BCI Seeks Information: মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের কালো কোর্ট, সাদা ফিতে পরে কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হওয়ার পরেই পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তালিকাভুক্তি ও আইনচর্চার অবস্থা সম্পর্কে BCI পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের কাছে তথ্য চেয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-এর সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার আইনজীবীর পোশাকে কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হন। ২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা সংক্রান্ত একটি জনস্বার্ত মামলার শুনানিতে তিনি গিয়েছিলেন।
210
প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মমতা
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সামনে বেঞ্চে ছিল মামলা। সেখানেই আইনজীবীর কালো কোর্ট পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সামনে উপস্থিত হন। তবে এই নিয়ে ইতিমধ্যেই জটিলতা তৈরি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের কাছে থেকে এই বিষয়ে তথ্য চেয়েছে ভারতের বার কাউন্সিল।
310
তথ্যের দাবি
মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের কালো কোর্ট, সাদা ফিতে পরে কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হওয়ার পরেই পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তালিকাভুক্তি ও আইনচর্চার অবস্থা সম্পর্কে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI) পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের কাছে তথ্য চেয়েছে। ১৪ মে অর্থাৎ এই দিনই একটি চিঠিতে সিবিআই জানতে চেয়েছে, আইনজীবী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ বারকাউন্সিল কবে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিল। সংস্থার পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, আইনি পোশাকে হাইকোর্টের সামনে হাজির হয়েছিলেন বলে একাধিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন তাদের নজরে এসেছে। তাই এই সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
সিবিআই-এর প্রধান সচিব শ্রীমন্ত সেন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন। সেখানেই রাজ্য বার কাউন্সিলকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের তালিকাভুক্তি, রাজ্য তালিকায় তাঁর নাম থাকা, যদি থাকে তবে পেশা স্থগিত বা বন্ধ হওয়া ও পরবর্তীকালে পুনরায় পেশা শুরু করা সংক্রান্ত নথি সরবরাহ করার নির্দেশ দিয়েছে।
510
চিঠিতে পোশাক প্রসঙ্গ
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, 'বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনের মাধ্যমে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার নজরে এসেছে যে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর পোশাকে বা আইনি সাজে , যারমধ্যে সাদা ফিতেও ছিল- উপস্থিত হয়েছিলেন।'
610
পেশার অবস্থা যাচাই
আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের পেশাহত আচরণবিধি ও নির্ধারিত পেশাকবিধি সংক্রান্ত বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার নিয়মের কথা উল্লেখ করে সিবিআই মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের প্রকৃত পেশাগত অনুশীলনের অবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে। বিসিআই আরও বলেছে, ২০১১ -২০২৬ সাল পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। এই পর্যায়ে তাঁর এই ধরনের উপস্থিতির অনুমোদন যোগ্যতা বা অন্য বিষয়ে কোনও মতামত প্রকাশ না করেই সরকারি নথি থেকে তাঁর তালিকাভুক্তি ও আইনি অনুশীলনের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করার প্রয়োজন রয়েছে।
710
বিসিআই যে তথ্য চেয়েছেঃ
রাজ্য বার কাউন্সিলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তালিকাভুক্তির নম্বর ও তালিকাভুক্তির তারিখ
রাজ্যের আইনজীবী তালিকায় তাঁর নাম বর্তমানে থাকবে কিনা
মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বা তারপরে তিনি স্বেচ্ছায় পেশা স্থহিত, বন্ধ বা পুনরায় শুরু করার কথা জানিয়েছিলেন কিনা
বর্তমানে তাঁর নামে কোনও প্র্যাক্টিস সার্টিফিকেট আছে কিনা, সেটি বৈধ , সক্রিয় বা অন্য কোনও অবস্থায় আছে কিনা
রাজ্য বার কাউন্সিল কর্তৃক সংরক্ষিত যে কোনও সংশ্লিষ্ট চিঠিপত্র , আদেশ, নথিপত্র, পেশাগত রেকর্ডের অনুলিপি।
810
আবেদন
বিজ্ঞপ্তিতে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলকে সমস্ত তথ্য আগামী ২ দিনের মথ্যে পাঠানোর আবেদন জানান হয়েছে। পাল্টা জবাব না আসা পর্যন্ত রাজ্য বার কাউন্সিলকে সমস্ত তথ্য ও রেকর্ড সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি জরুরি হিসেবে বিবেচনা করার আবেদনও জানান হয়েছে।
910
ফল প্রকাশের ১০ দিন পরে...
গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশ হয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনে ধরাসায়ী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেও হেরে যান তিনি। এই ঘটনার প্রায় ১০ দিন পরে নিজের কালীঘাটের বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন মমতা।
1010
সাংবাদিক বৈঠক
যদিও ভোটের ফলাফল বা রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠানও করেছিলেন মমতা। কিন্তু সেগুলি সবই তাঁর কালীঘাটের বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যেই।