলেও দাবি। অন্যদিকে সংসদীয় দলেও ভাঙন স্পষ্ট। দলের ২৮ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতা-অভিষেরে বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়েছে বলে দাবি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের। তবে বিধানসভা ও লোকসভায় এখনও গরিষ্ঠতা প্রমাণ হয়নি।
অন্যপক্ষে রয়েছেন মমতা-অভিষেক ও তাঁদের অনুগতরা
নিয়ম কী বলছে?
প্রথমে দুই পক্ষকেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে হবে। কমিশনই প্রথম সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারী। কমিশনের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হলে যে কোনও পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টই প্রতীক আর দলীয় তহবিল কার হাতে থাকবে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সাংসদ, বিধায়কদের পাশাপাশি দলীয় পদাধিকারীরা কোন পক্ষে রয়েছে তা জানাতে হবে। কিন্তু দলের এই ভাঙনের শুরুতেই মমতা দলের সব কমিটি ভেঙে দিয়েছেন। তবে নিজের হাতেই রেখেছেন দলের মূল রাশ।
মমতা যদি কংগ্রেসে ফেরেন?
কংগ্রেস ভেঙেই মমতা তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন ১৯৯৮ সালে। তারপর থেকেই ক্রমাগত কংগ্রেস ভাঙিয়েই নিজের দলকে শক্তিশালী করেছিলেন মমতা। কিন্তু এবার নিজেই ভাঙনের সামনে দাঁড়িয়ে। সম্প্রতি সনিয়া-রাহুলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। তাই মমতার কংগ্রেসে ফিরত যাওয়ার প্রসঙ্গও উঠছে। যদি তাই হয় তাহলে তৃণমূলের দলীয় তহবিলও চলে যাবে কংগ্রেসে
আগে কোন কোন দল ভেঙেছে?
প্রায়ই একইভাবে ভেঙেছে মহারাষ্ট্রের শিবসেনা ও শরদ পাওয়ারের এনসিপি। জনতা দল ভেঙে তৈর হয়েছে জনতা দল ইউনাইটেড আর জনতা দল সেকুলার। তামিলনাড়ুতে এমজি রামচন্দ্রনের মৃত্যুর পরে ভাঙে ডিএমকে।

