সোমবার থেকে ভারতে শুরু হল দ্বিতীয় দফার টিকাকরণ। আর প্রথমদিনই টিকা নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন একেবারে ভোর বেলা, সকাল ৬ টা ২৫ মিনিট নাগাদ প্রধানমন্ত্রী টিকা নিতে পৌঁছে যান দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস অর্থাৎ এইমস (AIMS) হাসপাতালে। হাসিমুখেই টিকা নেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তবে তাঁর এই করোনার টিকা গ্রহণেরর মধ্যেও সুকৌশলে মিশে গিয়েছে ৫ রাজ্যের আসন্ন বিধাসভা নির্বাচনের প্রচার, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আরও পড়ুন - লাগা ভি দিয়া পাতা ভি নেহি চলা', কোভ্যাক্সিন নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া ছিল এটাই

আরও পড়ুন - 'আসুন কোভিড ফ্রি ভারতবর্ষ বানাই', টিকা নিয়ে করোনা মুক্ত ভারত গড়ার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আরও পড়ুন - করোনার টিকা নিলেন মোদী, টুইটে নিজেই জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বস্তত, এদিন প্রধানমন্ত্রীর পরণে ছিল সাদা হাফহাতা কুর্তা-পাজামা। আর, গলায় ঝুলতে দেখা গিয়েছে  অসমের ঐতিহ্যবাহী গামছা, অহমিয়ারা যাকে গর্ব করে গামোসা বলেন। আর, তাঁকে টিকার প্রথম ডোজটি দিলেন যে স্বাস্থ্যকর্মী, সেই পি নিবেদিতা পুদুচেরির বাসিন্দা। আর, সহায়কের ভূমিকায় ছিলেন যে দ্বিতীয় নার্স, যাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পোস্ট করা ছবিতে তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে, সেই রসাম্মা অনিল আবার কেরলের বাসিন্দা। ঘটনাচক্রে অসম, পুদুচেরি, কেরল - তিন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেই বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

স্বাস্থ্যকর্মী রসাম্মা অনিল এবং পি নিবেদিতার সঙ্গে টিকা নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী

কোভিড মহামারিকালীন সময়ে অবশ্য বারবারই অসমের গামোসা-কে মুখবন্ধনি হিসাবে ব্যববহার করতে দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে। মহামারির একেবারে সূচনা লগ্নে, যখন ভারতে মাস্ক উৎপাদন-এর ঘাটতি ছিল, সেই সময় সাধারণ মানুষ যাতে মাস্কের পরিবর্তে সামান্য গামছা দিয়েও নাক-মুখ ঢাকেন, সেই বার্তা দিতেই বারেবারে প্রধানমন্ত্রীকে গামোসা ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এদিন টিকা গ্রহণের সময়, একই সঙ্গে অসম, কেরল ও পুদুচেরির প্রতিনিধিত্ব - কাকতালীয় হতে পারে না। নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই সচেতন ভাবেই প্রধানমন্ত্রী মোদী অসমের গামছা, ও নির্বাচনমুখী দুই রাজ্যের স্বাস্থ্যকর্মীদের থেকে এই টিকা গ্রহণ করলেন বলে দাবি করছেন তাঁরা। ঠিক যে কারণে, দিন দুয়েক আগে জন্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী অসমের নায়ক বীর চিলিরায়-কে স্মরণ করেছিলেন।

তবে, বিধানসভা নির্বাচন হবে তামিলনাড়ু ও পশ্চিমবঙ্গেও। এর জন্য ভোটের আগে নরেন্দ্র মোদীর মুখে বাংলার তাবড় মনিষীদের বাণী, রবীন্দ্রনাথের কবিতা শোনা যাচ্ছে। তামিল কবিদের দু-এক লাইন-ও আউরেছেন তিনি। তবে টিকা গ্রহণের দিন, বাকি তিন রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও বাদ পড়ল বাংলা ও তামিলনাড়ু। কাজেই, প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ কতটা ভোটের কথা মাথায় রেখে সচেতন ভাবে নেওয়া - তাই নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই।

তবে, এদিন আরও  এক তাৎপর্যপূর্ণ হল, প্রধানমন্ত্রী মোদী কিন্তু অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিশিল্ড টিকা গ্রহণ করেননি। তিনি নিয়েছেন, একেবারে দেশিয় প্রযুক্তিতে তৈরি, আইসিএমআর-এর সহায়তায় হায়দরাবাদের ভারত বায়োটেকের তৈরি কোভ্যাক্সিনন টিকা। যার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা নিয়ে এখনও ভ্যাকসিন বিশেষজ্ঞ থেকে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন রয়েছে। সেই টিকা গ্রহণের মাধ্যমে একদিকে যেমন টিকাটি নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয়ের জবাব দিলেন মোদী, তেমনই আসন্ন ভোট প্রচারে ভারতের তৈরি নিজস্ব কোভিড টিকার কথা প্রধানমন্ত্রীর বয়ানে উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিধানসভা ভোটে মোদীর প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে টিকা-দেশপ্রেম, এমনটাই দাবি করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ঠিক যেমন, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে যেমন বালাকোট এয়ারস্ট্রাইকের প্রসঙ্গ তুলে দেশে সেনা-দেশপ্রেমের আবহ তৈরি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী ও তাঁর দল বিজেপি। এদিনই যেভাবে তাঁর মুখে দেশের চিকিত্সক এবং বিজ্ঞানীদের ভূয়সী প্রশংসা শোনা গিয়েছে, তার থেকে এমন ইঙ্গিতই মিলছে।