বাংলার মতো অসমেও সামনেই নির্বাচন। ১২৬টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে ৩ দফায়। ২৭ মার্চ থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ পর্ব। একদিকে রয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি-অগপ'র এনডিএ'র জোট। অন্যদিকে, তাদের ক্ষমতা থেকে সরাতে একসঙ্গে জোট বেঁধেছে কংগ্রেস, অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট  বা এআইইউডিএফ (AIUDF)-সহ ৭টি বিরোধী দল। ভোটের ঠিক আগে এশিয়ানেট নিউজের প্রতিনিধি ইয়াকুব-কে একান্ত সাক্ষাতকার দিলেন জোটের প্রধান মৌলানা বদরুদ্দিন আজমল।

প্রশ্ন: অসমে কংগ্রেসের সঙ্গে আপনাদের জোট কোনও বাধ্যবাধকতা থেকে আদর্শগত ভিত্তিতে?

বদরুদ্দিন আজমল - বাধ্যবাধকতার কারণেই এটা (জোট) ঘটেছে। এই বাধ্যবাধকতা হ'ল বিজেপিকে অসম থেকে দূর করা। এই সমস্যা এড়ানোর অন্য কোনও উপায় নেই। এর আগে, যখন আমরা পৃথকভাবে নির্বাচন লড়েছি, বিজেপি এবং অগপ সহজেই জিতেছে। তাই এবার আমরা কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেছি। রাহুল গান্ধী এবং অসমের কংগ্রেস ইনচার্জ জিতেন্দ্র সিং-এর সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, কংগ্রেস এবং এআইইউডিএফ একত্রিত না হলে বিজেপি এবং অগপ ফের সরকার গঠন করবে। বিজেপি এবং অগপ-কে ক্ষমতা থেকে সরাতেই আমরা জোট গঠন করেছি। এটা অসমের মানুষেরও প্রয়োজন।

প্রশ্ন: রাজ্য সরকারের মন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা আপনাকে অসমের শত্রু বলেছেন? এই বিষয়ে আপনি কি বলতে চান?

বদরুদ্দিন আজমল - হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মতো লোকেরা দায়িত্বজ্ঞানহীন, আমার মতে তাদের কিছু মানসিক সমস্যা আছে। নির্বাচনের পরে আমি তাকে আমার হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে দেব। (আসলে) তারা অসমের শত্রু। তবে আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।

প্রশ্ন: অসম নির্বাচনে জয় নিয়ে আপনি কতটা আত্মবিশ্বাসী?

বদরুদ্দিন আজমল - মহাজোটে সাতটি দল একত্রিত হয়েছে। আমাদের পার্টি সবচেয়ে বড়। এতে (জোটে), কংগ্রেস এবং বোড়োল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট, সিপিআই-এর মতো দলগুলি যখন একত্রিত হয়েছে, তখন আমাদের জয়ের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

প্রশ্ন: এই নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি কী কী?

বদরুদ্দিন আজমল - প্রথমত, মোদীজি ৫ বছরের জন্য যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সবগুলিই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তিনি একটিও প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেননি। তা চাকরিই হোক বা মুদ্রাস্ফীতিই হোক। মুদ্রাস্ফীতি সম্পর্কে কথা বলেই তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন, তবে এই ক্ষেত্রে কিছুই বদল হয়নি। তিনি বেসরকারীকরণ হ্রাস করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কিছুই করেননি। এছাড়াও, এনআরসি, সিএএ এবং কৃষকদের সমসযার মতো কিছু বড় সমস্যা রয়েছে। কৃষকদের বিষয়টা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। চা-বাগান শ্রমিকদের উপকারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। তবে তাও করেউঠতে পারেনি। ওরা শ্রমিকদের দিন প্রতি আড়াইশ টাকা মজুরি দিতে চায়, আর আমাদের জোট দিন প্রতি ৩৬৫ টাকা মজুরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সম্প্রতি প্রিয়ঙ্কা গান্ধীও একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

প্রশ্ন: এআইইউডিএফ সিএএ ইস্যুতে কংগ্রেসের প্রতি ক্ষুদ্ধ ছিল। জোট গড়ার পর কংগ্রেস কি এই বিষয়ে কোনও আশ্বাস দিয়েছে?

বদরুদ্দিন আজমল - শিলচরে মহিলা কংগ্রেসের সভাপতি সুস্মিতা দেব নাগরিকত্ব আইনের সমর্থনে কিছু বক্তব্য রেখেছিলেন। তবে (এই বিষয়ে) কংগ্রেস খুব স্পষ্ট। তারা নাগরিকত্ব আইনের বিরোধী, কংগ্রেস নেতৃত্বও এর বিরোধী।

প্রশ্ন: এআইইউডিএফ গত নির্বাচনে ৭৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ১৩টি আসন পেয়েছিল। এবার জোটে ৭টি দল রয়েছে, আপনারা ক'টি আসন চান?

বদরুদ্দিন আজমল - মানুষ তার পুরোনো ভুল থেকে শিক্ষা নেয়। গত নির্বাচনে আমরা ৭০টিরও বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। মাত্র কয়েকটি আসনই পেয়েছিলাম। এখন আমাদের ৩জন সাংসদ আছেন। এবার আমরা মাত্র ৩০টি আসন চাইছি, আর আমরা এই আসনগুলির মধ্যে ২৮টিতে জয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। জোটও এর জন্য প্রস্তুত।

প্রশ্ন: আসন ভাগাভাগির বিষয়ে আলোচনা কতদূর পৌঁছেছে?

বদরুদ্দিন আজমল - সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে দু'দিনের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমার শরীর এখন ভাল নেই। আমি শীঘ্রই গুয়াহাটি যাব এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই বিষয়টির মীমাংসা করব।

প্রশ্ন: জোটের সাধারণ ন্যূনতম কর্মসূচি কী?

বদরুদ্দিন আজমল -  আমাদের একটি সাধারণ ন্যূনতম কর্মসূচি তৈরি রয়েছে। তাড়াতাড়িই তা প্রকাশ করা হবে। গণমাধ্যমকেও জানানো হবে।

প্রশ্ন: জোটের মুখ্যমন্ত্রীর পদপ্রার্থী কে হবেন?

বদরুদ্দিন আজমল - এটা বিয়ের আগে সন্তানের লিঙ্গ জানার চেষ্টার মতো। কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত কখনও মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করেনি। কাজেই, (নির্বাচনের আগে) মুখ্যমন্ত্রীর মুখ কে হবে, তাই নিয়ে কোনও প্রশ্নই উঠবে না। জোট ক্ষমতায় এলে আমরা সকলে বসে মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে আলোচনা করব।

প্রশ্ন: সম্প্রতি অসম সরকার সরকারি মাদ্রাসা ও সংস্কৃত পাঠশালা বন্ধ করে দিয়েছে? এই বিষয়ে আপনার কী মত?

বদরুদ্দিন আজমল - এটি একটি জাতীয় ইস্যু। সারা দেশে মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আপনি আগে আমাকে বললেন, হিমন্তবিশ্ব শর্মা আমাকে শত্রু বলেছিলেন। এখন আপনি দেখতে পাচ্ছেন অসমের আসল শত্রু কে। ওরা জোর করে মাদ্রাসা ও সংস্কৃত স্কুল বন্ধ করে দেয়। আমরা আমাদের সংবিধানে বিশ্বাস করি, যা বলে প্রতিটি ধর্মের নিজস্ব রীতিনীতি শেখানো এবং অন্য ধর্মের সঙ্গে শান্তিতে বাস করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু হিমন্তবিশ্ব শর্মা এই আদর্শটি বুঝতে পারেন না।