সমুদ্রের জলে তলিয়ে যাবে কলকাতা-মুম্বই? হারিয়ে যাবে ২ শহর, সতর্ক করল UN-র রিপোর্ট

Published : Sep 01, 2026, 09:37 PM IST

climate change: কলকাতা ও মুম্বই-সহ দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ভয়াবহ প্রভাবের আশঙ্কা। রাষ্ট্র সংঘের রিপোর্টে ১.৪ কোটির বেশি মানুষের ঘর হারানোর ‘তাৎক্ষণিক’ ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে।

PREV
110
কলকাতা-মুম্বইয়ে বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা

সমুদ্রের জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। আর তার জেরে কলকাতা ও মুম্বই-সহ বিশ্বের একাধিক উপকূলীয় শহরের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের একটি নতুন রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার নিচু বদ্বীপ অঞ্চলে বসবাসকারী কোটি কোটি মানুষের ঘরবাড়ি স্থায়ীভাবে জলের তলায় চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

210
দ্রুততম হারে বাড়ছে সমুদ্রের জলস্তর

ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায। আর এই গতি ক্রমেই বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিবের প্রতিবেদন। ভবিষ্যতে এই বৃদ্ধির গতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

310
কোথায় বেশি বিপদ?

কলকাতা, মুম্বই ও ঢাকার মতো নিচু বদ্বীপ শহরে মূল সমস্যা মানুষের গৃহহীন হয়ে পড়া। এই তিন শহর মিলিয়ে ১৪ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ চিরস্থায়ী জলমগ্নতার ঝুঁকিতে রয়েছেন। মায়ামি, নিউ ইয়র্ক বা চিনের গুয়াংজুর মতো শহরও এজাতীয় ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট শহরগুলিতে মূলত আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল। যেখানে ২ থেকে ৩.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের পরিকাঠামো বিপদের মুখে।

410
পানীয় জলের সংকট

সমুদ্রের নোনা জল ক্রমশ স্থলভাগের দিকে ঢুকে পড়লে উপকূলের মিষ্টি জলের উৎসগুলিও দূষিত হতে পারে। ভূগর্ভস্থ জলে লবণাক্ততা বাড়লে পানীয় জল, কৃষিকাজ এবং সেচব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে খাদ্য নিরাপত্তার উপরও।

510
রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে বন্যা ও জলাবদ্ধতা বাড়লে জনস্বাস্থ্যের উপরও চাপ তৈরি হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে নিকাশি ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। জলবাহিত রোগের প্রকোপ, দুর্ঘটনা, মৃত্যুর ঝুঁকি এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ—সবই বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে রাষ্ট্রসংঘ।

610
বাস্তুতন্ত্রেও ঝুঁকি

সমুদ্রের জল বাড়ার পাশাপাশি জমি বসে যাওয়ার ঘটনা থাকলে বিপদ আরও বাড়ে। এতে উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, মাছধরা থেকে পর্যটন—বিভিন্ন ক্ষেত্রের জীবিকা বিপন্ন হতে পারে। বন্দরনির্ভর অর্থনীতি এবং ছোট ব্যবসার উপরও পড়তে পারে বড় ধাক্কা।

710
কলকাতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

কলকাতা গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা বদ্বীপ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত একটি নিচু শহর। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি, বন্যা এবং জমি বসে যাওয়ার মতো একাধিক ঝুঁকি একসঙ্গে কাজ করতে পারে। রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট তাই উপকূলীয় শহরগুলির পরিকল্পনায় শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, মানুষের জীবন ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছে।

810
২০১৪-২০২৩ সালে বার্ষিক ৪.৭ মিমি হারে বৃদ্ধি

হিমবাহ গলন ও সমুদ্রের জল উষ্ণ হওয়ার কারণে ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে ৪.৭ মিমি করে বেড়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা।

910
২০২৪ সালে রেকর্ড বৃদ্ধি

২০২৪ সালেই সমুদ্রপৃষ্ঠ বেড়েছে ৫.৯ মিমি, যা একটি নতুন রেকর্ড। মূলত সমুদ্রের অস্বাভাবিক উষ্ণতাই এর কারণ। বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ, অর্থাৎ প্রায় ৭৭ কোটি মানুষ উপকূলীয় নিচু এলাকায় বসবাস করেন, যাঁরা এই ঝুঁকির মুখে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে রিপোর্টে।

1010
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা

রাষ্ট্রসংঘের বার্তা স্পষ্ট—সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মোকাবিলায় নদী অববাহিকা, মিষ্টি জল, উপকূল এবং সমুদ্রকে আলাদা করে দেখলে চলবে না। শহর পরিকল্পনা ও জমি ব্যবহারের নীতিতে সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার না দিলে ভবিষ্যতে বাস্তুচ্যুতির সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।

Read more Photos on
click me!

Recommended Stories