- Home
- West Bengal
- Kolkata
- কলকাতায় রয়েছে দুটি ধর্মতলা? একটি তো এসপ্ল্যানেড, আরেকটি কোনটি? অনেকেই জানেন না তার হদিশ!
কলকাতায় রয়েছে দুটি ধর্মতলা? একটি তো এসপ্ল্যানেড, আরেকটি কোনটি? অনেকেই জানেন না তার হদিশ!
অনেকেই মনে করেন কলকাতায় কেবল একটিই ধর্মতলা রয়েছে যা আমাদের পরিচিত এসপ্ল্যানেড। কিন্তু আপনি কি জানেন কলকাতার বুকে রয়েছে আরও এক জমজমাট ‘ধর্মতলা’? এর হদিশ জানেন না খোদ কলকাতাবাসীর অনেকেই! একটি তো এসপ্ল্যানেড, আরেকটি কোনটি?

কলকাতা মানেই ঐতিহ্যের এক মহা-কোলাজ। এই শহরের প্রতিটি মোড়, প্রতিটি গলি আর প্রতিটি পাড়ার নামের আড়ালে লুকিয়ে আছে কয়েকশো বছরের বিবর্তনের গল্প। যখনই আমরা ‘ধর্মতলা’ নামটা শুনি, চোখের সামনে ভেসে ওঠে শহরের হৃৎপিণ্ড এসপ্ল্যানেড চত্বর, কার্জন পার্ক, টিপু সুলতান মসজিদ আর ট্রাম-বাসের ব্যস্ততা।

কিন্তু যদি আপনাকে বলা হয় কলকাতায় ধর্মতলা একটি নয়, বরং দু’টি? অনেকেই হয়তো অবাক হবেন, কিন্তু এটাই সত্যি। একটি ধর্মতলা যদি হয় শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে, তবে অন্যটি লুকিয়ে আছে কলকাতারই বুকে অন্য এক প্রান্তে। এই ধর্মতলাও বেশ জমজমাট।
দক্ষিণ কলকাতার কসবা-তিলজলা অঞ্চলে রয়েছে আরেক ধর্মতলা। কেন এই নাম? ‘ধর্মতলা’ নামের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে একাধিক মত থাকলেও সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য তত্ত্বটি জড়িয়ে আছে বাংলার রাঢ় অঞ্চলের লৌকিক দেবতা ‘ধর্মঠাকুর’-এর সঙ্গে। ধর্মঠাকুর মূলত অন্ত্যজ বা নিম্নবর্গীয় মানুষের উপাস্য।
গ্রামবাংলার লৌকিক বিশ্বাসে একটি নির্দিষ্ট আকারহীন প্রস্তরখণ্ডকে সিঁদুর-চন্দন মাখিয়ে এই দেবতার পূজা করা হয়। ‘তলা’ শব্দটি সাধারণত দেবতার থান বা কোনো বৃক্ষতলকে নির্দেশ করে, যেখানে উপাসনা চলত।
পরিচিত ধর্মতলা বা এসপ্ল্যানেড কেন্দ্রীয় কলকাতার ধর্মতলা অঞ্চলটি ব্রিটিশদের কাছে ‘এসপ্ল্যানেড’ নামে পরিচিত ছিল, যার অর্থ দুর্গের সামনের ফাঁকা সমতল ভূমি। সাহেবরা যখন ওল্ড ফোর্ট উইলিয়ামের সামনে জঙ্গল পরিষ্কার করে এই অঞ্চল গড়ে তুলছিলেন, তখন এর পূর্বপ্রান্তে এদেশীয় মানুষের বাস ছিল।
লৌকিক ইতিহাস অনুযায়ী, বর্তমানের জানবাজার এলাকায় একটি প্রাচীন ধর্মঠাকুরের মন্দির বা থান ছিল। পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, এই অঞ্চলে একসময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বাস ছিল এবং বৌদ্ধ ‘ধর্ম’-এর নাম থেকেও এই অঞ্চলের নাম ধর্মতলা হতে পারে।
আবার রেভারেন্ড জেমস লং-এর মতে, কোনো এক প্রাচীন মসজিদের ধর্মীয় সমাবেশ (যেখানে বর্তমানের টিপু সুলতান মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় কুক কোম্পানির আস্তাবল ছিল) থেকে এই নামের উৎপত্তি।
তবে আধুনিক গবেষকরা ধর্মঠাকুরের থানকেই আদি ধর্মতলা হিসেবে গণ্য করেন। বর্তমানে জানবাজারের ৪৫ নং সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় রোডে আজও সেই প্রাচীন ‘ধর্মালয়’ বা ধর্মঠাকুরের মন্দির দেখতে পাওয়া যায়।
অন্য ধর্মতলা: কসবার এক গোপন ইতিহাস
কলকাতার রাজপথে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা বেশিরভাগ মানুষই জানেন না যে, দক্ষিণ কলকাতার কসবায় আজও অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে অন্য এক ‘ধর্মতলা’। কসবার ১১/১ ধর্মতলা রোডে আজও একটি ধর্মঠাকুরের মন্দির অবস্থিত। ঠিক যেভাবে মধ্য কলকাতার জানবাজার অঞ্চলে ধর্মঠাকুরের থান থেকে এলাকার নাম ধর্মতলা হয়েছিল, একইভাবে এই দক্ষিণ কলকাতার বর্ধিষ্ণু অঞ্চলটিতেও এই লৌকিক দেবতার নামেই রাস্তার নামকরণ হয়েছিল।
