বাস্তু শাস্ত্র মতে ঘড়ি শুধু সময় দেখায় না, এটা ঘরের এনার্জি কন্ট্রোল করে। দক্ষিণ দিক হল যমের দিক। এদিকে ঘড়ি রাখলে স্থবিরতা, আর্থিক ক্ষতি, অসুস্থতা আসে। কারণ দক্ষিণ দিক স্থিতির প্রতীক, আর ঘড়ি হল গতির। দুটো উল্টো এনার্জি ক্ল্যাশ করে। বাস্তু বলছে, ঘড়ি রাখার বেস্ট দিক হল উত্তর আর পূর্ব। 

সকাল থেকে রাত অবধি খাটছেন, তাও টাকা থাকছে না? ঘরে অশান্তি, শরীর খারাপ লেগেই আছে? বাস্তু বলছে, দোষটা আপনার পরিশ্রমের নয়। আপনার দেওয়ালের ঘড়ির। বিশেষ করে সেটা যদি দক্ষিণ দেওয়ালে থাকে। ঘড়ির একটা ভুল দিকই আপনার ভাগ্যের দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দক্ষিণে ঘড়ি = যমের দৃষ্টি? ৩টা বাস্তু দোষ :

বাস্তুতে প্রতিটা দিকের একটা এনার্জি আছে। দক্ষিণ দিকের অধিপতি যম। এটা স্থিতি, শেষ আর স্থগিরতার দিক।

১. আর্থিক স্থগিরতা: ঘড়ি হল গতির প্রতীক। সময় চলমান। দক্ষিণের স্থবির এনার্জির সাথে ঘড়ির চঞ্চল এনার্জি ক্ল্যাশ করে। ফলে ইনকাম আসলেও থাকবে6 না। টাকা খরচের রাস্তা খুলে যাবে। প্রমোশন আটকে যাবে।

২. স্বাস্থ্যহানি: দক্ষিণ দেওয়ালে ঘড়ি থাকলে বাড়ির কর্তা বা বয়স্ক সদস্যের শরীর খারাপ হয়। যমের দৃষ্টি সরাসরি স্বাস্থ্যের উপর পড়ে। মাথা ব্যথা, ইনসোমনিয়া, স্ট্রেস বাড়ে।

৩. নেগেটিভ এনার্জি: দক্ষিণ দিক থেকে নেগেটিভ এনার্জি আসে। ঘড়ি সেই এনার্জিকে সারা ঘরে ছড়িয়ে দেয়। ফলে পরিবারে ঝগড়া, ভুল বোঝাবুঝি, কাজে বাধা আসে।

তাহলে ঘড়ি রাখবেন কোথায়? ভাগ্য খোলার ২টো দিক :

বাস্তু মতে ঘড়ি রাখার জন্য শুভ দিক দুটো।

১. উত্তর দিক - টাকা ও কেরিয়ারের জন্য:

- উত্তর দিকের অধিপতি কুবের। ইনি ধন-সম্পদের দেবতা।

- এই দেওয়ালে ঘড়ি রাখলে নতুন আয়ের রাস্তা খোলে। আটকে থাকা টাকা ফেরত আসে। বিজনেস বাড়ে।

- চাকরিজীবীদের প্রমোশন, স্যালারি হাইকের যোগ তৈরি হয়।

- নিয়ম: ঘড়ির মুখ যেন দক্ষিণ দিকে না থাকে। উত্তর দেওয়ালে রাখলে আপনি ঘড়ি দেখবেন দক্ষিণে মুখ করে, সেটা ঠিক আছে।

২. পূর্ব দিক - স্বাস্থ্য ও সম্মানের জন্য:

- পূর্ব দিকের অধিপতি সূর্য দেব। ইনি স্বাস্থ্য, শক্তি আর সামাজিক প্রতিপত্তির কারক।

- এই দেওয়ালে ঘড়ি রাখলে শরীর ভালো থাকে। রোগ-বালাই কমে।

- পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বন্ডিং ভালো হয়। সমাজে নাম-ডাক বাড়ে।

- ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই দিক বেস্ট। পড়ায় মন বসে, রেজাল্ট ভালো হয়।

এই ৪টে ঘড়ির ভুল আজই শোধরান, নইলে বাস্তু দোষ

১. বন্ধ ঘড়ি রাখবেন না: বন্ধ ঘড়ি মানে থেমে থাকা জীবন। উন্নতি আটকে যায়। খারাপ সময় শেষ হয় না। হয় সারান, নয়তো ফেলে দিন।

২. বেডরুমে মাথার কাছে নয়: ঘুমের মধ্যে ঘড়ির টিকটিক শব্দ মস্তিষ্ককে অস্থির করে। বাস্তু মতে এতে দাম্পত্য কলহ হয়। ঘড়ি মাথা থেকে দূরে রাখুন।

৩. দরজার ঠিক উপরে নয়: মেইন দরজার উপরে ঘড়ি রাখলে পজিটিভ এনার্জি ঘরে ঢুকতে বাধা পায়। অতিথি আসলেও সুখবর আনে না।

৪. ভাঙা কাঁচ বা উল্টো কাঁটার ঘড়ি: ভাঙা কাঁচ নেগেটিভিটি ডাকে। আর দেওয়ালে উল্টো ঘড়ি, মানে কাঁটা উল্টো ঘুরছে এমন শোপিস রাখলে জীবন ব্যাকগিয়ারে চলে।

কোন রঙের ঘড়ি কোন দিকে? বোনাস বাস্তু টিপস :

- উত্তর দেওয়াল: হালকা নীল, ধূসর, সাদা বা সিলভার রঙের ফ্রেমের ঘড়ি রাখুন। ধাতুর ফ্রেম হলে আরও ভালো।

- পূর্ব দেওয়াল: কাঠের ফ্রেম, হালকা সবুজ, বাদামি রঙের ঘড়ি শুভ। গোল বা আয়তাকার শেপ বেস্ট।

- দক্ষিণ দেওয়াল: একান্তই জায়গা না থাকলে লাল বা কমলা রঙের ছোট ঘড়ি রাখতে পারেন, তাও পেন্ডুলাম ঘড়ি নয়। তবে না রাখাই ভালো।

বাড়ি বানাতে লাখ টাকা খরচ করছেন, অথচ ৫০০ টাকার ঘড়ির ভুলে বাস্তু দোষ ডেকে আনছেন। আজই নিজের ঘরের ঘড়িটা চেক করুন। দক্ষিণে থাকলে উত্তর বা পূর্বে সরিয়ে দিন। ২১ দিনের মধ্যে নিজেই তফাৎ বুঝবেন। এই ভিডিওটা পরিবারের সাথে শেয়ার করুন। আপনার ঘড়ি কোন দিকে আছে তাহলে?