আজ সংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগরে পূণ্যস্নানে ঢল নেমেছে পূণ্যার্থীদের। রাজ্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পূণ্য স্নান করতে গঙ্গাসাগরে এসেছেন লাখ-লাখ মানুষ। কপিলমুনির মন্দিরেও পূণ্যার্থীদের ভিড়। লাখ লাখ পূণ্যার্থীদের সামলাতে প্রস্তুত রয়েছে প্রশাসনও। মনে করা হচ্ছে, আজ পুণ্যার্থীর সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যাবে। সৈকত সহ গোটা মন্দির চত্বরে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। যদিও পুণ্য স্নানের তিথি শুরু হচ্ছে দুপুর ১.১৯ থেকে। সব মিলিয়ে লাখো মানুষের সমাগমে সংক্রান্তিতে সাগর পরিণত হয়েছে মিলন তীর্থে।
25
সাগরে বাড়ছে স্নানের উত্তাপ
এদিকে রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, গঙ্গাসাগরে একদিনে ১৫ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটেছে। পূণ্যার্থীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬০ লক্ষ। পূণ্যার্থীদের সুবিধার্থে একাধিক জনসেবামূলক উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন। যে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তটস্থ প্রশাসন। চলছে মাইকিং এবং কড়া পুলিশি নজরদারি।
35
যাত্রী নিরাপত্তায় জোর প্রশাসনের
সূত্রের খবর, মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে সাগরে স্নান করতে আসা পূণ্যার্থীদের সুবিধার্থে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। সমস্ত যাত্রীবাহী বাস ও লঞ্চের জিপিএস ট্র্যাকার বসানো হয়েছে। সব বাসে ও লঞ্চে একজন করে পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে সাগর বন্ধু রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে পূণ্যার্থীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সমস্ত যানবাহনের গতির সীমা ৪০ কিঃমিঃ/প্রতি ঘণ্টা করা হয়েছে। হাওড়া, শিয়ালদহ, নামখানা থেকে অতিরিক্ত ট্রেন চালানো হচ্ছে। মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশ কর্মী।
কলকাতা বাবুঘাট থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত ১৯টি বাফার জোন তৈরি করা হয়েছে। সেগুলি থেকে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সেখানে শৌচালায়, পানীয় জল, চিকিৎসা, বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নজরদারিতে ২০টি ড্রোন, ১২০০ সিসিটিভি, ১০ স্যাটেলাইট ফোন, ১৫০টি ম্যানপ্যাক রয়েছে। গঙ্গাসাগরে আগত পূণ্যার্থীদের জন্য বিনামূল্যে সচিত্র সংশাপত্রের জন্য ১৩টি বন্ধন বুথ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত সাড়ে চার লক্ষ্য পূণ্যার্থী শংসাপত্র সংগ্ৰহ করেছেন।
55
দেশ-বিদেশের প্রচূ্র পূণ্যার্থী অংশ নিচ্ছেন সাগর মেলায়
১২-১৩ জানুয়ারি গঙ্গাসাগরে 'সাগর কথা' শীর্ষক আধ্যাত্মিক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে আধ্যাত্মিকতা ও শান্তির বাণী প্রচার করা হচ্ছে। দেশ-বিদেশের প্রচূ্র পূণ্যার্থী অংশ নিচ্ছেন। মেলা চত্ত্বর জুড়ে ৪৯টি জায়ান্ট স্ক্রিন ও ২০টি এলইডি ভ্যান লাগানো হয়েছে। ৭টি ওয়াইফাই বুথ, ১০টি স্যাটেলাইট ফোন, ৭৬০টি ম্যানপ্যাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২৫টি পকেটমারির ঘটনা ঘটেছে। তারমধ্যে ২০টি ক্ষেত্রে উদ্ধার করা গিয়েছে। অপরাধমূলক কাজের জন্য এখনও পর্যন্ত ১১২ জনকে গ্ৰেফতার করা হয়েছে।