আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় এবার পুরুলিয়ায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে বরফ। গত দুই থেকে তিন দিন ধরে পুরুলিয়ার ধানক্ষেত রাস্তা খড়ের গাদায় সাদা আস্তরণ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কেন এই দৃশ্য? বিজ্ঞানীরা বলেছেন, এটি তুষারপাত য় ভূমি তুষার।
আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় এবার পুরুলিয়ায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে বরফ। গত দুই থেকে তিন দিন ধরে পুরুলিয়ার ধানক্ষেত রাস্তা খড়ের গাদায় সাদা আস্তরণ দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কেন এই দৃশ্য? পর্যটক আর স্থানীয় বাসিন্দারা এই বিষয় নিয়ে উৎসাহিত হলেও বিজ্ঞানীরা এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
25
পুরুলিয়ার তাপমাত্রা
আলিপুর হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী পুরুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকার কথা। আলিপুর হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী পুরুলিয়ায় শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। তবে সকালের দিকে পূর্বাভাস অনুযায়ী কোনও কোনও জায়গায় ছিল হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা। আগামিকাল পুরুলিয়ার তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রি হতে পারে।
35
পুরুলিয়ায় বরফ দেখতে পাওয়া কারণ
বিজ্ঞানীদের কথায় পুরুলিয়ায় যা হচ্ছে তা তুষারপাত নয়, এটি গ্রাউন্ড ফ্রস্ট বা ভূমি তুহিন। ঘাস ভরা মাঠ, খড়ের গাদা,মাটিতে পড়ে থাকা বাঁশ, রাস্তায় দেখা যাচ্ছে বরফের সাদা আস্তরণ। এগুলিকেই ভূমি তুষার বলে। পুরুলিয়ায় ২০২৯ সালেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। বিজ্ঞানীদের কথায় ওই সাদা আস্তরণ বরফ বা তুষারপাত নয়। এগুলিকে বলা হয় তুষার জমেছে। সাধারণত তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির ওপরে তবে ৫ ডিগ্রির নিচে নামতে এই ঘটনা ঘটতে পারে।
ই মরশুমে বুধবার থেকে ওই ঘটনা ফের দেখা যাচ্ছে। চলতি মরশুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা একেবারে ৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হয়ে জোড়া রেকর্ড ভেঙেছে এই মালভূমির জেলা। দার্জিলিংকে যেন প্রায় ছুঁয়ে ফেলছে। গত বুধবার থেকে শনিবার চার দিন যখন পুরুলিয়া ৪-র ঘরে ছিল তখন দার্জিলিং-৩র ঘরে। রবিবার পুরুলিয়ার সর্বনিম্ন ছিল ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। দার্জিলিং-এ ৩.৬। পুরুলিয়ার কৃষি দফতরের পরিমাণ অনুযায়ী অযোধ্য়া পাহাড়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৪ ডিগ্রি।
55
ভূমি তুষার কী?
যখন ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায় বায়ুর জলীয় বাষ্প সরাসরি জমে গিয়ে ঘাস, খড় বা অন্যান্য পৃষ্ঠতলের উপর বরফের সূক্ষ্ম স্ফটিকের আস্তরণ তৈরি করে; এটি সাধারণ তুষারপাত নয়, বরং শিশির জমে বরফ হয়ে যাওয়ার মতো একটি ঘটনা, যা পুরুলিয়ার মতো জায়গায় শীতের ভোরে দেখা যায়। অর্থাৎ বায়ুমণ্ডলের জলীয় বাষ্প তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বরফকণায় রূপান্তরিত হয়। তুষারপাতের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে।