অভূতপূর্বভাবে, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে ৮ দফায়। এই নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ভোট-প্রচারের সুবিধা করে দিতেই এতগুলি দফায় নির্বাচন করা হচ্ছে। তবে, নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পিছনে ছিল পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, সিবিআই-এর একটি বিশদ মূল্যায়ন।

হিন্দুস্থান টাইমস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ভোটদানের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থির করার জন্য প্রথমে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছিল। এর জন্য সিবিআই, আধাসামরিক বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কমিশনের কর্তারা পাঁচ থেকে ছয়টি বৈঠক করেছে। সেইসঙ্গে জাতীয় অপরাধ নথিভুক্তকরণ ব্যুরো বা এনসিআরবি (NCRB) -র তথ্যও বিশ্লেষণ করেছে কমিশন।
 
গত ৯ জানুয়ারি সিবিআই-এর পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের কাছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর,  সিবিআই-এর পক্ষ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পরই এই রাজ্যে আট দফায় ভোট গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সেই মূল্যায়ন প্রতিবেদনে ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক মুহূর্তে রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা সম্পর্কে বিশদে জানানো হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মাঝামাঝি থেকে ২০২০ সালের শেষের মধ্যে বাংলায় অন্তত ১,৫০০টি রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যু হয়েছে ১১৮ জনের। আর সামগ্রিকভাবে, ২০১৯ সালের ভোটগ্রহণের তারিখগুলির আশপাশের  সময়ে মোট ৬৯৩টি নির্বাচন সম্পর্কিত হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় নির্বাচনী হিংসায় ২৩ জন নিহত হয়েছিলেন। নির্বাচনের দিন আহত হয়েছিলেন ২৬৬ জন।