
পুজো মানেই প্যান্ডেল হপিং। মাঝের কিছু ঘটনায় উৎসবের আনন্দে কিছুটা ছেদ পড়লেও ঠাকুর দেখা থেকে পিছিয়ে নেই হুজুগে বাঙালি। আর সেই উপলক্ষে আজ অষ্টমী এবং আগমীকাল নবমীতেও রাতভর চলবে মেট্রোরেল। কোন রুটে কখন পাবেন পরিষেবা? রইল বিশদ তথ্য। পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।
অষ্টমী ও নবমীতে মেট্রোর সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন থাকছে। ১৭, ১৮ তারিখের মতোই ১৯ ও ২০ অক্টোবর দুপুর ১টা থেকে পরের দিন ভোর ৪টে পর্যন্ত ব্লু লাইনে পরিষেবা পাওয়া যাবে। প্রতিদিন মোট ২৪৮টি ট্রেন চলবে। ব্যস্ত সময়ে ট্রেনের ব্যবধান থাকবে ৬ মিনিট। এই চার দিন দুপুর ১টায় শহিদ ক্ষুদিরাম, গীতাঞ্জলি ও মহানায়ক উত্তমকুমার থেকে দক্ষিণেশ্বরগামী ট্রেন পাওয়া যাবে। একই সময়ে দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম, দমদম থেকে শহিদ ক্ষুদিরাম এবং শ্যামবাজার থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের উদ্দেশে ট্রেন ছাড়বে। নোয়াপাড়া থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের উদ্দেশে প্রথম ট্রেন ছাড়বে দুপুর ১টা ২ মিনিটে।
রাতের শেষ পরিষেবার ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের উদ্দেশে শেষ ট্রেন ছাড়বে ভোর ৩টে ৪৬ মিনিটে এবং শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বরের উদ্দেশে শেষ ট্রেন ছাড়বে ভোর ৩টে ৪৮ মিনিটে। এছাড়া ভোর ৪টেয় শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দমদম এবং দক্ষিণেশ্বর থেকে মহানায়ক উত্তমকুমারের উদ্দেশে শেষ পরিষেবা পাওয়া যাবে।
দশমীতে অবশ্য পরিষেবা কিছুটা কমবে। ২১ অক্টোবর দুপুর ১টা থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ব্লু লাইনে মোট ১৪০টি ট্রেন চলবে। ব্যস্ত সময়ে ৮ মিনিট অন্তর মেট্রো পাওয়া যাবে। ওই দিন শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বর এবং দমদম থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের উদ্দেশে দুপুর ১টায় প্রথম ট্রেন ছাড়বে। মহানায়ক উত্তমকুমার থেকে দক্ষিণেশ্বর এবং দক্ষিণেশ্বর থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের উদ্দেশে প্রথম ট্রেন ছাড়বে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে। নোয়াপাড়া থেকে শহিদ ক্ষুদিরামের উদ্দেশে প্রথম পরিষেবাও মিলবে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দমদম এবং দক্ষিণেশ্বর থেকে মহানায়ক উত্তমকুমারের উদ্দেশে শেষ ট্রেন ছাড়বে।
হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত গ্রিন লাইনেও পুজোর দিনগুলিতে বাড়তি পরিষেবা থাকছে। মহাপঞ্চমী ও মহাষষ্ঠীতে সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মোট ২৪০টি ট্রেন চালানো হবে। এর মধ্যে ১২০টি আপ এবং ১২০টি ডাউন পরিষেবা। ব্যস্ত সময়ে ৬ মিনিট অন্তর মেট্রো পাওয়া যাবে। এই দু দিন হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের উদ্দেশে প্রথম ট্রেন ছাড়বে ভোর ৬টায়। সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দানের উদ্দেশে প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৬টা ৯ মিনিটে। দুই প্রান্ত থেকেই শেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ১১টায়।
নবমী পর্যন্ত গ্রিন লাইনে পরিষেবা চলবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে পরের দিন ভোররাত পর্যন্ত। ১৯ ও ২০ অক্টোবর প্রতিদিন মোট ১৯২টি পরিষেবা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৯৭টি আপ এবং ৯৫টি ডাউন ট্রেন। ব্যস্ত সময়ে ট্রেনের ব্যবধান থাকবে ৮ মিনিট। এই চার দিন হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভের উদ্দেশে প্রথম ট্রেন ছাড়বে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। বিপরীত দিকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে হাওড়া ময়দানের উদ্দেশে প্রথম ট্রেন ছাড়বে দুপুর ১টা ৩৪ মিনিটে। রাতের শেষ ট্রেন হাওড়া ময়দান থেকে ছাড়বে ভোর ৩টে ৫২ মিনিটে এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে ছাড়বে ভোর ৩টে ৫৯ মিনিটে।
দশমীতে গ্রিন লাইনে পরিষেবা চলবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। ওই দিন মোট ৭৪টি ট্রেন চলবে, যার মধ্যে ৩৭টি আপ এবং ৩৭টি ডাউন। ট্রেনের ব্যবধান থাকবে ১৫ মিনিট। হাওড়া ময়দান থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়বে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়বে দুপুর ১টা ৩২ মিনিটে। দুই প্রান্ত থেকেই শেষ ট্রেন ছাড়বে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে।
অষ্টমী ও নবমীতে, অর্থাৎ ১৯ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ইয়েলো লাইনে প্রতিদিন ৭২টি পরিষেবা পাওয়া যাবে। পরিষেবা শুরু হবে বিকেল ৩টেয় এবং চলবে রাত ১০টা ৫৩ মিনিট পর্যন্ত। ব্যস্ত সময়ে ট্রেনের ব্যবধান থাকবে ১২ মিনিট। নোয়াপাড়া থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়বে বিকেল ৩টেয় এবং জয় হিন্দ বিমানবন্দর থেকে নোয়াপাড়ার উদ্দেশে প্রথম ট্রেন ছাড়বে বিকেল ৩টা ২৪ মিনিটে। শেষ ট্রেন নোয়াপাড়া থেকে ছাড়বে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে এবং জয় হিন্দ বিমানবন্দর থেকে রাত ১০টা ৫৩ মিনিটে।