
7th Pay Commission কার্যকর হওয়ার পর থেকে কর্মীদের কেবল মূল বেতনেই (Basic Pay) বৃদ্ধি ঘটেনি, এর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকারের ভাতাতেও (Allowances) এসেছে বিরাট পরিবর্তন। বিশেষ করে মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) যখন একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অন্যান্য অনেক ভাতা বেড়ে যায়।
বেতন বৃদ্ধির অঙ্কটা বুঝতে গেলে সবার আগে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor) নামক বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন। ৭ম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) যখন নতুন পে ম্যাট্রিক্স (Pay Matrix) তৈরি করে, তখন পুরনো মূল বেতনের সাথে ২.৫৭ (2.57) গুণ করে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করার নিয়ম চালু করা হয়।
বলা যেতে পারে, যদি কোনো কর্মচারীর আগের ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় বেসিক পে বা মূল বেতন হয় সাত হাজার টাকা, তবে ৭ম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) লাগু হওয়ার পর সেই একই কর্মচারীর বেসিক বেতন গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় আঠারো হাজার টাকায়। এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের (Fitment Factor) উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে যাবতীয় ভাতার (Allowances) হিসাব করা হয়ে থাকে।
যেকোনো সরকারি চাকুরিজীবীর কাছে মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) বা ডিএ (DA) হলো সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত একটি বিষয়। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের পকেটে যে টান পড়ে, তা থেকে কর্মচারীদের রক্ষা করতেই ৭ম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) বছরে দুবার এই ভাতা সংশোধন করার সুপারিশ করেছে।
All India Consumer Price Index বা এআইসিপিআই (AICPI) পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে জানুয়ারি এবং জুলাই মাসে এই ভাতা বাড়ানো হয়। ৭ম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) এর নিয়ম অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা যখন পঞ্চাশ শতাংশের (50%) গণ্ডি পার করে, তখন বেতনের সাথে যুক্ত অন্যান্য অনেক ভাতার পরিমাণও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পঁচিশ শতাংশ (25%) হারে বৃদ্ধি পায়।
সরকারি কর্মচারীরা যে শহরে কর্মরত থাকেন, সেই শহরের জীবনযাত্রার ব্যয়ের উপর ভিত্তি করে বাড়ি ভাড়া ভাতা (House Rent Allowance) বা এইচআরএ (HRA) দেওয়া হয়। ৭ম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) ভারতবর্ষের শহরগুলোকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছে, যেগুলি হলো এক্স (X), ওয়াই (Y) এবং জেড (Z) ক্যাটাগরির শহর।
এক্স ক্যাটাগরির (X Category) শহরগুলি হলো বড় মেট্রো শহর যেখানে খরচ সবচেয়ে বেশি, তাই সেখানে ভাতার পরিমাণও সর্বাধিক। প্রথমে এই ভাতা যথাক্রমে চব্বিশ শতাংশ (24%), ষোলো শতাংশ (16%) এবং আট শতাংশ (8%) ছিল।
যখন মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) পঞ্চাশ শতাংশে (50%) পৌঁছে যায়, তখন এই বাড়ি ভাড়া ভাতা (House Rent Allowance) স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন হয়ে এক্স, ওয়াই এবং জেড শহরের জন্য যথাক্রমে ত্রিশ শতাংশ (30%), কুড়ি শতাংশ (20%) এবং দশ শতাংশ (10%) হয়ে যায়। এর ফলে শহরবাসী কর্মচারীদের মাসিক বেতনে একটি বড়সড় লাফ দেখতে পাওয়া যায়।
মূল বেতনের উপর যেমন মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) হিসাব করা হয়, ঠিক তেমনি এই যাতায়াত ভাতার (Transport Allowance) উপরেও মহার্ঘ ভাতা প্রযোজ্য হয়। অর্থাৎ মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) যত বাড়বে, যাতায়াত ভাতা বাবদ হাতে পাওয়া টাকার পরিমাণও ঠিক ততটাই বৃদ্ধি পাবে।
কর্মচারীদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ৭ম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) শিক্ষা সহায়ক ভাতাতেও (Educational Allowance) জোর দিয়েছে। চিলড্রেন এডুকেশন অ্যালাউন্স (Children Education Allowance) বা সিইএ (CEA) নামক এই প্রকল্পের আওতায় কর্মচারীরা তাদের সর্বাধিক দুজন সন্তানের পড়াশোনার জন্য মাসিক একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পেয়ে থাকেন। এর পাশাপাশি যদি সন্তান হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে, তবে হস্টেল সাবসিডি (Hostel Subsidy) হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়।
এছাড়াও, ৭ম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) আরও বেশ কিছু ভাতা প্রদান করে থাকে। যারা নির্দিষ্ট পোশাক বা ইউনিফর্ম পরেন, তাদের জন্য রয়েছে ড্রেস অ্যালাউন্স (Dress Allowance)। এছাড়াও কঠিন পরিস্থিতিতে কাজ করার জন্য হার্ডশিপ অ্যালাউন্স (Hardship Allowance), ডেপুটেশনে যাওয়ার জন্য ডেপুটেশন অ্যালাউন্স (Deputation Allowance) এবং বিশেষ দায়িত্ব পালনের জন্য স্পেশাল ডিউটি অ্যালাউন্স (Special Duty Allowance) এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।