
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের। শুক্রবার শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ঘুগে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ। যে মাঠে শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি দিয়েছিল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গেল বেঞ্চ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সভার জন্য সেই মাঠ দিতে আপত্তি জানায় জগন্নাথ মঠ কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ফের এই মামলার শুনানি। ফলে শুক্রবার মাহেশে হচ্ছে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা। এই সভা কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
শুক্রবার তথা ১১ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুরের মাহেশে মিছিল এবং সভা করার কথা ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কালীঘাট তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু পুলিশ সেই অনুমতি না দেওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন চুঁচুড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই মামলার শুনানিতে মিছিলের অনুমতি না দিলেও শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি দিয়েছিল বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর সিঙ্গেল বেঞ্চ।
সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই ডিভিশন বেঞ্চের দারস্থ হয়েছিল রাজ্য। যে মাঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা হওয়ার কথা ছিল, সেই জগন্নাথদেব স্নানপিঁড়ি ময়দানের অনুমতির ব্যাখ্যা আদালতের কাছে চেয়েছিল রাজ্য। পাশাপাশি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য্যর সিঙ্গেল বেঞ্চের নির্দেশের একটি অংশ পরিবর্তনের আবেদন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে জানায় রাজ্য। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্লদল ভট্টাচার্য্য দাবি করেন, সভার অনুমতি নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু সভার মাঠটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি।
সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি যদি মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন, তাহলে পুলিশের কিছু করণীয় নেই। রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতে দাবী করা হয়, সভার ওই মাঠটি ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা হয়। রাজনৈতিক কারণে মাঠটি ব্যবহার করতে দেওয়ার জন্য কাউকে বলপ্রয়োগ করতে পারে না পুলিশ। রাজ্যের আইনজীবী আদালতের কাছে আবেদন করেন, ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিষয়টি থেকে পুলিশকে নিষ্কৃতি দেওয়া হোক এবং অন্য জায়গায় সভা করার অনুমতি দেওয়া হোক। মাহেশের ওই মাঠটির মালিকানা যাদের, তারাও এদিন আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে, মাঠটি ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা হয়। মাহেশের বিখ্যাত রথের মেলাও অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠে। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য ওই মাঠ দিতে তারা ইচ্ছুক নন।
এরপরই প্রধান বিচারপতি ঘুগে মামলাকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আপনার উদ্দেশে সাধারণ জনগণকে সমস্যায় ফেলা নয়। কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি করার আগে সাধারণ মানুষের কথা ভাবতে হবে। এমন জায়গায় কর্মসূচি করা উচিত যেখানে মানুষের অসুবিধা না হয়। এমন জায়গায় করুন যাতে বার্তা পৌঁছায়, কিন্তু মানুষের অসুবিধা না হয়। আপনারা বিকল্প জায়গা ঠিক করে আদালতকে জানান।' বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী দিল্লি রোডে এই সভা করলে অসুবিধা কোথায়, তা জানতে চান। কিন্তু সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দিল্লি রোড শ্রীরামপুরের বাইরে।
৫০০ জনকে নিয়ে শ্রীরামপুর আদালত ময়দানে সভা করতে চাইলে অনুমতি দেওয়া হবে বলে রাজ্যের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়। তার তীব্র বিরোধিতা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়ি থেকে বার হতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। মনে হচ্ছে আমাদের যেন দয়া করা হচ্ছে। আদালত ময়দানে এই সভা করা সম্ভব নয়।' শুনানিতে শ্রীরামপুর থানার আইসি-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'ভোটের আগে আমার বাড়িতে মিষ্টি পাঠিয়ে ফেভার নেওয়ার কথা বলেছিলেন এই আইসি। নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর এখন বদলে গিয়েছে। আইসি এই কদিনে আমাদের আরও সমর্থককে গ্রেফতার করতে পারে।' বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এ কথা শোনার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আপনি তো সভার থেকে বেশি আইসি-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চাইছেন বলে মনে হচ্ছে। আইসি আরও কাউকে গ্রেফতার করতে পারে। তবে আমরা সেই মামলা দেখছি না। ফলে হস্তক্ষেপ করব না
শুনানিতে শ্রীরামপুর থানার আইসি-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'ভোটের আগে আমার বাড়িতে মিষ্টি পাঠিয়ে ফেভার নেওয়ার কথা বলেছিলেন এই আইসি। নির্বাচনের ফল বেরোনোর পর এখন বদলে গিয়েছে। আইসি এই কদিনে আমাদের আরও সমর্থককে গ্রেফতার করতে পারে।' বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এ কথা শোনার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, 'আপনি তো সভার থেকে বেশি আইসি-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চাইছেন বলে মনে হচ্ছে। আইসি আরও কাউকে গ্রেফতার করতে পারে। তবে আমরা সেই মামলা দেখছি না। ফলে হস্তক্ষেপ করব না
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর শুক্রবার আদালতে সভার বিকল্প জায়গা নিয়ে রাজ্যকে তাদের অবস্থান জানানো নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। শ্রীরামপুরেই কেন সভার আয়োজন, তৃণমূল কর্মীদের পুলিশ হেনস্থা ইত্যাদি নিয়ে অতিরিক্ত হলফনামায় নিজেদের বক্তব্য জানাতে মামলাকারী প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারকে অনুমতি দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এই কর্মসূচি কি আগামী সপ্তাহে করা সম্ভব? উদ্যোক্তাদের প্রশ্ন করেন প্রধান বিচারপতি। সভার দিন পরিবর্তনে কোনও সমস্যা নেই বলে আদালতে জানান মামলাকারীর আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।