জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রয়োগসূত্রগুলি কেবল সম্ভাবনা নির্দেশ করে, কিন্তু কোন নিশ্চিত ঘটনার কথা বলে না। তার কারণ এই যে জ্যোতিষীগণ মনে করেন মানুষ সচেতন কর্মের সাহায্যে অথবা ঈশ্বরের আশীর্বাদে অথবা এই দুইয়ের মিশ্রিতফলে ভাগ্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবর্তন করতে পারে। এই নিশ্চয়তার তারতম্যের কারণে অনেক বিজ্ঞানী জ্যোতিষশাস্ত্রকে মান্যতা দেন না। একদিকে যেমন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ইয়োহানেস কেপলার একই সঙ্গে জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং জ্যোতিষী ছিলেন, আবার অন্যদিকে বিজ্ঞানীদের অনেকে জ্যোতিষশাস্ত্রকে ভ্রান্ত প্রতিপন্ন করতে চেয়েছেন। 

আরও পড়ুন- ফাল্গুন অমাবস্যায় এই কাজগুলি দেয় অবিশ্বাস্য ফল

জ্যোতিষ্ক বিষয়ক তথ্য, সূত্রাবলী ও ব্যবহারিক প্রয়োগসমূহের সামগ্রিক জ্ঞান জ্যোতিষশাস্ত্র নামে পরিচিত। এই শাস্ত্রের উৎপত্তিকালে জ্যোতিষশাস্ত্র এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান এক এবং অভিন্ন ছিল। পরবর্তীকালে জ্যোতিষশাস্ত্র জ্যোতিষ্কগুলির গতি এবং অবস্থানের ভিত্তিতে, প্রাকৃতিক এবং শারীরিক লক্ষণ অথবা দুয়ের সমন্বয়ে ব্যক্তি, সমষ্টি বা দেশের ভবিষ্যৎ নিরুপণের প্রায়োগিক দিকটি নিয়ে অভিজ্ঞতাভিত্তিক জ্ঞানের সংগ্রহ হিসেবে বিস্তার লাভ করে। তবে জানলে অবাক হবেন প্রাচীন শাস্ত্র মতে কোন দিন কোন খাবার খাওয়া উচিত এই বিষয়েও বিস্তারিত ব্যখা রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই বিষয়গুলি-

আরও পড়ুন- কোন গ্রহের প্রভাবে কেমন চাকরি হতে পারে আপনার, জেনে নিন

শাস্ত্র মতে তৃতীয়া তিথিতে পটল খেলে শত্রু সংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। 
শাস্ত্র মতে চতুর্থীতে মূলো খেলে ধননাশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 
শাস্ত্র মতে পঞ্চমীতে বেল খেলে কলঙ্ক বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। 
শাস্ত্র মতে ষষ্ঠীতে নিমপাতা খেলে সন্তান ভাগ্য খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 
শাস্ত্র মতে সপ্তমীতে তাল খেলে স্বাস্থ্যহানি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
শাস্ত্র মতে অষ্টমীতে নারকেল খেলে মূর্খতা প্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকে। 
শাস্ত্র মতে নবমীতে পান্তা ভাত খেলে সর্দি-কাশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 
শাস্ত্র মতে দশমীতে কলমি শাক খেলে গোহত্যা  সমতূল্য পাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 
শাস্ত্র মতে একাদশীতে শিম খেলে পাপ জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে। 
শাস্ত্র মতে প্রতিপদ তিথিতে চালকুমড়ো খেলে অর্থহানির সম্ভাবনা থাকে।

আরও পড়ুন- ফাল্গুন মাস কেমন প্রভাব ফেলবে কর্কট রাশির উপর, দেখে নিন

শাস্ত্র মতে খাদ্য গ্রহণের বিষয়ে আরও বিস্তারিত কিছু নিয়ম রয়েছে। যা সংক্ষেপে দেওয়া হল। যেমন- সূর্য উদয়ের আগে এবং গোধূলি লগ্নে খাদ্য গ্রহণ করা উচিৎ নয়। যানবাহনে, শ্মশানে,চলতে চলতে খাদ্য গ্রহন করা উচিত নয়। জল, ক্ষীর, দই, দুধ, মধু, ঘি, ছাতু ও শাক জাতীয় খাদ্য কখনও নিজের পাতের থেকে অপরকে দেওয়া উচিৎ নয়। খাওয়ার পাত ছেড়ে ওঠার আগে পাতে সামান্য জলের ছিটা দিয়ে উঠুন।