বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে এবার গতি বাড়াল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইডি)। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে নোটিস পাঠাল ভবানী ভবন। আগামী রবিবার দুপুর ২টো নাগাদ তাঁকে সিআইডি দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
26
কুণাল-অভিষেক মুখোমুখি জেরা
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, প্রয়োজন পড়লে ওই দিনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হতে পারে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের রক্ষাকবচ নিয়ে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁকে।
36
জিজ্ঞাসাবাদে অসঙ্গতির অভিযোগ
তবে গোয়েন্দাদের দাবি, সেই জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি এবং তাঁর দেওয়া তথ্যে প্রচুর অসঙ্গতি রয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এই কারণেই রবিবার বেলা ১২টায় অভিষেককে ফের তলব করা হয়েছে।
তদন্তকারী দল সূত্রে জানা গেছে, বিধানসভায় পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের রেজলিউশন বুকে বিধায়কদের সই নিয়ে মূল বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তৃণমূলের একাংশের দাবি ছিল, গত মে মাসের ১৯ তারিখ সই করানো হলেও নথিতে ৬ মে তারিখ দেখানো হয়েছে। এই রেজলিউশন বুক তৈরি ও সই সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় কুণাল ঘোষের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চান গোয়েন্দারা। ইতিমধ্যেই শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং মদন মিত্রের জবানবন্দি রেকর্ড করেছে সিআইডি। কিন্তু পূর্ববর্তী বিধায়কদের বয়ানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার অভিষেকের দেওয়া বয়ানের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
56
অভিষেকের ওপর বাড়ছে জোড়া অস্বস্তি
গোয়েন্দারা পরিকল্পনা করেছেন, রবিবার প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর দুপুর দুটো নাগাদ কুণাল ঘোষ এলে তাঁর থেকে প্রাপ্ত তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। যদি দুই নেতার বয়ানে বড় কোনও অসঙ্গতি নজরে আসে, তবে তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে বয়ান যাচাই করা হবে। অভিষেকের ওপর বাড়ছে জোড়া অস্বস্তি
66
প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্য
সই জালিয়াতি মামলার পাশাপাশি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়াতে আরও একটি মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে সিআইডি। বিগত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে উস্কানিমূলক ও হুমকিসূচক মন্তব্য করার অভিযোগে গত মাসে বাগুইআটি থানায় রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন। বিধাননগর সাইবার থানা এত দিন এই মামলার তদন্ত করলেও, শুক্রবারই সেই মামলার দায়িত্বভার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সিআইডি। ফলে একদিকে সই-কাণ্ড এবং অন্যদিকে উস্কানিমূলক ভাষণের মামলা— দুইয়ে মিলে রবিবার ভবানী ভবনে তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণ কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।